somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুরনো সেই দিনের কথা

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ বিকাল ৩:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোট বেলার ছবি আমার খুব কম। প্রথমটায় বয়স কত ছিল? জানিনা। তবে, খুব দুষ্টু ছিলাম। সবাই তাই বলে। হাসিটা এখন আর আগের মত নেই। বদলে গেছে। বদলে গেছে অনেক কিছু আমার। তবে, ভেতরটা এখনো ঐ হাসিতে উদ্ভাসিত। এখনও টম এন্ড জেরী দেখে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাই। এখনও, মানুষের মজার বিপদ দেখলে অন দ্যা স্পটে হাসিতে ফেটে পড়ি! কিছুটা ছেলেমানুষী ব্যবহার আমার এখনও আছে। বায়না ধরে কান্নার রিহার্সেল নেই; তবে, কারনে-অকারনে নির্জনে কাঁদার অভ্যেস তৈরী হয়েছে।

দ্বিতীয় ছবিটা স্কুল লাইফের। কাশ টেন। এ সময়টায় প্রথমবারের মত লম্ফ দিয়ে 2 থেকে 6 এ চলে গেছিলাম। যদিও কখনোই পজিশন নিয়ে পড়ালেখা করিনাই। প্রতিদিন দেড় ঘন্টা লেখাপড়া করতাম। তাও দাদার চুল ধরে ঝাকানোর ভয়ে। পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট এর জন্য কখনোই পড়ি নাই। তারপরও দ্বিতীয় স্থানটি আমার জন্য বরাদ্ধ থাকতো। প্রথম জনকে একবারই টপকেছিলাম। এরপর আর পারি নাই। ও একটা রোবট ছিল। স্বার্থপর রোবট। ডি.ইউ'তে পড়ছে। এখনো তেমনই আছে। ওর স্বার্থপরতার প্রতিশোধটা নিয়েছিলাম চরম ভাবে। কখনোই ভাবতে পারিনি ছোট্ট খেলাটা এতটা বিপদজনক হবে। স্কুল স্পোর্টসের ভলান্টিয়ার ছিলাম। যারা ভলান্টিয়ার ছিল, তাদেরকে রাতে স্কুলে থাকতে হবে। সো, আমরা হাজির হয়েছিলাম সবাই। রোল নাম্বার ওয়ান ওরফে হাবুরাম ওরফে হাদিও সাথে ছিল। আগেই বলেছিলাম, কাউকে ঘুমাতে দেয়া হবে না। যে ঘুমাবে তার খবর আছে। এজন্য সবাই কল ব্রিজ খেলছিলাম। এদিকে স্বার্থপর রোবটটা ঘুমিয়ে অচেতন। তিনজনকে তিন রকম দায়িত্ব নিতে হলো। স্কাউট, তাই দড়ির গিট বাঁধা কোনো ব্যাপারই না আমার কাছে। লুঙ্গী উঠিয়ে কলমের সাহায্যে গিট দিলাম জায়গামত। আরেকজন ফ্যানের পাখায় দড়ি বাঁধলো। বাকীজন ফ্যানের সুইচ অন করলো। আর যায় কোথায়। ও মাগো বলেই যে একটা চিৎকার দিল তাতে সবার বুকের আত্মা কেঁপে গেছে। ফ্যান বন্ধ করা হয়েছে তারপরও ফ্যান ঘুরছে। আমি চেয়ারের উপর উঠে হাত দিয়ে তা বন্ধ করলাম। গিঁট খুলে দিল একজন। দেখলাম, ও ব্যাটা মুখে ফেনা তুলে অজ্ঞান হয়ে গেছে। চোখ মুখে পানি দিয়েও ওর জ্ঞান ফেরানো গেলনা। পরে বাথরুমে নিয়ে ইচ্ছামত ভিজালাম। কি করবো, কি করবো না ভাবতে ভাবতে সবার মুখ ছাই বর্ণ। আধ ঘন্টা পর চোখ খুললো ব্যাটায়। খুব দূর্বল কন্ঠে জিজ্ঞাসা করলো- 'আমার কি হইছে, আমি কোথায়?'

আজ পর্যন্ত হাদি জানেনা সে রাতে তার কি হয়েছিল। আমরা কেউই তাকে কখনো বলিনি। শুধু ঘটনাটা মনে করে মনে মনে হেসেছি। টেন এর শেষে কিছুটা স্থিতি চলে এসেছিল। কিছুটা ভাবও সাথে টেনেছিলাম। পিছে কেউ থাকলে ছেলেরা নাকি কিছুটা চেঞ্জ হয়; আমার বেলায় ঠিক তাই হয়েছিল। এখন আবার কিছুটা ছন্নছাড়া হয়েগেছি। দেখলাম, ছন্নছাড়া জীবনই আসল জীবন। এ জীবনে কোনো অপেক্ষা নেই, কোনো কষ্টও নেই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধার-দেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল কেন গুরুত্বপূর্ণ

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৭



ব্যক্তিগতভাবে আমি কাউকে টাকা ধার দেওয়ার পক্ষপাতী নই। কারণ বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ধার দেওয়া টাকা সময়মতো বা সম্পূর্ণ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক ক্ষেত্রেই কম থাকে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনশন আপডেট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:০৭

আগামী শুক্রবার জাতীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ব্যারিস্টার সুমন ভাইয়ের মুক্তির দাবীতে ১ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি করার লক্ষ্য স্থাপন করেছি। এই ১ ঘণ্টা আমি কোন খাবার বা পানীয় গ্রহণ করবো না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×