বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি অঙ্গ সংগন হলো ইসলামী ছাত্রশিবির ।পরিপাটি, মেধাবী কিংবা ধর্মভীরু ছাত্রদের কাছে অতি পছন্দের এই ইসলামী সংগঠনটি । বছরের পর বছর সুনাম রক্ষা করতে পারলেও সেই সুনামেই বোধহয় এখন চির ধরেছে ! আদর্শ থেকে বিচ্যুতির পথ ধরেছে বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা ! লোভ আর পদ লিপ্সা ঝেঁকে বসেছে তৃণমূল পর্যায়ে !
অনেক জায়গায় ঘুরে যতটুকু বুঝতে পেরেছি তাতে মনে হচ্ছে এই সগঠনটি সত্যিই হুমকির মুখে ! এর কারণ হিসেবে বলা যায় ঐ দায়িত্বহীনতা আর সমন্বয়হীনতার অভাবকেই ! নতুন যারাই কোন পদে আসছে তারা নিজের দায়িত্ব ঠিক মত পালন করছেনা ! যার ফলে মানোন্নয়ন এ ঘাটতি দেখা দিয়েছে !
ছাত্রশিবির কর্তৃক প্রদত্ত পদকে চাকরি পাওয়া কিংবা নেওয়ার মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে অনেকেই ! কারণ যে একবার কোন থানা কিংবা ওয়ার্ড সভাপতি পদে পদান্বিত হন তিনিই মনে করেন যে এখনতো আমার লিংক বড় তই চকরি পেতে সমস্যা হবেনা !তাতে মনে হচ্ছে তারা মন থেকে ইসলামী ছাত্রশিবির করছেনা ! এটা শুধু তাদের ( তথাকথিত পদলোভীদের) কূটকৌশলের একটা ছোট্ট নমুনা মাত্র !
৫ জানুয়ারীর প্রহসনের নির্বাচন আর বর্তমান ছাত্রশিবিরের ষান্মাসিক কিংবা বাৎসরিক সেট আপ অনেকটা একই সুত্রে গাথাঁ ! কেননা আমরা দেখেছি ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে ঠিক যেমন করে ভোট ছাড়া আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করেছিল ঠিক তেমনি বর্তমানে ইসলামী ছাত্রশিবির একই পন্থায় পরিচালনা পরিষদ গঠন করে !থানা কিংবা উপর মহল থেকেই বলা থাকে কে সভাপতি হবে আর কে কোন পদ পাবে যদিও লোক দেখানো ভোট নেওয়া হয় ! দেখা গছে বেশীর ভাগ সাপোর্টার,কর্মী কিংবা সাথীরা যাকে যে পদে আশা করছেন তাকে সে পদে দেখা যাচ্ছে না !
অনেকটাই বুমেরাং !!!!!!!!!!!!!!!!!!!
আমি বলবনা সকল দায়িত্বশিলরাই পদলোভী কিন্তু আমরা জানি ১ মণ দুধ নষ্ট করতে এক ফোটা চনাই ( গরুর মূত্র) যথেষ্ঠ ! তাই বৃহৎ এই সগঠনটিকে নিঃশেষ করতে কয়েকটা পদলোভী কপট কথিত দায়িত্বশীল কিংবা পরিচালকই যথেষ্ঠ !
আমরা দেখেছি ছাত্রশিবিরের আয়ের একটা অংশ আসে বিভিন্ন ছাত্র মেস কিংবা হোস্টেল পরিচালনার মাধ্যমে ! কিন্তু সই জায়গাতেই এখন বড় রকম গাবলা দেখা যাচ্ছে ! যাকে মেস পরিচালনার জন্য দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে অর্থ্যাত যে পরিচালক হচ্ছে সেই লোকটিই দায়িত্বহীনতার চরম উদাহরণ দিচ্ছে ! ইসলামী-ছাত্রশিবির নিয়মানুযায়ী কাউকে একটি মেস পরিচালনার দায়িত্ব দেয় কিন্তু মেসটির মালিক বনে যেতে বলেনি ! এখন সেই যায়গাতেই বিরাট রকমের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে ! মেস পরিচালক তো নিজেকে মেসের মালিকই মনে করে আর মেস বর্ডারদের সাথে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করছে ! যার কারণে বর্তমানে মানোয়ন্নয়নের বদলে দিন দিন সাপোর্টার, কর্মী কিংবা সক্রিয় সাথীদের সংগঠন থেকে হারাচ্ছে !
কথায় কিভাবে লাগাম ধরতে হয় তা অনেকটা হারিয়ে ফেলেছে এই তথাকথিত মেস পরিচালকেরা ! যা আগে কখনোই কোন দায়িত্বশীল এর মধ্যে দেখা যেতনা ! কিন্তু বর্তমানে বিষয়টা অনেকটাই পান্তা ভাত আর পোড়া মরিচ !
আর এই সমস্ত অপ্রত্যাশিত বিষয়গুলো চরম আকার ধারন করেছে শুধুমাত্র উপরিমহলের কিংবা ছাত্রশিবিরের ঊর্ধতন দায়িত্বশীলদের অপর্যাপ্ত মনিটরিং এর কারণেই !
আমি বিশ্বাস করি এভাবে চলতে থাকলে সেদিন খুব বেশি দূরে নয় যেদিন ছাত্রশিবির তুলোর পাহাড়ের ন্যায় বাতাসে উড়ে যাবে কংবা কোন অতল গহীন গুহায় হারিয়ে যাবে !
তাই সময় থাকতেই ইসলামী ছাত্রশিবিরকে এই অপ্রত্যাশিত বিষয়গুলো সমাধান হেতু বিবেচনায় নিয়ে আসা উচিৎ ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

