
সেন্টমার্টিন ভোর ৬টার দিকের ছবি।
আমেরিকার নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত প্রতিষ্ঠান Joint Typhoon Warning Center (JTWC)
জাপানের আবহাওয়া উপগ্রহ Himawari-8
আমেরিকার হাওয়াই রাজ্যে অবস্থিত Pacific Disaster Center
কয়েক ঘন্টা আগে এদের পুর্বাভাস ছিল চট্টগ্রাম-ফেনির মাঝামাঝি বা সুধু চট্টগ্রামের উপর দিয়ে উপকুল অতিক্রম করবে।
কিন্তু না। আবহাওয়া, প্রাকৃতিক ব্যাপারসেপার যথেষ্ঠ ডাটা সহ নিখুত সাইন্টিফিক পুর্বাভাস থাকলেও ঝড়ের গতিপথ হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।
সেটাই হয়েছে।
এজাবৎ প্রাপ্ত সর্বশেষ খবর অনুযায়ী কক্সবাজার জেলা জুড়ে আঘাত করলেও মোরা সর্বচ্চ মুল আঘাতটি হেনেছে টেকনাফ-সেন্টমার্টিনে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক আজ ভোর পাঁচটায় প্রথম আলোকে বলেন,
ভোর চারটার দিকে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন এলাকা অতিক্রম করতে শুরু করেছে। এসব এলাকায় এখন বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। তিনি আরও বলেন, ১৯৯১ ও ১৯৯৪ সালে আঘাত হানা ঝড়ের চেয়ে এবারের ঝড়ে বাতাসের গতিবেগ বেশি।
এবার মোরার আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন এলাকায় সবচেয়ে বেশী।
চট্টগ্রাম বন্দর, বিমানবন্দরে কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। বিদ্যুৎ সংযোগ, টেলিযোগাযোগ এখনো অব্যাহত আছে দেখা যাচ্ছে।

তবে এই ঘুর্নিঝড় মোকাবেলার প্রস্তুতি ছিল অভুতপুর্ব, নজিরবিহীন বলা যায়।
সাম্ভাব্য আক্রান্ত “উপকূলীয় এলাকার মানুষকে সরিয়ে নিতে আগেই জেলার ৫৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এসব আশ্রয়কেন্দ্রে পাঁচ লাখের বেশি মানুষকে আশ্রয় দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাদের নিরাপত্তার পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।” সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুদিন আগেই ছুটি বাতিল ও ২৪ ঘন্টা প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল।

দুর্যোগকালীন নিরাপত্তায় আগেই গঠন করা হয়েছে ৮৮টি মেডিকেল টিম। সার্বক্ষনিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির আওতায় থাকা ৪১৪টি ইউনিট। ৬ হাজার ১০ জন প্রশিক্ষিত তরুন স্বেচ্ছাসেবক।
এ ছাড়া পৃথকভাবে তৎপর থাকবে রেড ক্রিসেন্টের ১৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কর্মী। সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করতে জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। কক্সবাজারের সিভিল সার্জন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবর রহমান চৌধুরী, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, এনজিও ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ২৪ ঘন্টা সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভার পর আগেই জেলার উপকূলীয় এলাকায় চলছে সতর্কতামূলক মাইকিং ও প্রচার। এতে ঘূর্ণিঝড় আঘাতহানার আগেই পার্শ্ববর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদে সরে আসতে বলা হচ্ছে।
অনেক এলাকার কিছু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে জোরপুর্বক সরিয়ে নেয়া হয়। কিছু "মানুষ আল্লাহ ভরসা বলে কিছু হবেনা" তাদের কে বন্দুক লাঠিপেটার ভয় দেখিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
সর্বশেষ খবর, আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দারা বাড়ীঘরে ফিরতে সুরু করেছে। এখনপর্যন্ত মৃতের খবর পাওয়া না গেলেও মৃতের সংখা সীমিত থাকবে বলে আমার ধারনা।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০১৭ দুপুর ১:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



