
ইকোনমিস্টের মতে আওয়ামী লীগ নিশ্চিত ক্ষমতায় আসছে।
ইকোনমিস্ট মুলত বংলাদেশকে নিয়ে লেখালেখি করত জামাত-বিম্পির লবিষ্টদের মাধ্যমে টাকা খেয়ে বাংলাদেশ বিরোধী রিপোর্ট লিখত।
এখনো লেখে।
কিন্তু এই রিপোর্টটি করেছে মুলত মাল্টিন্যাশানাল কর্পোরেট জায়েন্টদের জন্য, আন্তর্জাতিক উৎপন্ন পণ্য বাজারের বাংলাদেশে যারা বিশাল বিশাল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ক্রেতা বা বিনিয়োগকারি। উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারিদের আসস্থ করার জন্যই মুলত এই রিপোর্ট।
এছাড়াও নাজুক বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের মত বিশাল একটি বাজার হোচট খেলে বা থেমে গেলে ওয়াল স্ট্রিটে কিছু না কিছু ক্ষত রেখে যাবেই। খুবই সংবেদনশীল বিশ্ব শেয়ারবাজার। বিনিয়োগকারিদের আগাম সঠিক তথ্য দিতে একরকম অংগিকারবদ্ধ এইসব ফাইনানশিয়াল পত্রিকাগুলো।
সম্প্রতি ইউরোপ ও এশিয়ায় বেশ কয়েকটি নির্বাচন হয়ে গেছে। ল্যাটিন আমেরিকার ভেনিজুয়েলার মত কয়েকটি তেলসমৃদ্ধ ধনীদেশের অর্থনীতি কলাপ্স করে দেউলিয়া হয়ে গেছে। নাইজেরিয়ার অধপতন সবাই প্রত্যক্ষ করেছে। আবার পৃথিবীর বৃহত্তম পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেটিক দেশ ইন্ডিয়ার নির্বাচন সামনে। সেখানেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনগণের মতামত একটি আকার নিচ্ছে। এছাড়া এশিয়ার আরও একটি বড় দেশ ইন্দোনেশিয়ার নির্বাচন সামনে। নির্বাচন সামনে থাইল্যান্ডেরও। এসব দেশের অর্থনৈতিক উপাত্ত ও মানুষের মনোভাব বিবেচনা করে নানান লেখা আসছে ইকোনমিস্টের বিভিন্ন সংখ্যায়। সেখানেও নানান বিচারে বার বার উঠে আসছে নব উদীয়মান বাংলাদেশের নাম।
আর যে নির্বাচনগুলো হয়ে গেছে আর যেগুলো হবে সবক্ষেত্রেই একটা বিষয় কমন পাওয়া যাচ্ছে।
এ মুহূর্তের তরুণ সম্প্রদায় ভিশনারি নেতা পছন্দ করে। কারণ, বর্তমান বিশ্ব প্রতি মুহূর্তে এগিয়ে যাওয়ার। এখানে তরুণ সম্প্রদায় সবখানে তাদের সেই নেতাকে পছন্দ করছে যিনি দেশকে, দেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে পারবেন ও দেখাচ্ছেন। পত্রিকাটি আরো বলছে এই মুহূর্তের পৃথিবীর অন্যতম চিন্তানায়ক যুবাল নোহা হারিরিও দ্য ইকোনমিস্টের এই সংখ্যায় ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদেরকেই ভোট দিতে বলেছেন, যারা ভিশনারি অর্থাৎ স্বপ্ন দেখেন ও দেখাতে পারেন।
অবকাঠামো খাতে বড় বড় দুঃসাহসি বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিক উৎপন্ন পণ্য বাজারের ধারাবাহিকতায় সচল রেখেছে। ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ দেশটির ক্ষমতায় আছে। ২০০৯ থেকে ২০১৮ দেশটির উৎপাদনশিলতার একটানা উত্থান, ২০১৩ রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি, ২০১৩-১৪ দুবছর বিরামহীন নাসকতা, আমেরিকান হুমকি কোন কিছুই তাকে থামাতে পারেনি।
দ্য ইকোনমিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বন্ধু কোনও পত্রিকা নয়। বরং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের সময় তারা আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক সমালোচক ছিল। লন্ডনে আন্তর্জাতিক ধনাঢ্য জামাতিদের হেডকোয়াটার, তাদের ফরমায়েশে অনেক রিপোর্ট করে গেছে। এটা সত্য টার্গেট ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকার জন্য তাদের মতামত ও তথ্যভিত্তিক বক্তব্য ভিন্ন ভিন্ন হয়। মতামতের ক্ষেত্রে তারা অনেক সময় ফার রাইট অর্থাৎ উগ্র ডানপন্থা না হোক সেন্টার রাইট বা মধ্য-ডানকে সমর্থন করে। আওয়ামী লীগের মতো উদার গণতান্ত্রিক দল বা ব্রিটেনের লেবার পার্টির মতো উদার গণতান্ত্রিক দল তাদের মতামত কলামে সমর্থন পায় কম। তবে সাংবাদিকতার যে কঠোর নীতি ব্রিটেনের প্রেস্টিজিয়াস পত্রিকাগুলো মেইনটেইন করে অর্থাৎ তথ্য পবিত্র এবং মতামত ফ্রি, দ্য ইকোনমিস্টও তার বাইরে নয়।
দ্য ইকোনমিস্টের আলোচিত এই রিপোর্টটি মনেহয় রাজনৈতিক পাঠকদের জন্য নয়। এটি মুলত উদ্বিগ্ন মাল্টিন্যাশানাল স্টক বিনিয়োগকারিদের জন্য। সকল তথ্য-উপাত্ত যখন তাদের কাছে প্রমাণ করেছে ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আসছে, তখন তারা সেটা লিখতে দ্বিধা করেনি। তাই এমন একটি উদীয়মান দেশের আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলের জন্যে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে একটি সিদ্ধান্তে যেতে তাদের কোনও সমস্যা হয়নি।
দ্য ইকোনমিস্টের এই সংখ্যায় টপ টেন গ্রোয়ার্সের লিস্ট দিয়েছে। অর্থাৎ কোন দশটি দেশ এ মুহূর্তে জিডিপিতে শীর্ষ দশে রয়েছে। বাংলাদেশ তার ভেতর দ্বিতীয় অবস্থানে। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয়ের হিসাব দিয়েছে ১ হাজার ৮শ ১০ ডলার, মুদ্রাস্ফীতি সন্তোষজনক ৪.৮। অর্থাৎ দ্য ইকোনমিস্ট দেখতে পাচ্ছে বাংলাদেশ শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় এখন অর্থনীতিতে ভালো করছে না, পৃথিবীর সেরা দশ জিডিপি অর্জনকারী দেশের ভেতর বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। তাই এমন একটি দেশের পরবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের জন্যে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে একটি সিদ্ধান্তে যেতে তাদের কোনও কষ্ট হয়নি।
আজ দ্য ইকোনমিস্ট যেটা বলছে, শেখ হাসিনা অবকাঠামো খাতে বড় বড় বিনিয়োগ করে উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা ঠিক রেখেছেন। এর মূলে কিন্তু বিদ্যুতে বিনিয়োগ। খালেদা জিয়ার দুই টার্মেই দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি তো দূরে থাকুক কমে গিয়েছিল। এমনকি দশ বছর বিরোধী দলে থেকেও তিনি জাতিকে বা তরুণ সম্প্রদায়কে স্বপ্ন দেখানোর মতো কোনও কর্মসূচি সামনে নিয়ে আসতে পারেননি।
বরং তার সময় কেটেছে পাকিস্তানি ফরমায়েশে পুর্ব ভারত কে অস্থিতিশিল করতে। উলফার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করে অর্থউপার্জনে।
বাংলাদেশে এ মুহূর্তে বাস্তব সত্য হলো যে ক’জন নেতা নির্বাচনের মাঠের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, এরমধ্যে শেখ হাসিনাই শুধু সহজাত নেতা নন, তিনিই একমাত্র ভিশনারি নেতা। তিনি স্বপ্ন দেখাতে পারেন, স্বপ্ন দেখেন। এবং গত দশ বছরে স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করে দেশকে গোটা পৃথিবীর জিডিপি উন্নয়নের সেরা দশের তালিকায় দুই নম্বরে নিয়ে এসেছেন। তার বিপরীতে খালেদা জিয়া শুধু অশিক্ষিত ও দুর্বল নেতা নন, তিনি স্বপ্ন দেখতে ও দেখাতে জানেন না। তিনি দশ বছর দেশের প্রধানমন্ত্রিত্ব করেছেন কিন্তু দেশকে কিছুই দিতে পারেনি। তার অর্থমন্ত্রী সাইফুরহমান বিদ্যুৎ অবকাঠামো নির্মানের বিপুল ব্যয় দেখে ভীত ছিলেন, বার বার পিছিয়ে গেছেন।
খালেদা ও তারেক যখন সর্বোচ্চ বিপাকে তখন তাদের রক্ষার জন্যে লাঠি ভর দিয়ে একজন রাস্তায় নেমেছেন। তিনি নির্বাচনেও দাঁড়াবেন না। জোটের মুল নেতা কে কেউ জানে না। পথশ্রান্ত এই পথিকেরও সত্যিকার অর্থে কোনও স্বপ্ন দেখার বা দেখাবার ক্ষমতা নেই।
লেখার সুত্র - view this link
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


