somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাঁঝবেলাতে স্মৃতির ফানুশ

১৪ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পালা করে হাতছানিতে শৈশব আমায় আজও ডাকে।
সবুজ শাড়ির নীল আঁচলে তখন আমি ক্লান্তির ঘাম মুছি।
দু'চোখে কাপড় বেঁধে শৈশব তখন ফিরে আসে কানামাছির ছলে।
একঝাঁক বন্ধু আমাকে ঘিরে আলতো ছুঁয়ে কোরাস করে -
'কানামাছি ভোঁ ভোঁ, যাকে পাবি তাকে ছোঁ'।
মনের ভুলে পেছন ফিরে হাতড়ে হাতড়ে আমিও তাদের খুঁজি।
চোখ থেকে আঁচল সরে গেলে,বুকে বাজে এক অস্ফুট আর্তনাদ -
কোথায় আছিস তোরা? আয় না!
সবাই মিলে একসাথে আবার ছুঁয়ে দেখি শৈশবটা!

ঘুমভাঙা দিনের শুরুতে
দুই ফিতার স্যান্ডেল পায়ে জড়ানোর সময়
ঝকঝকে টাইলসে মনের ভুলে আজো খুঁজি
নয়ঘরা ছয়ঘরার এক্কা দোক্কা খেলার মসৃন ইটচারা।
তবলার সুরে নৃত্যরত মৌমাছি সেদিন সারাটাক্ষণ জুড়ে
'কুতকুত', 'কুতকুত', বোল তোলে আমার শূন্য মনের দেয়ালে।

দুপুরবেলার ঘুমপালানো চোখটি বুজে
দস্যিমনে আজও হারাই -
চড়ুইভাতি, পুতুল বিয়ে, রান্নাবাটির ঘরকন্যার খেলায়।
কোথায় সেসব কুড়িয়ে আনা রঙিন লেইসের শাড়ি?
ভাঙা গয়না, জুতার বাক্সে সাজানো স্বপ্নবাড়ি!
এলোকেশী, শাড়ি পড়া সেই হাতে বানানো কাপড়ের পুতুলটাকে
প্রিয় বন্ধুর পুতুল বরের সাথে বিয়ে দেবার ব্যথাটা
ঠিক তেমনভাবেই দুমড়ে ওঠে আজও।

বিকেল বেলার জানলার কাঁচ গলে
দৃষ্টি যেন থমকে দাঁড়ায় পাশের বাড়ির উঠোনে।
নিজেকে আবার ফিরে পাই লাল জামা,
সাদা ফিতার দূরন্ত কলাবেনীর দোলে।
'ইচিং বিচিং চিচিং চা, প্রজাপতি উড়ে যা'!
হাতের কাপে ছলকে ওঠা গরম কফির উষ্ণতায়
সম্বিৎ ফিরে পেয়ে আনমনে হাসি।
শুনতে পাই গীর্জার প্রার্থনা সঙ্গীতের সুরে
সমবেত স্বরের আরেকটি সুমধুর সুর-
'ওপেনটি বায়োস্কোপ, নাইন টেন টেইস্কোপ...।'

শেষ বিকেলে ছাদের নির্জনকোণে
গোধূলীর আলো বিধৌত বিমর্ষ আমাকে,
দু'চোখ আলতো চেপে মায়াবী সুরে শৈশব ডাকে
ফুলটোকা খেলার জমাট আসরে।
'আয়রে আমার গো - লা- প'।
দীর্ঘশ্বাস বুকে চেপে নিরবে দু'চোখ রাখি দিগন্তরেখায়।
গহীনে ব্যথার ফুলটোকা?
নাকি সময়ের নূ্্যজতা; আমি জানি না!
শূন্যতায় দৃষ্টি মেলে রঙিন স্মৃতির ফানুশ উড়াই সাঁঝবেলার ওই মায়ায়।


ছবি কৃতজ্ঞতা : ইন্টারনেট।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ১০:০৬
২৬টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাতার পাখা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:২৮

পাতার পাখা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

নারকেল গাছের পাতা ছিঁড়ে
পাতার শলা আলাদা করে
দুই পাতা সমান করে কেটে
বানাতাম চার ডানার একটি পাখা
খেজুর গাছের কাঁটা ছিঁড়ে
সে কাঁটা পাখার মাঝখান বরাবর গেঁথে
দখিনা বাতাসের মুখামুখি ধরলেই
শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে মিছিল কেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২১


ঢাকার রাজপথে আজ এক নতুন কুশীলবের আবির্ভাব ঘটলো। নাম তার ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’। এই নামের কোনো রাজনৈতিক অস্তিত্বের কথা দেশের আমজনতা না জানলেও, হঠাৎ এক রাতে তারা ‘অবৈধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যদি কামের কাম না হয়, সংখ্যা দেখলে বিগাড় ওঠে

লিখেছেন অপলক , ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২২



বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল বর্তমানে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট। এতেই রুগিরা সেবা পায়না, অপরিচ্ছন্ন, লোকবল নেই, যন্ত্রাংশ নষ্ট, ওষূধ নেই, ১৫০০ শষ্যাবিশিষ্ট করে লাভ কি? সেবা নিশ্চিত হবে না...

এখন ডাক্তাররা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×