ছোটবেলায় যখন একটি শিশু একটু একটু বুঝতে শুরু করে , আমরা তখন ই তার মনে ঢুকিয়ে দেই এক অদৃশ্য অলীক ভয় । আল্লাহ- ভগবান - গড -ব ব্লা ব্লা ... বিভিন্ন নামে তার মনে এক অদেখা , অবাস্তব ,নিজেদের সৃষ্টি এক অলীক শক্তির ভয় ধরিয়ে দেই । আজীবন ধরে মানুষ সেই ভয় বয়ে নিয়ে বেড়ায় ।
আমার জন্ম হয়েছিলো একজন মুসলমান পিতার ঘরে । বুলি শেখার সাথে সাথেই বাবা ছোট ছোট ৭-৮টা সূরা মুখস্ত করিয়ে ফেলান আমাকে । এমনকি তখন ও জানি না যে এগুলি কী ! বা কী কাজে লাগে । একটু বড় হলে শুনলাম এগুলো নাকী মানুষের রচনা নয়
নামাযের মাঝে আমি কী পড়ছি ??? উত্তরটা হলঃ আরব জাতীর ইতিহাস । ব্যাপারটা ক্যামন হাস্যকর শোনায় যখন আমি নামায নামক প্রার্থনায় দাঁড়িয়ে বলছি 'আরব জাতীর ইতিহাস - কোন গোত্রের কয়টী ভেড়া ছিলো , কারা কত্ত লম্বা আর শক্তীশালী ছিলো , কুরাইশ রা বানিজ্য করতে কখন বের হত , আবার কাবাঘর রক্ষার ক্ষেত্রে বিশাল সৈন্য ও হাতি বাহিনীর বিরুদ্ধে হাস্যকর পিচ্চি পাখির অবদান
আমি আরো শিউরে উঠলাম সুরা লাহাব পড়ে যখন দেখলাম-- আল্লাহ তায়ালা আবু লাহাব কে বশে আনতে না পেরে সুরা লাহাব নাযীল করে অভিশাপ দিচ্ছে
আমার প্রশ্ন হল আল্লাহ তো সর্ব কিছুর স্রষ্টা ,আমরা সবাই তারই বান্দা ,তিনি তো তার বান্দা দের ভালবাসেন । তাহলে তিনি লাহাব কে অভিশাপ দিচ্ছেন ক্যান ? যদি অভিশাপ দেয়ার কারন শুধুমাত্র তার কাফির থাকা ঈ হয় তাহলে বলবো আল্লাহর সর্বশক্তিমান নামের সার্থকতা কোথায় ?যেহেতু তিনি ই তাকে কাফির বানিয়েছেন। তিনি যদি সবাইকে মুসলমান বানাবেন ,তাহলে তাদের কে জন্ম থেকেই মেন্টালি মুসলমান প্রিপারেশন দিয়া পাঠাইতেন । যেহেতু পাঠান নাই ,তাহলে বুঝতে হবে তার ইচ্ছা নাই সবাইকে মুমিন মুসলমান বানাবার ; তবে মুসলিম সমাজ ক্যানো সবাইকে ইসলামের দাওয়াত দিয়া বৃথ জোড়াজুড়ি করে ।
আবার , শুনে থাকি আল্লাহ নাকী ৭০ বার নেক নজর না দিলে বান্দা মসজিদে জামাতে শামীল হয় না ,তাহলে আমার নামায না পড়ার পেছনে মুলত আল্লাহ কে আমি দায়ী করছি । তবে আযান হলেই পাড়ার মোল্লাদের ক্যান আমাকে নিয়ে এত্ত টানাটানি ।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




