somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জঙ্গিবাদের নেপথ্যে

১১ ই অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বসহ সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে ইসলাম ধর্মভিত্তিক মৌলবাদনির্ভর জঙ্গিবাদী তৎপরতা ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। সারাবিশ্বে বিশেষত মধ্যপ্রাচ্য এবং সাম্প্রতিক বাংলাদেশের হলি আরটিজান হামলা ও শোলাকিয়া হামলার প্রেক্ষিতে এক ত্রাহি ত্রাহি পরিস্থিতি জনমানসে। তবে বাংলাদেশে এই দুই হামলার পূর্বে লেখক – প্রকাশক –ব্লগার- ভিন্নমত ও ভিন্নধর্মের মানুষরা ধারাবাহিক আক্রমনের শিকার হলেও তেমন প্রতিক্রিয়া সরকার এবুং ধর্মপ্রিয় কারো কাছ থেকেই আসে নি। এসকল হত্যাকাণ্ড সংঘটনের সময় থেকেই দেশের প্রগতিশীল অংশের সোচ্চার ভূমিকা উল্টো আরও আক্রান্ত হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এ অবস্থায়, সারা বিশ্বের মতো এদেশেও যেনো এই অপতৎপরতা মহিরূহ রূপের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে। এসকল ক্ষেত্রে পরিতাপের বিষয় হলো বাংলাদেশে আহুত এবং আসন্ন এই সমস্যা সমাধানে সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নির্ণয় ও প্রয়োগের থেকে অস্থিরতা ও দোষারোপই যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকৃতপক্ষে , যদি এই সমস্যার প্রকৃত কারন না জানা যায় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয়া যায় তবে মুক্তি অসম্ভব। আল-কায়েদা , তালেবান, হিজবুল্লাহ ঘুরে হালের আইএস এবং দেশে জামাত-হেফাজত,এবিটি, জেএমবি ,শিবির মিলিয়ে উগ্রবাদী এসকল কর্মকাণ্ডের ধারক ও বাহক যে মুসলিম মৌলবাদ তা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। সমগ্র বিশ্বের এসকল জঙ্গিবাদী তৎপরতার কারন নির্ণয়ে একদল মানুষের কাছে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি মূল ফ্যাক্টর বলে বিবেচিত। এবং তাঁদের আলোচনা, বক্তব্যে এইসব ঘটনার অনুঘটক “সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ” – বলে চিহ্নিত। কিন্তু সাম্প্রদায়িকতা এবং মৌলবাকে এর একমাত্র কারন বলে চালিয়ে দেয়া আমাদের বিশ্লেষন কি সত্যি যৌক্তিক ? নাকি এর পেছোনেও কোন প্রেক্ষাপট আছে? সেটি আজকে দেখার বিষয়।
অপরদিকে এই সমস্যার সমাধান গৎবাঁধাভাবে উপরিতলে জোড় দিয়ে যে সম্ভব নয় সেটি বুঝা দরকার সেইসাথে সমাধান রয়েছে এর নিগূঢ়তায় সেটিও বুঝা দরকার।

*******
একটু ভিন্ন দিকে দৃষ্টি দেয়া যাক। সারা বিশ্বের যুদ্ধাস্ত্র/মরণাস্ত্র কারখানার কিছু আলোচনা এর জন্য অত্যাবশ্যক। দেখা যায় যে, এসকল যুদ্ধাস্ত্র কারখানার সিংহভাগ হলো ইউরোপ আর আমেরিকায়। আর বাকি যুদ্ধাস্ত্রের কিয়দংশ এশিয়ায় চীন, জাপান,উঃ কোরিয়া উৎপাদন করে থাকে তবে সেটি সামান্যই বলা চলে। তাছাড়া ইউরোপ আমেরিকার অস্ত্র ব্যাবসাই মূলত একচেটিয়া। আরো পরিষ্কার করে বললে বলা যায়, বিশ্ব অস্ত্রবাজারের একচেটিয়া বিক্রেতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ৩৭ শতাংশ নির্ভর করে অস্ত্রব্যাবসার উপরে। অন্যদিকে রাশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রিটেন,স্পেনেও জমজমাট অস্ত্রব্যাবসা। স্পষ্টতই অস্ত্র বাজার মূলত ইউরোপ আর আমেরিকার দখলে। অস্ত্র ব্যাবসার হৃষ্টপুষ্ট সামরিক অর্থনীতি গড়ে তুলেছে একমাত্র মার্কিনীরাই । এবার একটু দেখা যাক এসকল অস্ত্রের ক্রেতা তাহলে কারা-
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের ক্রেতাঃ
মার্কিনীরা বিশ্বের ৯৪ টি দেশে অস্ত্র বিক্রি করে। এর মধ্যে এশিয়া- ওশেনিয়া অঞ্চলে ৪৩% এবং খোদ মধ্যপ্রাচ্যেই ৩২% অস্ত্র বিক্রি করে। যার মধ্যে গানশিপ, ট্যাংক, গোলা, হেলিকাপ্টার, যুদ্ধবিমান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। উল্লেখ্য যে, বিশ্বে মার্কিন অস্ত্রেরই একমাত্র অপ্রদর্শিত ক্রেতা রয়েছে।
রাশিয়ার অস্ত্রের ক্রেতাঃ
রাশিয়ার অস্ত্রের ক্রেতা বিশ্বের ৫৬ টি দেশ । বিশ্ব অস্ত্রবাজারের ২৭% তাঁদের নিয়ন্ত্রনে। এদের অস্ত্রের ক্রেতা ভারত, পাকিস্থান, আলজেরিয়াসহ এশিয়া , আফ্রিকার কিছু মিত্র দেশ। বাংলাদেশও এদের অস্ত্রের বড় ক্রেতা।
চীনের অস্ত্রের ক্রেতাঃ
চীনের অস্ত্রের ক্রেতা নির্দিষ্ট। পাকিস্থান, মিয়ানমার , বাংলাদেশ এদের অস্ত্রের প্রধান ক্রেতা। তবে দিনকে দিন এদের অস্ত্রের বাজার বাড়ছে। গত ৫ বছরে চীনা অস্ত্রের বাজার বেড়েছে ১৪৩ শতাংশ।
জার্মানির অস্ত্রের ক্রেতাঃ
জার্মানির অস্ত্রের বাজার সংকুচিত হচ্ছে দিনের পর দিন। তারপরও এরা ৫৫ টি দেশে অস্ত্র রপ্তানি করে। তবে এর বাজার ২০ ভাগের বেশি কমে গেছে। ইউরোপের ছোট ছোট দেশ এসব অস্ত্র কেনে। এছাড়াও নানা দেশে এদের বাজার বিক্ষিপ্তভাবে আছে।
ফ্রান্সের অস্ত্রের ক্রেতাঃ
ফ্রান্সের অস্ত্রের বাজার কমেছে প্রায় ২৭ ভাগের মতো । এরা মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ব্যাপক পরিমান অস্ত্র বিক্রি করে। আফ্রিকার যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশগুলো এদের অস্ত্র দিয়েই যুদ্ধ করে।
ব্রিটেনের অস্ত্রের ক্রেতাঃ ব্রিটেনের অস্ত্রের ব্যবসা এক সৌদি আরবই টিকে রেখেছে। সৌদি আরবের মোট অস্ত্রের ৪১% ক্রয় করা হয় ব্রিটেন থেকে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে কয়েকটি দেশ এদের অস্ত্র কেনে।
স্পেনের অস্ত্র ব্যবসাঃ
অনেকের কাছে অবাক লাগলেও সত্য যে, অস্ত্র ব্যাবসার এক বড় দেশ স্পেন। অস্ট্রেলিয়া তথা ওশেনিয়ার অস্ত্র এই স্পেনই সরবরাহ করে।
পুজিবাদের উন্মুক্ত যুগে দুনিয়ার বৃহৎ অস্ত্র রপ্তানিকারকদের মধ্যেও তুমুল প্রতিযোগিতা দৃশ্যমান। অস্ত্র বাজারের বিশ্বায়নে মার্কিন অস্ত্র কোম্পানির কাছে রীতিমতো ধরায়শী জার্মানি, ফ্রান্স এবং ব্রিটেন। পুজির পুঞ্জিভবন,মারজার,একুইজিশন এর কারনে মার্কিন কোম্পানির কাছে এসকল দেশের অস্ত্র ব্যাবসা আর দাড়াতে পারছে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একচেটিয়া মুনাফার দিকে এগুচ্ছে। অন্যদিকে চীনের অস্ত্রের বাজারও বর্ধনশীল। তবে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বাজারের মধ্যকার পার্থক্য হলো , চীনের বাজার নির্দিষ্ট কিন্তু মার্কিনীদের বাজার সম্প্রসারণশীল। আর রাশিয়ার অস্ত্রের বাজার স্থিতিশীল। মোটের উপর মার্কিন অস্ত্রবাজার একচেটিয়া আর মুনাফায় অনন্য। এবার দেখা যাক, এইসকল মার্কিন অস্ত্রবিস্তৃত অঞ্চল কোথায় কোথায়-

### পাকিস্থান, আফগানিস্থান, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অস্ত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Lockhecd martin, Boeing, UTC, Raytheon নামের বড় বড় সকল অস্ত্র কোম্পানির অস্ত্র এখানে দেদারছে ব্যাবহৃত হচ্ছে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে এসকল কোম্পানির অস্ত্রই পাকিস্থান সীমান্তে আল-কায়েদা, লস্কর-ই –তৈয়বা, তালেবান গোষ্ঠীরা ব্যবহার করে। আফগান সীমান্তে এসকল অস্ত্রের ঝনঝনানি প্রদর্শন করে থাকে তারা। আর হালের আইএস এর হাতে যে ট্যাংক শোভা পায় তাও মধ্যপ্রাচ্যের তুরস্ক, ইসরাইল,মিশরে রপ্তানি করা এসকল কোম্পানির অস্ত্র। আবার , যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের যে অপ্রদর্শিত বাণিজ্য তা যে আইএস, আল- কায়েদা এবং নানান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে তা এখন অপ্রকাশিত সত্য।
###সবারই জানা আছে , ইয়েমেন অ সৌদি আরব বর্তমানে এক যুদ্ধে লিপ্ত আছে। বলে রাখা ভালো যে এ যুদ্ধে সৌদি আরব কর্তৃক ব্যাবহৃত সকল অস্ত্র ব্রিটেন থেকে আমদানি করা। আর ইয়েমেন এর অস্ত্র ফ্রান্স, ইতালি, রাশিয়া হতে কেনা বলে জানা যায়। এই হলো বাস্তবতা যে, অস্ত্র উৎপাদন হয় ইউরোপে আর সেই অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ।
### সিরিয়ার অভ্যন্তরীন গোলযোগে মার্কিন-ফ্রান্স-রাশিয়া ত্রয়ীর অস্ত্র উভয়পক্ষ ব্যাবহার করছে। এই যুদ্ধকে ঘিরে ২০১১-১৩ সালে অস্ত্র ব্যাবসা ব্যাপকভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিলো। বর্তমানেও থেমে নেই, বরং চলছে এই রমরমা বাজার। এছাড়াও , ইসরাইল- ফিলিস্থিনে স্থায়ী বাজার তো আছেই। সেখানে অস্ত্রের সোনাফলা বাজার। অন্যদিকে মিশর, জর্ডান, ব্রুনাই, বাহরাইন প্রভৃতি দেশগুলো তো নিয়মিত অস্ত্র কিনছেই। দরকার না থাকলেও কিনছে , স্বৈরশাসন টিকিয়ে রাখতে লাগে তো অস্ত্র। তাছাড়া আইএস কে কাবু করতে অস্ত্রের চাহিদা বড়ছেই দেশগুলোতে। আইএস এক নতুন ত্রাস । কাজেই অস্ত্র না কিনলে আইএস দমন করবে কিভাবে?
সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষনে দেখা যায় যে আইএস তথা জঙ্গি ইস্যুতে যুক্ত্রাষ্ট্রের ত্রিমুখী অস্ত্রবাণিজ্য চাঙা হচ্ছে। প্রথমত, আইএস এর কাছে অপ্রদর্শিত রাস্তায় অস্ত্র বিক্রি ।দ্বিতীয়ত, আইএস এর ভয় দেখিয়ে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অস্ত্র বিক্রি । তৃতীয়ত, আইএস ইস্যুতে মুসলিম নির্যাতন করে নতুন অস্ত্রবাজার প্রস্তুত করা যা কিনা ভবিষ্যৎ বাণিজ্য। বলে নেয়া ভালো যে এইসব সংঘাতে আরেকটি ব্যাপক লাভজনক খাত হলো – মধ্যপ্রাচ্যের তেলসম্পদে নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা। ব্যাপারটি দাড়ালো এমন যে, যুদ্ধ/জঙ্গি বলে অস্ত্রও বেচা গেলো অন্যদিকে যুদ্ধের মাঝে তেলসম্পদেও লুটপাট চালানো গেলো। এই আমার বিশ্বব্যাবস্থা। যার নাম দিয়েছি আমরা উদারবাদী মুক্তবাজার অর্থনীতির এককেন্দ্রিক বিশ্ব!!
খুবই পরিষ্কার যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যপ্রাচ্য এশিয়ায় অস্ত্রব্যাবসা টিকে আছে দুটি কারনে -
১) আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিভেদ
২) জঙ্গিবাদ তথা আইএস-আল কায়েদা

খুবই স্পর্শকাতর একটি প্রশ্ন হলো , মার্কিন ছত্রচ্ছায়ায় সিংহভাগ মুসলমান অধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাহলে যে সংঘাত তা কি যৌক্তিক? ব্যাপারটি হচ্ছে এমন যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী লুণ্ঠন ঠেকাতে এমন প্রতিরোধ খুবই স্বাভাবিকই হতো (?) । কিন্তু গণমানুষের মুক্তির চেতনা কি এই সংঘাত ধারণ করে? এটি হচ্ছে প্রশ্ন। আইএস জঙ্গিরা কিংবা আলকায়েদা জঙ্গিরা প্রতিরোধ করছে সত্য ,কিন্তু সেই প্রতিরোধ কি ন্যায্যতার ভিত্তিতে কোন লুটতারাজকারী শক্তির বিরুদ্ধে করছে ?? নিশ্চয়ই নয় । বরং তারা “সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ,পুঁজিবাদী শক্তির সামরিক অর্থনীতির কাছে নির্যাতিত মানবতা” এই আদর্শের পরিবর্তে “ইসলাম গেলো গেলো বলে এই লুণ্ঠনকে ভিন্ন ধর্ম কর্তৃক ইসলাম ধ্বংস” বলে জ্ঞান করছে এবং নৃশংসতার চরমে পৌছাচ্ছে। আর সেই জ্ঞানে ঘি ঢালছে ইসলাম ধর্মের জিহাদি সবক। ইসলামি আদর্শে কল্লা কেটে ইসলাম কায়েম করবে। ভাবখানা এমন যে, ইসলামী শাসন আসলেই মনে হয় শান্তি আর শান্তি!!!
এখানে , ক্রিস্টান কিংবা ভিন্ন ধর্ম কর্তৃক ইসলাম ধর্ম নির্যাতন – এই ভাবধারা মানবতা বিবর্জিত চিন্তা। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কোন ধর্মযুদ্ধ নয় ,এটি একটি বৃহৎ রাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী লুণ্ঠন। সাম্প্রদায়িক শক্তি কর্তৃক এই ন্যায্য বিচার করা সম্ভব নয়। আর তাই তারা যেকোন অন্যায়কেই ধর্মযুদ্ধ ভাবে। এবং সেটি আরেক অন্যায়ের জন্ম দেয়।

******
এখন আসা যাক সেইদিকে , ধর্মকে কেন্দ্র করে কিভাবে এই চিন্তাগত জঙ্গিঐক্য গড়ে উঠলো? কিংবা কি এর ভিত্তি? চলুন দেখে নেই-
এই ঐক্য গড়ে উঠার ভিত্তি হলো “নির্যাতিতের নৈকট্য”। এই বিষয়টি এমন যে, “মধ্যপ্রাচ্যে আমরা সকলেই নির্যাতিত মুসলিম কাজেই আমাদের সকলকে ইসলাম রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা সকলেই নির্যাতিত”। এই “নির্যাতিতের নৈকট্য ” থেকে ঐক্য গড়ে উঠছে ইসলাম রক্ষার জন্য তাদের দেশের নির্যাতিত সকল ধর্মের, সম্প্রদায়ের গণমানুষকে রক্ষার জন্য নয়। এই ঐক্য নিজ দেশে সম্পদ লুণ্ঠনের প্রতিবাদে গড়ে উঠেছে – এমনও নয় । তাহলে কি সেটা ? এই ভ্রান্তিজনিত ঐক্যের নাম সাম্প্রদায়িকতা । যে সাম্প্রদায়িকতা মানুষ চেনে না কিন্তু ধর্ম চেনে ষোলআনা।

এই ঐক্য যেভাবে গড়ে উঠেছে-
প্রথমত,এই ঐক্য গড়ে তুলতেও মার্কিনীদের জুড়ি মেলা ভার। সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত কে কাবু করতে আফগানিস্থানে তালেবান , আল-কায়েদা কে নিজ প্রশিক্ষন আর অস্ত্রে প্রস্তুত করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী ও সিআইএ। তালেবানদের বুঝানো হয়েছে “সমাজতন্ত্র আসলো আর ইসলাম গেলো”। যখন সোভিয়েত শেষ তখন ‘তালেবান আর আল- কায়েদা হটাও’ এই অজুহাতে যুদ্ধে নামো। অস্ত্র বেচো। এই ফাকে এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাটিটাও পাকাপোক্ত করা গেলো। আবার পাকিস্থানের কাছে জঙ্গি দমনের উদ্দেশ্যে অস্ত্রও বিক্রি করা যাচ্ছে। তাহলে, পুজিবাদ শত্রু তৈরি করে- কথাটা কি মিথ্যে? যে লাদেন, বায়তুল্লাহ মেহসুদ, হাকিমুল্লাহ মেহসুদ আর জাওয়াহিরিকে মারতে আজ মার্কিন ড্রোন পাকিস্থান, আফগানিস্থানের আকাশে উড়ে এদের লালন পালন করেছে একদিন সিআইএ। আর ড্রোনের আঘাতে নিরীহ মানুষ এই ঘৃণ্য কৌশলের বলি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আজকের জঙ্গিদের কাছে এই ফ্যাক্টই আলোড়িত হয় ইসলামিক জোসে। এই জায়গায়ই ঐক্য তৈরি হয়।
দ্বিতীয়ত, ইরাকের মাটিতে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে, ইরাক-ইরান-কুয়েত আন্তঃদ্বন্দ জিইয়ে রেখে, ইসরাইলের মাধ্যমে ফিলিস্থিনে নির্যাতন চালিয়ে, সিরিয়ায় যুদ্ধ বাধিয়ে, লিবিয়াতে অন্যায় আগ্রাসন চালিয়ে এক বিচ্ছিরী অবস্থা দেশে দেশে। সাম্রাজ্যাবাদের কি নির্মম বলি এই মানুষগুলো। আর এই ধরনের নির্যাতনই মুসলমান জনগোষ্ঠীকে এক ঐক্যে নিবন্ধিত করে। দেশে দেশে এমন নির্যাতনে তারা উদ্বেলিত হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই ঐক্যের ভিত্তি ঐ ধর্মই। এখানেও ধর্ম গেলো গেলো রব ।।
উপরের দুটি প্রেক্ষিত দেখে বুঝা যাচ্ছে যে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও তার মিত্র গোষ্ঠী তাঁদের সামরিক অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে কিভাবে সংঘাত বাধাতে তৎপর। কিন্তু আরেকটি প্রশ্নও আসে কেন ইসলামিক মৌলবাদেই সংঘাত অধিকতর? ঐ যে জিহাদি জোস। যাকে বলে -একে ঢোলের বারি তার উপরে নাচুনে বুড়ী। নির্যাতিত জনগন তাঁদের মধ্যকার ঐক্য সাম্প্রদায়িক তৈরি করে এমন উন্নাসিক পর্যায়ে পৌছিয়েছে যে তারা ভিন্নধর্মকে শত্রু ভাবে, মানুষকে শত্রু ভাবে কিন্তু সামরিক অর্থনীতি কিচ্ছু ছিড়তে পারে না। উল্টো সামরিক অর্থনীতির পা চাটে। ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক বিভেদ হলো মানুষ মারার সেই কল যা পুজিবাদের সাথে সহবাস করে দুঃশাসনের চক্র গড়ে তোলে। সেই কাজটি করছে মুসলমানদের মানবতা বিবর্জিত এই “নির্যাতিতের নৈকট্য” যার ফল ঘরে তুলছে মধ্যপ্রাচ্যের স্বৈরশাসকরা।
জঙ্গিবাদের উদ্ভব-
এই নির্যাতিতের ঐক্য এবং ধর্মের মাদকতা উভয় মিলিয়ে আজকের জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করছে। একটি বিক্ষুব্ধ সাম্প্রদায়িক চিন্তা এবং ভাববাদী সমাজমানস জঙ্গিবাদের জলন্ত আগুনে ঘি ঢালছে। হাজার হাজার তরুন যুবকের মগজে জিহাদি জোস ঢুকিয়ে একটি ধর্মমত চাপিয়ে দেয়ার উদগ্র বাসনা এক ভয়ানক পরিস্থিতির ইংগিত দেয়। প্রগতি আর বিজ্ঞানের অনুপস্থিতি এই ভাববাদী উগ্র চিন্তাকে উস্কে দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের শাসকরাও একে আলিঙ্গন করেই দিন পার করছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই ভাববাদ আর বিজ্ঞানহীনতার জয়জয়কার । এর কারণ- বিজ্ঞান, প্রগতির শিক্ষার মূল অন্তরায় এর শাসকরা। একটি যুক্তিবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠায় তাদের ক্ষমতা যেকোন মুহূর্তে নড়ে যাবে। সেখানে শাসকরা এসকল চিন্তার পরিবর্তে ধর্ম তোয়াজ করে ক্ষমতায় থাকাকেই নিরাপদ মনে করে।
মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এবং আইএস যোগসূত্র-
আল- কায়েদার সাথে মার্কিন সম্পর্ক এখন পুরাতন গল্প। নতুন হলো আইএস- মার্কিন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আতাত এখন নতুন গল্পের ফদ্দি মেলে ধরেছে। মার্কিন অস্ত্রব্যাবসার বিশদ বিবরন দেয়ার উদ্দেশ্য হলো এই যে এর বাজার সম্পর্কে ধারণা দেয়া। মার্কিন অস্ত্র তুরস্ক, সিরিয়ার বিদ্রোহী এককথায় মধ্যপ্রাচ্যে কোথাও না কোথাও বিক্রি হয়। আশ্চর্যের হলো এই যে আমেরিকার বড় বড় অস্ত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের অস্ত্র আইএসের হাতে শোভা পায়। বিশাল বিশাল ট্যাংক , রাইফেল, মাইন নির্মাণের প্রযুক্তি কারখানা আইএস নিজে থেকে নির্মাণ করবে তা পাগলেও বিশ্বাস করে না। মার্কিন অস্ত্রের ডিজাইন ডিজাইন আইএস নকল করে পুনঃনির্মাণ করছে এটিও নিশ্চয়ই বাড়াবাড়ি ও অবাস্তব যুক্তি। স্বভাবতই প্রশ্ন আসে তাহলে এই অস্ত্র কাদের হাত থেকে আইএস এর হাতে আসলো? অথবা সিরিয়ার বিদ্রোহীদের হাতের অস্ত্র কাদের কাছ থেকে তাঁদের হাতে এসে পড়লো? খুবই সহজ উত্তর ,এইসকল অস্ত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বানানো। তাছাড়া আইএস ব্যবহৃত বাকি অস্ত্রগুলোর উৎসও যে ঐ ইউরোপই তা কে অস্বীকার করবে? আইএস এর সামরিক প্রশিক্ষন কোথা থেকে আসলো?? নিশ্চয়ই আরব দেশগুলো দেয় নি। কারন আরব দেশ এধরনের প্রশিক্ষন দিলে আমেরিকান সিআইএ নিশ্চয়ই বসে থাকার কথা নয়। বলাবাহুল্য , মধ্যপ্রাচ্যে সিআইএ এজেন্ট সবচাইতে বেশি সক্রিয়। এবার পরোক্ষ হিসেব মেলাতে খুবই বিজ্ঞ হতে হয় না। মার্কিন অস্ত্রের ব্যাবসায় ধ্বস নামবে যদি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না থাকে , বিশ্বে জঙ্গি না থাকে। যুদ্ধ আর অস্ত্রই মার্কিন অর্থনীতির ফুসফুস একথা কে না জানে।

এ তো গেলো মধ্যপ্রাচ্যের কথা কিন্তু এই এতো হাজার মাইল দূরে বাংলাদেশের তরুনরা কোন দুঃখে জঙ্গিবাদে নাম লেখালো? কি সেই যুক্তি যার জন্য আইএস পাড়ায় হিজরত করলো?
এর কারন দ্বিমুখী-
১) মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম নির্যাতন হচ্ছে এই নৈকট্যে গা ভাসিয়ে তারাও একইভাবে মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধে উজ্জীবিত। বাংলাদেশে শ্রমিক নির্যাতন, সংখ্যালঘু নির্যাতন, আদিবাসী নির্যাতন, মানুষের অধিকারহীনতা কিছুই ওদের টলাতে পারে নি। ওদের টলাতে পেরেছে ঐ এক বচন-“ ইসলাম গেলো” । ধর্ম উদ্ধার করতে হবে। যার উৎস এদেশের জীবনবিমুখ, ভাববাদী, সাম্প্রদায়িক শিক্ষাব্যাবস্থা। মানুষ আত্নপরিচয়ের থেকে ওদের কাছে মুসলমান আত্নপরিচয় মূখ্য।

২) দেশীয় পরিস্থিতির দরুন-
বাংলাদেশের তরুণদের এই ধরনের কাজে অংশগ্রহনে আমাদের রাষ্ট্রের দায় এড়ানো অসম্ভব। আমাদের সমাজের পরিবেশ , পরিস্থিতিও সে দায় এড়াতে পারে না। গুলশান আর শোলাকিয়ায় হামলার পর যে শ্রেনী নড়েচড়ে বসেছে এই শ্রেনী ব্লগার-প্রকাশক-লেখক হত্যায় নিরব ছিলো। জঙ্গি আক্রমণে নিহত এসকল মানুষদের হত্যার বিচারের পরিবর্তে সরকার-তথাকথিত বুদ্ধিজীবী যৌথ প্রয়াস চালিয়েছে। সমালোচনা , লেখনিকে সীমাবদ্ধ করে ধর্মের বিরুদ্ধে লেখার ব্যারিকেড এই সরকারই দিয়েছে। ধর্মকে এবসলিউট বিচার করার পরামর্শ সরকার দিয়েছে। এখনো , তরুনদের আইএস গমনের কারন উদ্ঘাটনে সস্তা বাগাড়ম্বর দেখা যাচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত কারন অন্য ,এবং এর সমাধান ঐ কারনেই নিহীত।
প্রথম কারন শিক্ষাব্যাবস্থা-
একটি তরুন যদি প্রগতি, বিজ্ঞানের শিক্ষা পায় তার পক্ষে আইএস এর সাম্প্রদায়িক ঐক্যে পা বাড়ানো অসম্ভব। প্রগতির শিক্ষা মুসলমান সম্প্রদায়ের ঐক্যের ভিত্তিকে গ্রহন করবে না। প্রগতির শিক্ষা মানুষকে গণমানুষের সত্যিকারের মুক্তিসংগ্রামের আকাঙ্খা জাগায়, মানুষে মানুষে ঐক্যে উৎসাহ যোগায়। যেটি মধ্যপ্রাচ্যে কিয়দংশও নেই তাই সেখানকার মানুষের চিন্তা সাম্প্রদায়িক ও অমানবিক । আর বাংলাদেশেও সেই বিজ্ঞান ও প্রগতিহীন শিক্ষা হতে ক্রমে দূরে সরে যাচ্ছে। এদেশে মাদ্রাসা শিক্ষার নামে সাম্প্রদায়িক শিক্ষা প্রচলিত, কওমী মাদ্রাসার মতো ভাববাদী বিজ্ঞানহীন শিক্ষা এদেশে চালু আছে। কাজেই এদের মধ্য থেকেই গড়ে ঊঠছে উগ্রবাদ। আশ্চর্যের হলো এই যে, সাধারন শিক্ষার মাঝেও সাম্প্রদায়িক শিক্ষার আয়োজন ব্যাপকমাত্রায়। শিশুদের এক ধর্মের শিক্ষায় এমনভাবে আচ্ছন্ন করা হয় যে তার ধর্মই শ্রেষ্ঠ অন্যগুলো তার শত্রু । আর এই শিক্ষাই তার জঙ্গি হওয়ার জন্য যথেষ্ট। এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জঙ্গি ধরা পড়েছে বলে ভাবার কারন নাই মাদ্রাসায় জঙ্গি হয় না। এসব হচ্ছে জঙ্গিবাদের নিরব উৎস।কাজেই সাম্প্রদায়িক শিক্ষা রেখে শূণ্যে গদা ঘুরালেই জঙ্গি নির্মূল হবে না।
দ্বিতীয় কারন রাজনীতিবিমুখতা-
বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ফ্যাশনেবল এবং হাইপ্রোফাইল প্রসপেক্টাস হলো এতে নাকি রাজনীতি নিষিদ্ধ। কি সাংঘাতিক কথা! বিশ্ববিদ্যালয়, অথচ তাতে নাকি রাজনীতি নাই। রাজনীতির চাইতে বড় সততা আছে জগতে? বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনীতি বিমুখ বানাতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে ক্যারিয়ারচিন্তা আর উগ্রপন্থার গোপন চর্চাই রাজনীতির বিকল্প হয়ে গড়ে উঠেছে। এই রাজনীতি বিমুখতা অবশ্য এদেশের কতিপয় বুদ্ধিজীবীর প্রেসক্রিপশনেই হয়েছে। কারন তারা রাজনীতি বলতে ছাত্রদল- ছাত্রলীগ এর স্বার্থকেন্দ্রিক সংঘর্ষকেই বুঝেন অথবা বুঝেন শিবিরের সাম্প্রদায়িকতা মিশ্রিত ধর্মীয় তেলেসমাতির সন্ত্রাস। রাজনীতি বিমুখতা কি ফল বয়ে আনে তা বুঝার এখনি সময়। কাজেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংসদের মাধ্যমে সচল ও সুস্থ রাজনীতির চর্চা না তৈরি করলে এই জঙ্গি সমস্যা আজীবনই থেকে যাবে।
তৃতীয় কারন সাম্প্রদায়িক রাজনীতি-
বাংলাদেশের মাটিতে সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল , সংগঠন জিইয়ে রেখে উগ্রবাদী তৎপরতা রুখে দেয়া যাবে না।ভোটের রাজনীতির হিসেব করে বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদী রাজনীতিকে নিষিদ্ধ না করে মা বাবাকে উপদেশ দিয়ে কোন ফলাফল হবে না। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি মানেই সংঘাত। কাজেই জামাত-হেফাজত-শিবির অক্ষুণ্ণ রেখে এর সমাধান খুজা প্রলাপমাত্র । কাজেই ভোটের রাজনীতি আর দোষারোপের রাজনীতির মধ্যে থেকে সমাধান করতে চাইলে তা ফলাফলে শূণ্য।

মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়ায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সামরিক অর্থনীতির নীলনকশার যুদ্ধ চলছে। ইসলামিক মৌলবাদীর জিহাদি জোস সাম্প্রদায়িক ভাবাপন্ন ধর্মমত চাপানোর এই আইএস চালিত যুদ্ধ প্রাগৈতিহাসিক। যে যুদ্ধে ক্ষতি মানবতার আর লাভ আমেরিকা এবং তৎসংশ্লিষ্ট মিত্রদের।মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দায় যেমন রয়েছে এই যুদ্ধ যুদ্ধ জঙ্গি খেলায় তেমনি দায় রয়েছে ঐসকল মৌলবাদী জিহাদি চিন্তার। বিশ্বে ন্যায়সংগত সকল সংগ্রামের জয় অবশ্যম্ভাবী কিন্তু মানবসম্পর্কহীন ধর্ম প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বর্বর চিন্তা।কাজেই আইএস এর বর্বর যুদ্ধসহ সকল জঙ্গিবাদী যুদ্ধের পরাজয়ের সাথে সাথে মানুষের প্রতিরোধে এই যুদ্ধের ফলাফলভোগী পুজিবাদী সামরিক অর্থনীতির পরাজয়ও অনিবার্য। অন্যদিকে বাংলাদেশেও সত্য এবং প্রগতির পৃষ্ঠপোষকতা করে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের পতন নিশ্চিত না করলে মানুষকে মূল্য দিতে হবে আরো।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:১০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×