আব্বা গো... ও আব্বা...। উহ্ উহ্....। ভাল্লাগে না গো বাবা...।
জ্বর আর গা হাত-পা ব্যথা নিয়ে আমার এমন ক্যা- ক্যু মার্কা বিড়বিড়ানি শুনে আমার মেয়ে পরম মমতায় নাকি বিরক্ত হয়ে জানিনা তবে অবাক হয়ে আমার কাছে এসে বলল - ' তোমার বাবা তো বিদেশে থাকে মাম্মিন। 'জান' তো তুমি ডাকলে শুনবে না।(একমাত্র আদরেের নাতনী হিসাবে আহ্লাদের চোটে আমার আব্বু তার নাতনীকে 'জান' বলে ডাকেন। আর আমার মেয়েও নানাজানকে শর্টকাটে 'জান' বলে ডাকে)। আমার বাবাকে ডাকো...'।
মেয়েটাকে কিভাবে বোঝাই, নিজের বাবারে ডাকতে যেই শান্তি,অন্য কাউকে ডাকলে কি আর সেই শান্তি লাগে!
শরীর খারাপ হলে সবাই কমবেশি ঘ্যান-ঘ্যান, প্যান-প্যান করে। শুনতে সত্যিকারেই বিরক্ত লাগে। শুধু আমার আব্বুকেই সবসময় দেখি শরীর খারাপ হলে গলা ছেড়ে দুই লাইন গান গায় -
' এই জ্বালা আর প্রাণে সহে না.... রে....। এই জ্বালা আর প্রাণে সহে না...।'
আর বিছানায় শুয়ে চিৎকার করে আমাদের সবাইকে কাছে ডাকে। ' কই গো আমার ছাওয়াল-পাল রা। আহারে, কত কষ্ট করে মানুষ করসি, একটু আসো না রে বাবা-রা। আমার পাশে একটু শুয়ে থাকো।' আব্বুর এই ডাক শুনলে সাথে সাথে আমরা ভাই-বোনরা হাসতে হাসতে আব্বুর পাশে শুয়ে পড়ি। এরপর শুরু হয় আম্মুর পালা। আব্বু আবার গলা ছেড়ে ডাকে -
' কই গো, আমার বিবি কই? একটু এদিকে আসো না মিথীর আম্মা।'
এরপর আবার গান করে - ' এই জ্বালা আর প্রাণে সহে না রে...'
আম্মু কাছে এসে মিষ্টি হেসে আব্বুর কপালে হাত রাখে। এরপর কি খেতে চায় জেনে নিয়েই রান্নাঘরে চলে যায়।
***(দাদী বেঁচে থাকতে শুরু হত দাদীর পালা। আমার আব্বু ডাকতো, 'ও মা, মা! একটু কাছে বসেন না।
দাদী আব্বুর কাছে চলে আসতেই দাদীর কোলে মাথা রেখে আব্বু শুয়ে থাকত আর দাদী তার বুড়ো ছেলের আধ টাকলা মাথায় হাত বুলিয়ে দিত)।
এরপর শুরু ফোন করা।
প্রথম ফোনটা অবশ্যই সেজ ফুফুর কাছে। প্রতিবার এই একই কথা - ' ওরে বু রে, ভাইটার যে এত শরীর খারাপ একটু তো দেখতেও আসলা না। শোন, কামাল ভাই কে নিয়ে চলে আসো। তোমার ভাবী মজার মজার রান্না করবে আজ।'
এমন করে একসময় দেখা যায় যে আমরা সবাই একখাটে চিৎ-পটাং হয়ে এই ওয়ার্ল্ডের বেস্ট আব্বুকে ঘিরে শুয়ে থাকি। মেহমান, গান, হৈ-চৈ, আর আড্ডা মিলেমিশে অসুস্হ ঘরের পরিবেশটা এক্কেবারে আনন্দে একাকার হয়ে যায়।
ইস্! এইসব মনে করতেও কত শান্তি। আলহামদুলিল্লাহ্।
আমার এই বুড়ি কালেও আমার যে কোনো অসুখে আমার আব্বু ফোন করলেই বলবে, - ' আহারে, আমার বেটুনটার শরীর খারাপ রে,
কথা বইলো না বাবা, চুপ করে শুয়ে থাকো। ওলই ওলই ওলই...( এই ওলই ওলই টা হল বাচ্চাদের জন্য একটা ঘুম পাড়ানি ছড়া, যেটা বলে আমার দাদী সবসময় বাচ্চাদের আদর করে ঘুম পাড়াতো)।
ওহ্! আরেকটা গান আমার আব্বু খুব সুন্দর করে গলা ছেড়ে গায় - (যখন আমরা তাকে শপিং এ নিয়ে টর্চার করি)
' বিষ কিনতাম,বিষ খাইতাম তো ভাই,
বিষ কিনতাম তো, পয়সা নাই...'।
বি.দ্র: এটা আমার চেহারাবই থেকে কপি পেস্ট করা। যেহেতু আমি আনন্দময় কিছু লিখতে পারিনা তাই এটা এখানে পোস্ট করে মন খারাপের লেখাগুলোর কুফা কাটানোর চেষ্টা করা হল। আর দ্বিতীয় কারণ হল, এই দুই দিন ব্লগে কপি পেস্ট করা নিয়ে যত কমপ্লেইন হয়েছে তার প্রেক্ষিতে আমিওও দিলাম এই কপি পেস্ট পোস্ট।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


