somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু কষ্ট থাকে অর্থহীন (অনুগল্প)

০২ রা জুন, ২০১৩ দুপুর ১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"বৌ, ঘরে যাইয়া রাহুলের লগে আড্ডা দিবা না। ঐ হারামজাদায় তোমার ধারে কাছে আইলে অরে স্যান্ডেল দিয়া পিডাইবা। আমাগো পোলাপানের মুখের দিকে তাকাইয়া তোমার কি একটুও মায়া লাগে না!"
"এইসব কি কইতাছেন আপনে। আপনার মাতা পুরাই খারাপ।" রাগান্বিত চোখে স্ত্রী রাহেলার এ কথাগুলো শুনে স্বামী আনোয়ার থেমে যায়।

প্রতি দিনের মত আজও আনোয়ারকে রাস্তার পাশে থালা নিয়ে বসিয়ে দিয়ে যায় রাহেলা। আনোয়ারের এক পা হাঁটুর উপর পর্যন্ত কাটা। হাতের ডানায় লাঠিতে ভর করে একটি পা দিয়ে হাঁটতে হয় তাকে। পেশা ভিক্ষে হলেও রোজগার ভাল। তাদের কথাবার্তা, চাল-চলনে আর্থিক স্বাচ্ছন্দের ভাব বিদ্যমান। ভিক্ষের জন্য বসিয়ে দিয়ে রাহেলা যেতে উদ্দত হলে আনোয়ার তার হাত দু'টো ধরে বলে-
"দ্যাহো, তোমারে আমি কম ভাল পাই কও। তোমার কিসের অভাব। হেরপরও হারা দিন ঐ রাহুলের লগে তোমার হাসি-ঠাট্টা, ইয়ার্কি-মশকরা দেখলে আমার শরীলে আগুন ধইরা যায়। মন চায় ঐ হারামজাদারে কোপাইয়া টুকরা টুকরা কইরা হালাই।"
"হুঁ, চুপ করেন। বেশী কতা ভাল না।" কথাগুলো বলে আর মুহূর্ত অপেক্ষা করলোনা রাহেলা। মনে হল স্বামীর কথাগুলো তার কাছে অসহ্য লাগছিল।

আনোয়ারের সম্মূখে এখন ধূসর পৃথিবী; রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভিক্ষে করা এখন যেন নিস্ফল মনে হয় তার কাছে। মাঝে মাঝে মন চায় সবকিছু ফেলে অন্য কোথাও চলে যেতে। কিন্তু রাহেলার মত এত সুন্দর করে কে তাকে সেবা করবে। সেই মায়াবী মুখ আর সন্তানদের কথা কেবলই নাড়া দেয় মনকে। আবার ভাবে বিধাতা যেন এই কষ্ট সহ্য করার জন্যই তাকে প্রতিবন্ধী বানিয়ে রেখেছেন।

রাহেলার ঠোঁটে গাঢ় লাল রঙ দেখলে আনোয়ারের বুক আঁৎকে ওঠে। রঙিন শাড়িতে যখন তাকে সুন্দর লাগে তখন অন্য কোন ভাবনায় ডুবে থাকে আনোয়ার। হয়ত সে ভাবনার যথেষ্ট কারণ আছে। ইদানীং স্বামীর অগোচরে রাহেলা রাতের বেলা বিছানা ছেড়ে বাইরে চলে যায়; হয়ত কোন ধ্বংসের নেশায় মেতেছে সে। কখনও রাতেই ফিরে আসে আবার কখনও রাত শেষে। এসব দৃশ্য দেখে দেখে আনোয়ারের ভেতরে চাপা কষ্ট, প্রতিশোধের আগুন জ্বলে ওঠে। মাথায় একটা খুনের নেশা চেপে বসে। রাহেলাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে ফেলার নেশা। কিন্তু বার বার মন স্থীর করে বার বার ফিরে আসে। (কিছু কিছু লোক থাকে যারা কখনোই প্রতিশোধ নিতে জানে না।) তারপর দিন যায়- প্রতিশোধের ঘোর কেটে যায় তার-তবুও একটা দগদগে ক্ষত থেকে যায় ভেতরে।

অন্যদিকে রাহেলাকে কখনও কখনও সকলের অগোচরে কাঁদতে দেখা যায়; সেটা হয়ত নিঃশব্দ কান্না, অর্থহীন অথবা অন্য কোন কষ্টের জল থাকে তার চোখে।
(সমাপ্ত)
জুন/২০১৩
----- ০০০ -----
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০১৩ দুপুর ১:২৯
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতের প্রলোভন!

লিখেছেন শাহাবুিদ্দন শুভ, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ওয়েবসাইটের প্রচার দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রথম আলোর আদলে তৈরি একটি ডিজাইন ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এমনকি তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানের ফটোকার্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×