যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ২০১৪ সালের ২৮শে অগাস্ট এক ছাত্রী নিগৃহিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক তীব্র আন্দোলন শুরু হয়৷ শিক্ষার্থীরা দোষীদের বিচার দাবিতে উপাচার্যের ভবন ঘেরাও করলে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ব্লাক আউট করে (বিদ্যুৎ বন্ধ করে) হামলা চালায় পুলিশ ও শাসক দলের কর্মীরা। শিক্ষার্থীদের মিছিলে পুলিশ চড়াও হওয়ার পর সেই আন্দোলন আরও বড় আকার নেয়।
কোনও রাজনৈতিক দল দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া সেই ছাত্র আন্দলোন প্রভাবিত হয় অর্নবের "হোক কলরব" সুরে! সোস্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য অনলাইল কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে সেই গণ-অভ্যুত্থান অবিস্মরণীয়!
'হোক কলরব'!
হ্যাশট্যাগটি খুব দ্রুতই ট্রেন্ডিং হয়ে ওঠে। কলকাতাসহ সারা রাজ্যে সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে! বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশ নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করে ৪০ জনকে জখম ও ৩৭ জনকে গ্রেফতার করে। আন্দোলনে ধীরে ধীরে যোগ দেয় দিল্লী, মুম্বাই, হায়দ্রাবাদ, বেঙ্গালুরুসহ আরো বেশ কিছু জায়গার শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশ থেকেও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানানো হয় সেই #হোক_কলরব ট্রেন্ডে অংশ নিয়ে!
ছাত্রদের বাইরেও সকল বয়সের মানুষ যোগ দেয় আন্দোলনে। সারা কলকাতা উত্তাল হয়ে ওঠে। কলরবের সেই মহা মিছিলে বৃষ্টির মাঝেই নাকি লাখের মত লোক যোগ দিয়েছিলেন।
গোটা সেই আন্দোলনের সময় যে মানুষটির গান অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলো সবাইকে, তিনি অর্নব, শায়ান চৌধুরী অর্নব!
অর্নব এ প্রজন্মের অনেকের কাছে অনেকটা এমনই। যিনি আমাদের মাঝে কলরব বইয়ে দেন; ভালোবাসায় কলরব, প্রেমে কলরব, বিরহে কলরব, রোমন্থনে কলরব, কালের সেতুবন্ধনে কলরব, প্রবাহের পুনর্মিলনে কলরব, নতুন প্রাণের সঞ্জীবনী কলরব, অযান্ত্রিক এক কলরব। এই নশ্বর জীবনে শুধু একজন "তোমাকেই চাই" স্লোগানের কলরব!
আমাদের বেড়ে উঠা জুড়ে অর্নবের গান শুধুমাত্র কানের শ্রুতিমধুরতা ছড়ায় নি, বরং জীবন ঘনিষ্ঠ আত্মা কে ছুঁয়ে গেছে, অর্নবের কথা গুলো এতোই জীবন ঘনিষ্ঠ হতো যে যাতে আমরা খুব সহজেই নিজেকে খুঁজে পেয়েছি।
প্রিয় গায়ক, প্রিয় মানুষ জন্মদিনের শুভেচ্ছা নিয়েন! জন্মদিনের শুভেচ্ছার প্রতিউত্তরে না হয় সুরের মোহনায় ভাসিয়ে দিয়েন, যে সুর আমাদের বেড়ে উঠার সারথি ছিলো, ভালোলাগা ভালোবাসা প্রেম বিরহের সঙ্গী ছিলো!


সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ২:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


