somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনি এখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ পশ্চাৎমুখী

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ সকাল ১১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনারা যে যাই বলুন না কেন, সমস্ত দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে।

একজন প্রধানমন্ত্রীর কাজ শুধু কেদারা গরম করা নয়, জাতির অভিভাবক হিসেবে সব দায়িত্ব তার উপরই বর্তায়। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে উনি বর্তমান সময়টাকে ঠিক গুরুত্ব দিচ্ছেন না অথবা এই সময়ের গুরুত্ব বোঝার সামর্থ উনার নেই। শুনেছি বিরোধী দলীয় নেত্রী অশিক্ষিত, ফকিন্নির জাত, স্বামীর অকাল মৃত্যুকে তার কপাল খুলেছে, তিনি যদি এই ধরনের কাজ করতেন তাহলে সেটা খুবই স্বাভাবিক হত এবং তিনি ২০০৬ সালে যথারিতি তা করেছেনও। কয়েক সপ্তাহ আগেই যখন জনগন সংলাপ এর জন্য মুখিয়ে ছিলেন, সে সময় প্রধানমন্ত্রীর ডাকে বিরোধীদলীয় নেত্রী তো সাড়া দেননি বরং যথেষ্ট ছোটলোক ষ্টাইলে ঝগড়ায় মেতেছিলেন। আহব্বান শেষে জামায়তের দোহায় দিয়েছেন, ১৬বছরের তরুণী ধর্ষনের মত তার ফোনালাপ প্রকাশে প্রলাপ করেছেন, নেতা নেত্রীর হয়রানীর ব্যকুলতা প্রকাশ করেছেন এবং অবশেষে সংলাপের আহব্বান অলিখিতভাবে প্রত্যাক্ষান করেছেন। এবং সবচেয়ে মজার ব্যাপার এই বিষয়টি আমাদের তেমনভাবে পিড়া দেয়নি, কারন আমরা জানি উনি তো . . . .

কিন্তু মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আপনি তো অনেক শিক্ষিত এবং উচ্চ বংশের মেয়ে এবং উচ্চ বংশের বউ, শুধু তাই নয় আপনার গর্ভের সন্তানগুলিও অনেক শিক্ষিত করেছেন, অথচ তারা চোর হতে পারত, দেশের টাকা চুরি করে বাইরে পাচার করতে পারত, জাতীয় কমিশনখোর হতে পারত। আপনার পরিবারের ক্ষেত্রে আপনি ঠিকই স্বকীয়তা মেনে চলেছেন অথচ আমাদের ক্ষেত্রেই আপনার সামনে বাধা হয়ে দাড়ায় দেশের সংবিধান (যা আপনিই সংশোধন করেছেন), আপনার জেদ, রাজনৈতিক জয়-পরাজয় ইস্যু।

আপনার পরিবারের উন্নয়নের সামনে যদি কোন বাধা আসতো আপনি কি পারতেন এই রকম জেদ করে বসে থাকতে? যদি আপনার সন্তানেরা খাবার না পেত, স্কুলে না যেতে পারত, রাস্তায় নামলেই পেট্রোল বোমায় পুড়ে মারা যাবার শংকা থাকত, তবে আপনি কি করতেন?

আসলে আপনি আমাদের নিজেদের সন্তানের মনে করতে পারেন না। হয়ত এই বাঙ্গালীই আপনার পিতা বঙ্গবন্ধুর খুনী, কিন্তু তাদের বিচার তো আপনি আপনার সময়ে করেছেন। তবে কিসের এত প্রতিহিংসা?

আমরা তারানতো, পংকজ শরন, মজিনা, নিশা দিসাই কাউকেই চিনি না। আমাদের কাছে আপনিই আমাদের নিশা, রাষ্ট্রপতি আমাদের তারানকো। যা কিছুই হোক, আপনাদের কথাই আমাদের কাছে সর্বচ্চ এবং সামগ্রীকভাবে গ্রহনযোগ্য।

প্রতিদিনই শত শত মানুষ আহত হচ্ছে এবং কেউ না কেউ নির্মম মৃত্যু বরন করছে। আপনি বলছেন, বিরোধী দলীয় সন্ত্রাসীরা করছে, বিরোধী দল বলছে সরকার দলীয় ক্যাডাররা করছে। উভয় দলই ফেইসবুক ব্লগে বিভিন্ন ছবি দিয়ে প্রমান করার চেষ্টা করছে আসলে দোষটা কার। কিন্তু কেউই এই পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করছে না। আপনাদের হিংসা-প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে আমরাও কেমন যেন কঠোর হয়ে গেছি। কেউ পেট্রোল বোমায় পুড়ে গেলে বা মারা গেলে আমরা হায় হায় করি না। আমরা এক পক্ষ বলি " দে নৌকায় ভোট দে, বার বার বলেছিলাম" আরেকপক্ষ বলে দেখছিস" ক্ষমতায় না আসেই এই অবস্থা, আসলে কি হবে চিন্তা করে ভোট দিস"।

আপনি কি আসলেই অনুধাবন করতে পারছেন না, দেশের মানুষ কি পরিমান দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে? তেপন্তরের চাষী থেকে শুরু করে রাজধানী ঢাকার কোটিপতি ব্যবসায়ী পর্যন্ত, প্রত্যেকরই দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। সারা দেশে পন্যের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে, ফলে প্রতিটি উৎপাদন মুখী কারখানায় উৎপাদিত পন্য নষ্ট হচ্ছে, ক্ষতি হচ্ছে কার? আপনার কি মনে হয় শুধু ঐ মালিকের ক্ষতি? দেশের কোন ক্ষতি হচ্ছে না? হরতাল অবরোধে দেশের প্রধান দুইটি চ্যানেল প্রায় বন্ধ, একটি হচ্ছে কাচামাল সরবরাহ এবং অন্যটি বিক্রয়-বিপনন। এই দুইটি প্রক্রিয়া বন্ধ মানে কার্যত দেশ এক ইঞ্চিও এগুচ্ছে না বরং ক্রমাগত পেছাচ্ছে।

"আপনি এখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ পশ্চাৎমুখী" অন্তত এই দায়ভার আপনি কাওকে দিতে পারবেন না। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের যে কোন পরিস্থিতির জন্য আপনিই দায়ি, শুধুই আপনি। আপনার কোন অজুহাতই আমরা মেনে নিব না।

যদি আপনার কিছু করতে না পারেন, দেশের জনগনই করবে। আপনাদের বা বিরোধীদলের জনগন না, এই দেশের আপামর সাধারন জনগন।

৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুখে ঠোঁটে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


এই সমগ্র বাংলাদেশে- এখন
ইরি ধানে ধানে সবুজ ছুঁয়ে গেছে;
মাঠে মাঠে পাখিদের নব আনন্দে
হেসে ওঠছে লাল সবুজের প্রাণ;
ফসল পাকবে সমগ্র মাঠে মাঠে
সুখে সমৃদ্ধি হবে জীবন সংসারে
কৃষকের প্রত্যায়শা ভরে তুলবে
গোলা ভরা ধান... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাঁজা বৃতান্ত

লিখেছেন মুনতাসির, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৪

গাজা নিয়ে আমাদের মধ্যে বিশেষ অনুভূতির নাম হলো—এরা গাজাখোর। ব্যাপারটা এমন যেন বিশেষ কোনো শ্রেণি। না, আমি গাজা নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি না। কিন্তু গাজা নিয়ে আমাদের দেশে যেভাবে আলোচনা, জেল-জরিমানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিয়া ও খালেদাকে নিয়ে বিষোদগার করা চুপ্পু হঠাৎ কেন তারেকের প্রশংসায় গদগদ, তারেকে মুগ্ধ!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯


২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক কালের কণ্ঠে “চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি” পরে ২৪ ফেব্র্রুয়ারি “রাষ্ট্রপতির আরো বিস্ফোরক তথ্য” শিরোনামে সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। এখানেও তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের ভূয়সী... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমযানে ২৪ ঘণ্টার আদর্শ রুটিন

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

রমযানে ২৪ ঘণ্টার আদর্শ রুটিন

ছবি সংগৃহিত

রমযান মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বরকতময় মাস। এ মাসে আল্লাহ তায়ালা সিয়ামকে ফরয করেছেন এবং কুরআন নাযিল করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন:

شَهۡرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِيٓ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউনুসনামা-২

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৫২



ইউনুস সরকার তাঁর আমলে যে ডিভাইড এন্ড রুলের নীতি গ্রহণ করেছিল, এর প্রভাব রাজনৈতিক অঙ্গনে যে ভয়া*বহভাবে পড়েছিল, এর চেয়ে কম ভয়া*বহ প্রভাব পড়েনি আমাদের সামাজিক অঙ্গনে। সামাজিক ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×