হাটহাজারী মাদরাসায় সাত হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। কওমি ধারায় এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী মাদরাসা।
হেফাজতে ইসলামের আমীর শাহ আহমদ শফী হাটহাজারী মাদ্রাসায় ৩৬ বছর একক কর্তৃত্ব ছিল।
এই তিনযুগ ধরে তার কথার একচুল বাইরে যায়নি মাদ্রাসার কেউ।
প্রশ্ন হল, হাটহাজারীতে দেশের বৃহত্তম ঐ কওমি মাদ্রাসায় এমন কি ঘটেছিল যার জন্য তারা এতবড় ছাত্র বিক্ষোভ গড়ে তুললো?
অতীতে কোন মাদ্রাসায় এই নেচারের এত বিপুল বিধ্বংশি ছাত্র বিক্ষোভে ইতিহাস নেই।
যা জানা গেছে মাদ্রাসা পরিচালনা নিয়ে ম্যানেজমেন্ট লেভেলে পদ নিয়ে একটা বিবাদ ছিল। যে বিরোধ তাতে ছাত্রদের যুক্ত হওয়ার কোন কারণই ছিলনা। জানারও কথা ছিল না। যার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, যিনি তাদের 'বড় হুজুর'--যিনি কওমি মাদ্রাসার ইতিহাসে ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছিলেন। তিনি হঠাৎ কি এমন বড় অপরাধ করে ফেললেন পদত্যাগে স্বাক্ষর না করা পর্যন্ত মাদ্রাসার সবকিছু ভেঙ্গেচুরে ধ্বংশ করা শুরু হল, হুজুরে রুমের দরজা আটকে পদত্যাগে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত চ বর্গিয় গালাগাল করে তার সামনেই টেবিল চেয়ার চুরমার করলো, কিতাবের আলমারি উলটে হাতুড়ি পিটুনি শুরু করলো, মারধরের ভয়ে তার পুত্র ও অন্যান্ন সমর্থকরা আগেই পালিয়েছে।

ইহা ছাত্রবিক্ষোব ছিল কি?
সাধারন ছাত্র বিক্ষোভ হলে রাস্তায় স্লোগান হয়, দাবির তালিকা থাকে, মিডিয়ার ক্যামেরার সামনে দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়। সাংবাদিক না আসলে ডেকে আনার ব্যাবস্থা হয়। কিন্তু এখনে সেরকম কিছু ছিল না, বরং মিডিয়া থেকে লুকুচুরি ছিল। এরা অনেকেই বহিরাগত শিবির কর্মিই ছিল, কারন মুখ দেখাতে দেয় নি। সম্ভবত মাদ্রাসা তান্ডবের আগে মিডিয়াকে মোটা অংকের ঘুশ দিয়ে দূরে পাঠিয়ে দেয় হামলাকারিরা, কারন ৩ দিনের ভয়াবহ তান্ডবে মিডিয়ার টিকিও দেখা যায় নি। পুলিশকেও ঘুষ দিয়ে নিউট্রাল রেখেছিল।

পুলিশ প্রবেশ প্রতিরোধের জন্য মানব ঢাল, একে শিশু ঢাল বললে ভাল। তালামারা ফটক জুড়ে মাদ্রাসার ছোট শিশুদের হাতে প্লাকার্ড লেখা "মাদ্রাসায় হামলা করবেন না, ইহা মাদ্রাসার আভ্যন্তরিন ব্যাপার"
ঢাকায় কন্ট্রলরুমে জামাত হাইকমান্ড ভয়ে ছিল পুলিশ ঢুকলে সব ভন্ডুল হয়ে যাবে। তাই ভিপি নুরের মাধ্যমে কঠিন হুমকি দেয়ানো হয়। মফস্বলের একটা মাদ্রাসার ঘটনায় নুরার ঢাকা অচলের হুমকিতে অনেক নুরা সমর্থকও অবাক হয়েছিল।
সবকিছু নিখুত, একদম সুপরিকল্পিত মিলিটারি কায়দায় সব সেটআপ করে ধ্বংসাত্বক শক্তি প্রয়োগ করে পটপরিবর্তন করানো
এত কিছু দেখতে হলো। জীবনের শতবর্ষ পেরিয়ে নিজের শিষ্যদের কাছেই এতটাই মর্যাদা হারিয়ে নির্মম অসম্মানজনক বিদায় হয়ে শেষবিদায়ে ঢলে পরতে হলো মওলানা শফীকে। নিজ হাতে তৈরি ছাত্র-শিক্ষকরা এজিদ শিমার কারবালা স্টাইলে অবোরোধ করল। খ্যাদ্য পানীয় বিহীন ঔসধ বিহীন নিজ বিধ্বস্ত অফিসরুমে অবরোধ, পদত্যাগ পত্রে সাইন না করা পর্যন্ত ৩ দিন ধরে মাদ্রাসা ভাংচুর করা হল। আর অফিসরুম চুরমার করা হল তার সম্মুখেই ততক্ষনে হুজুর নিস্তেজ মৃতপ্রায়। এম্বুলেন্স ঢুকতেও বাধা বের হতে ৪ ঘন্টা বাধা। বিনা চিকিৎসায় মেরে ফেলা হলো।
হুজুর ২০১৩র পর ছাত্রদের কোরান শিক্ষা নৈতিকতা শিক্ষা, ধর্মশিক্ষা না দিয়ে সহিংসতা, চাপাতি বিদ্যা, 'নারী ঘৃনাবাদ' বিদ্যা তালিম দিয়ে গেছিলেন।
তার সব ফল হাড়ে হাড়ে পেলেন আমির সফি হুজুর।
ছাত্ররা এত বছর মাদ্রাসায় কোরান হাদিস পড়ে শেষ পর্যন্ত "গুরু মারা বিদ্যা" তালিম নিল। "গুরু মারা বিদ্যা" প্র্যাক্টিকেল প্রয়োগ দেখলো দেশবাসি।

দখল পোক্ত করে অবরোধকারি হত্যাকারিদের নাটের গুরু নব্য দখলদার জামাত শিবির চক্র অন্ধকার থেকে বের হয়ে সেই লাশই কাধে নিয়ে মিথ্যা অশ্রু বর্ষন করে মিথ্যা কান্না করলো আর চিপায় যেয়ে হাসাহাসি। দখল তো আগেই কমপ্লিট।
মাদ্রাসা ছাত্রদের কেউই ভাংচুর, এম্বুলেন্স আটকানো ব্যাপারে কেউ বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত হলো না লজ্জিত হলো না।
নির্লজ্জ ভন্ড বেহায়ার দল।

বেশিরভাগ প্রায় সব পত্রিকা এই পটপরিবর্তনের খবর আল্লামা সফির মৃত্যুর ডিটেইল ছাপে নি, শুধু মানবজমিনে সামান্য একটু এসেছিল। লিঙ্ক view this link
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





