somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই শিশুর নাম রাইসুল, সে মায়ের জন্য পানি বয়ে নিয়ে যাচ্ছে

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এই শিশুর নাম রাইসুল, সে মায়ের জন্য পানি বয়ে নিয়ে যাচ্ছে, এই পানি নিয়ে তাকে প্রায় ২ মাইল পথ পাড়ি দিতে হবে। নিশ্চয়ই তার মায়ের কাছে সে সোনার টুকরা হিরো একটা ছেলে..!
.
রাইসুল বলে,-‘আমার মা অসুস্থ। ওই পাহাড়ের উপরে থাকে। ঘর থেকে বের হতে পারে না ‘ রাইসুলের পাশে থাকা আরেকজন বয়স্ক মহিলা বললেন,
-‘ওর মা গর্ভবতী। ঝুপড়ি ঘরে খোলা আকাশের নিচে থাকে। একটু বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। এখন মায়ের সব কাজটি এই শিশু করে।’
.
শনিবার উখিয়ার বালুখালি ক্যাম্পে সাড়ে চার বছরের শিশু রাইসুল হককে দেখা গেলো ভিন্ন দৃশ্যে। কাঁধে দু’লিটার করে পানির বোতল, গায়ে নীল গেঞ্জি, পরনে কিছু নেই! তাকে মায়ের জন্য পানি নিয়ে আধা কিলোমিটার হেটে উপরে উঠতে হবে। ভাসমান একই ক্যাম্পে থাকা আয়েশা খাতুন বলেন, ‘মিয়ানমারের বুচিডং এলাকায় ছিল ওদের বাড়ি।’
বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা ওর বাবা ও বড় ভাইকে মেরে ফেলেছে। ওর মা আমাদের সাথে রাইসুল ও তার আরেক ভাই জামানকে নিয়ে ৫ দিনে দূর্গম পথ পাড়ি দিয়ে এখন এই ক্যাম্পে উঠেছে।
ওই নারী আরো বলেন, গত তিন দিন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মায়ের জন্য খাবার সংগ্রহ, নিচে এসে পানি নিয়ে যাওয়া সবই শিশু রাইসুল করছে!
.
ওখানে কী বাচ্চা প্রসবের পরিবেশ আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
-‘খোলা আকাশের নিচে প্রতিদিনই এমন বহু মা সন্তান জন্ম দিচ্ছে। ওর মায়েরও তেমন হবে।’
.
রাইসুলের কাছে জানতে চেয়েছিলাম,-‘তুমি কি তোমার আব্বুকে মেরে ফেলতে দেখেছো? ’ রাইসুল তখন বললো,-‘না! আম্মু বলেছে কে নাকি আব্বু ও ভাইকে পুড়িয়ে মেরে ফেলেছে।’
[ইন্না লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাহী রাজিউন]

**************************************************************************************************
**************************************************************************************************

দুই কিশোরীর সঙ্গে কথা হয় গতকাল টেকনাফের কাছের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে। তারা বলছিল, ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবরের পর প্রাণ মংডুর কাউয়ার বিলে সেনাবাহিনী হামলা চালালে দুই বোন নানাবাড়ি রাইম্যার বিলে চলে যায়। সেখান থেকে ১৩ থেকে ২০ বছরের ১৭টি মেয়েকে সেনাসদস্যরা তুলে নিয়ে যান। ওই দুই বোন পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। পরিস্থিতি শান্ত হলে আবারও ওরা ফিরে যায় মিয়ানমারে। এবার আর রক্ষা পায়নি। মিয়ানমারের সেনাসদস্যরা ওই দুই বোনসহ পাঁচজনকে তুলে নিয়ে যান। সেখানে গণধর্ষণের শিকার হয় তারা। বড় বোনটি ঘটনার পরপরই আত্মহত্যার চেষ্টা করে। ছোট বোনের কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসেছে।

টেকনাফের উন ছি প্রাং, বালুখালী অস্থায়ী ক্যাম্প, থাইংখালী ও লেদার শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া অনেকেই বললেন, এই দফায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা যেসব নারীকে ক্যাম্পে নিয়ে গেছেন তাঁদের আর ছাড়েননি। অক্টোবর ২০১৬ তে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছিল। ধর্ষণের শিকার সেসব নারী বাংলাদেশের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে এসে উঠেছেন। দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যম, মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে তাঁরা নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। এবার ধর্ষণের শিকার বহু নারীকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সীমান্ত পার হতে দেয়নি।

উন ছি প্রাং আশ্রয়কেন্দ্রে কথা হচ্ছিল মো. সুলতানের সঙ্গে। তাঁর বাড়ি বুচিডংয়ের সাহাব বাজারে। পেশায় কৃষক। সপ্তাহখানেক আগে বাংলাদেশে ঢুকেছেন। তিনি বলছিলেন, সেনাসদস্যরা প্রথমে ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে দা, বঁটি, ছুরি এসব নিয়ে যান। যারা বিত্তবান তাদের টাকা-পয়সা, গয়নাগাটি, চাল লুটের পর নারীদের তুলে নিয়ে গেছেন। গ্রামের হুক্কাটার (চেয়ারম্যান) মেয়েকেও ছাড়েনি। পুরুষদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে নারীদের ওপর জুলুম করেছে। তারপর সবার চোখের ওপর দিয়ে নারীদের ক্যাম্পে তুলে নিয়ে গেছে। কোথায়, কীভাবে আছে কেউ জানে না।

টেকনাফের একটি ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া অলি আহাদ ওরফে কালা বদা দুই ছেলে চার মেয়ের জনক। মংডুর গজরবিল থেকে এসেছেন। বলছিলেন, অবিবাহিত দুই মেয়েকে নিয়ে নিজের বাড়ি ছেড়েছিলেন ‘মেলেটারি’ আসছে সে খবর পেয়েই। তিনি নিজের চোখে দেখেছেন, সেনাসদস্যরা কীভাবে পরিবারের অন্য সদস্যদের সামনে নারীদের শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিচ্ছে। গ্রামের পর গ্রাম মানুষের মুখে তিনি একই গল্প শুনেছেন। তিনিও পাগলের মতো মেয়েদের হাত ধরে পার হয়েছেন একটির পর একটি গ্রাম। শেষ পর্যন্ত মেয়েদের রক্ষা করতে পেরে পানের বরজ, ২০ হাঁড়ি ধান, পাঁচ কামরার বাড়ি আর গরু-ছাগলের শোক ভুলেছেন। তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘বর্মার মেলিটারি এত হরাপ (খারাপ) যে উগ্গা ফুয়া তার মা’র হতা, বাইয়ে বইনের হতা, বাপে মেলাফোয়ার কথা, জামাই-বউর হতা ক্যাঙ্গরি খইত?’ (মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এত খারাপ যে তারা বাবার সামনে মেয়েকে, ছেলের সামনে মাকে, ভাইয়ের সামনে বোনকে, স্বামীর সামনে স্ত্রীকে নির্যাতন করেছে। নির্যাতিতরা সে কথা কীভাবে বলবে?

এই পোস্ট লেখার উদ্দেশ্য আপনার সাহায্য পাওয়া, যত সামান্যই পারেন, আপনার দেয়া সামান্য ৫০-১০০ টাকাও তাদের জীবন বাচাবে। ক্লিক করুন এখানে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:৩৯
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সুস্থধারায় ফিরছে রাজনীতি; আম্লিগের ফেরার পথ আরো ধূসর হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১০


গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে একে অপরের মধ্যে কোথাও কোথাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশে টেকসই পরিবর্তন আনতে এই 'প্ল্যান'-গুলো আমাদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর লিস্টে আছে কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



আসসালামু আলাইকুম।
দেশে টেকসই পরিবর্তন আনতে নিচের বিষয়গুলোর উপর নজর দেওয়া জরুরী মনে করছি।

প্ল্যান - ১
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রত্যেকটিতে গবেষণার জন্যে ফান্ড দেওয়া দরকার। দেশ - বিদেশ থেকে ফান্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়া মন্ত্রীসভা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৮

ছায়া মন্ত্রীসভা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত !



বাংলাদেশে নূতন ভাবে এই প্রসঙ্গটি আসতে শুরু করছে ।
আমাদের আইনে এই ব্যাপারে নির্দিষ্ট কিছু আছে কিনা জানা নেই । তবে বিরোধী দল সংসদে
তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পবিত্র হজ্জ্ব- ২০২৫ এর মায়াময় স্মৃতি….(৮)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

আমরা ০৯ জিলহজ্জ্ব/০৫ জুন রাত সাড়ে দশটার দিকে মুযদালিফায় পৌঁছলাম। বাস থেকে নেমেই অযু করে একসাথে দুই ইকামায় মাগরিব ও এশার নামায পড়ে নিলাম। নামাযে ইমামতি করেছিলেন আমাদের দলেরই একজন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যাসিবাদের নতুন ধরন - জুলাই মাসে কই ছিলেন?

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬

১।

জুলাই মাসে কই ছিলেন – গত দেড় বছর ধরে অনলাইনে এই এক প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি বহুবার। এই প্যাটার্নের প্রশ্ন, অভাগা দেশে বারবার ফিরে আসে। শেষমেশ এই ধরনের প্রশ্নগুলোই নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×