ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার
দেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত 14-দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে জামায়াত নীতি নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশ্য বিভক্তি দেখা গিয়েছে। অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লৰ্যে দাতাদের আহ্বানে গত 7 আগস্ট ঢাকার লেক শোর হোটেলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে এ বিভক্তি লৰ্য করা যায়। উলেস্নখ্য, এ সভায় দাতাদের আহ্বানে প্রায় সবগুলো বড় রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করলেও জামায়াত নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে বাম নেতারা এ আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেননি। তবে প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ এতদিন নির্বাচনী সংস্কার প্রসঙ্গে সম্ভাব্য সংলাপে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না বলে যে অনড় অবস্থানে ছিল, দাতাদের আহ্বানে আলোচিত লেক শোর হোটেলের আলোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দলটি হয়তো বলতে চাইল, জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচন প্রাসঙ্গিক আলোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাদের উলেস্নখযোগ্য আপত্তি নেই। কারণ, এ আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী দলগুলো নির্বাচন নিয়েই আলোচনা করেছেন।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের প্রাক-নির্বাচনী জামায়াত নীতি জরিপ করলে প্রতীয়মান হয় যে এ নেতৃত্ব হয়তো এমন অবস্থান নিতে যাচ্ছেন যে, বিএনপি ডাকলে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনায় বসা যাবে না, তবে দাতারা ডাকলে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তাদের আপত্তি থাকবে না। তা নাহলে নির্বাচনী সংস্কার প্রসত্দাব প্রসঙ্গে এত টালবাহানা ও চিঠি চালাচালি করেও যখন তারা জামায়াতকে নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় না বসার অবস্থানে অনড় ছিলেন, তখন দাতাদের আহ্বানে সেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বই হঠাৎ আবার জামায়াতের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দিলেন যে! ব্যাপার কি? বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বললে কি জামায়াত যুদ্ধাপরাধী হয়, আর দাতারা আলোচনায় আহ্বান করলে কি জামায়াতের যুদ্ধাপরাধ ধুয়ে মুছে যায়? উলেস্নখ্য, আলোচিত আলোচনা অনুষ্ঠানে নির্বাচন স্বচ্ছকরণে দাতাদের উপস্থাপিত চার দফা দাবির মধ্যে ছিল স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেৰকদের সহযোগীতা, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অনেক বিদেশী পর্যবেৰকদের উপস্থিতি, জনগণ ও গণমাধ্যমকে নির্বাচন পর্যবেৰণের ফলাফল জানানো, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পর্যবেৰকদের সমন্বয় প্রক্রিয়াকে সচল রাখা, এবং ভোটদান প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশিস্নষ্টদের সচেতন করা। দাতাদের এসব প্রসত্দাব বিশেস্নষণ করলে দেখা যায় যে বিরোধী দলের সংস্কার প্রসত্দাবে যেসব প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়েছে সেসব দাবি দাতাদের প্রদত্ত চার দফায় স্থান পায়নি।
স্মর্তব্য, বিরোধী দল উপস্থাপিত সংস্কার প্রসত্দাবের উলেস্নখযোগ্য দাবির মধ্যে নির্বাচন কমিশনের একটি স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং এ সচিবালয়কে আর্থিকভাবে স্বাধীন করা, ঋণখেলাপি ও কালো টাকার মালিকদের নির্বাচনে প্রার্থী হবার অযোগ্য ঘোষণা করা, নির্বাচনের সময় সর্বদলীয় পর্যবেৰণ দল গঠন এবং এসব দলের নির্বাচনের অনেক আগে থেকে কাজ শুরম্ন করা; নির্বাচন পরিচালনার জন্য নিযুক্ত প্রিজাইডিং, সহকারি প্রিজাইডিং এবং পোলিং অফিসারদের নাম ভোটের আগে প্রার্থীদের কাছে সরবরাহ করা, সরকারি চাকুরি বিধির ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে না দেওয়া, যুদ্ধাপরাধীদের নির্বাচনে প্রার্থী হতে না দেওয়া, সকল দলের কাছে গ্রহণযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান নিয়োগ দেওয়া, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগও সব দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে দেওয়া, প্রতিরৰা বিভাগকে রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ন্যসত্দ করা, প্রভৃতি দাবি ছিল অন্যতম। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে দাতাদের প্রসত্দাবিত চার দফায় এসব দাবি স্থান পায়নি এবং এসব দাবির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রসত্দাবিত 4-দফায় কোনো মনত্দব্যও করা হয়নি।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব কি জানতেন না যে দাতাদের আহ্বানে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচন প্রাসঙ্গিক আলোচনায় যোগ দিলে তাদের এতদিনের জামায়াতবিরোধী অবস্থান দুর্বল হয়ে যাবে। 14-দলীয় জোটের কট্টর জামায়াতবিরোধী বাম দলগুলোর সঙ্গেও তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে। বিচৰণ আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব নিশ্চয়ই সেসব জানতেন। প্রশ্ন হল তাহলে তাঁরা কেন এমন একটি আলোচনা সভায় যোগ দেবার সিদ্ধানত্দ নিলেন? আসলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব সংস্কার প্রসত্দাব নির্মাণ করার সময় যেভাবে হিসাব-নিকাশ করেছিলেন, যে ফমর্ূলায় রাজনৈতিক অঙ্ক কষেছিলেন, রাজনীতির পরবর্তী গতিধারায় সেসব অঙ্ক না মেলায় তাঁদেরকে হয়তো অবস্থান পরিবর্তন করতে হচ্ছে। তারা হয়তো ভেবেছিলেন যে সংস্কার প্রসত্দাবের পৰে তারা ব্যাপক গণসাড়া জাগাতে পারবেন এবং সপ্তম সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি সরকারর বিরম্নদ্ধে জনগণকে আন্দোলনে উস্কে দিতে যেভাবে সমর্থ হয়েছিলেন, এবারও হয়তো তারা তা করতে পারবেন, এবং সরকারকে চাপে ফেলে কাবু করে বেশ কিছু দাবি আদায় করে তাদের নির্বাচনী সংস্কার আন্দোলনকে বিজয় হিসাবে দেখিয়ে সে পূজিকে নির্বাচনে এগিয়ে যেতে কাজে লাগাতে সফল হবেন। কিন্তু তাদের সে হিসাব মেলেনি।
সংস্কার প্রসত্দাব ও আন্দোলনের কৌশল নির্মাতারা 1996 সালের নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতি আর বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতির মধ্যকার ব্যবধান অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তারা আরো ভুলে গিয়েছিলেন যে 1996-এর বিএনপিবিরোধী আন্দোলনে তারা জামায়াত এবং জাতীয় পার্টির সমর্থন পেয়েছিলেন। বর্তমান সরকারের বিরম্নদ্ধে আন্দোলন শানাতে তারা যে 13 দলের সমর্থন পাচ্ছেন সে দলগুলো জামায়াত বা জাতীয় পার্টির মত শক্তিশালী দল নয়, সাংগঠনিকভাবে এ দলগুলো উলিস্নখিত দলদুটোর চেয়ে অনেক দুর্বল। সংস্কার প্রসত্দাব রচনার সময় তারা হয়তো ভেবেছিলেন যে নির্বাচন দ্বারপ্রানত্দে এলে এরশাদকে 14-দলীয় জোটে ভিড়িয়ে তারা জোটের শক্তিবৃদ্ধি ঘটাবেন, কিন্তু সে অঙ্কও মেলার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে আওয়ামী লীগ নীতি নির্ধারণী নেতৃত্বে হয়তো কিছুটা হতাশা দেখা দিয়েছে। এ হতাশা আরো গভীর হয় আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের মধ্য ও দৰিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিচার্ড বাউচারের ঢাকা সফরে। এ সফরকালীন সময়ে বাউচারের বক্তব্য থেকে বিরোধী দলীয় আন্দোলন বা অবস্থান তেমন কোনোই সমর্থন পায়নি। জনাব বাউচার তার বক্তব্যে বিরাজিত রাজনৈতিক অচলাবস্থা দূর করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার গুরম্নত্ব উপস্থাপন করে বলেন, আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে সাংবিধানিক ধারা অনুসরণ করাই শ্রেয়। তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তির প্রশংসা করে বলেন যে, জামায়াতের সঙ্গে বোমা হামলার সংশিস্নষ্টতার কোনো প্রমাণ তারা পাননি। কাজেই জনাব বাউচারের বক্তব্য থেকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব তাদের অবস্থানগত কোনো সমর্থন তো পাননি, পরিবর্তে যে জামায়াতকে আওয়ামী লীগ সব সময় বক্তব্য-বিবৃতিতে বোমাবাজ ও জঙ্গিদের মদদদাতা বলে অভিহিত করছিলেন, জনাব বাউচারের বক্তব্যে সে জামায়াতকে বোমা হামলার সঙ্গে সংশিস্নষ্টতার অভিযোগ থেকে মুক্ত করে আওয়ামী লীগের জামায়াতবিরোধী অবস্থানকে আরো দুর্বল করে দেওয়া হয়।
বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দেখছে যে একদিকে তারা তাদের আন্দোলন কর্মসূচীর মাধ্যমে সরকারের বিরম্নদ্ধে প্রত্যাশিত গণজাগরণ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছেন, অন্যদিকে এরশাদও তাদের হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় ভোটের রাজনীতির হিসাব নিকাশের চিত্র পাল্টে দিয়েছে। তাদের কাংখিত মহাজোটের সঙ্গে বিকল্প ধারা বা ঐ আকৃতির আরো দুচারটি দল যদি যোগও দেয় তাহলেও নির্বাচনী ফলাফলে তা বিরাট ব্যবধান ঘটাতে সৰম হবে বলে প্রতীয়মান হয় না। দেরিতে হলেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব হয়তো বুঝতে পেরেছে যে পৌণে পাঁচ বছর দলীয় সাংগঠণিক কাজে ঢিল দিয়ে তারা সরকার-পতন আন্দোলন করার যে সিদ্ধানত্দ নিয়েছিলেন তা সঠিক ছিল না। কারণ, এ আন্দোলন করে তারা না পেরেছেন সরকারকে কাবু করতে, না পেরেছেন দলীয়ভাবে লাভবান হতে। পরিবর্তে 30-এপ্রিলের তারিখ বেঁধে দেওয়া সরকার-পতন আন্দোলন জাতিয় কর্মসূচি তাদের নেতা-কর্মীদেরকে হতাশায় নিমজ্জিত করে দলের উলেস্নখযোগ্য ৰতি করেছে।
ইতিমধ্যে 14-দলীয় নেতাদের হাতের আন্দোলনের ট্রাম্পকার্ডগুলোও এক এক করে শেষ হয়ে এসেছে। 21 আগস্টের জনসমাবেশে গ্রেনেড হামলা, আহসানউলস্না মাস্টার হত্যাকান্ড, কিবরিয়া হত্যাকান্ড, আগস্টে দেশব্যাপী জঙ্গিদের সিরিজ বোমা হামলা, প্রভৃতি বড় বড় ইস্যুকে কেন্দ্র করে তারা যেসব আন্দোলন কর্মসূচি শানিয়েছিলেন সেসব আন্দোলন কর্মসূচীর একটিকেও তারা দীর্ঘায়িত করতে পারেননি। এসব আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়ে তা থেকে রাজনৈতিক ফায়দা উঠাবার কাজটিতে তারা সফল হতে পারেননি। তারা মাঝে-মধ্যে যেসব হরতাল কর্মসূচি দিয়েছেন সেসব হরতালও গতানুগতিক ভঙ্গিমায় দায়সারাভাবে পালিত হয়েছে। মানব বন্ধন, পদযাত্রা, প্রভৃতি কর্মসূচি জনগণের প্রশংসা পেয়েছে ঠিকই, তবে এসব কর্মসূচি নেতা-নেতৃদের শারিরীক ফিটনেস বাড়ালেও দলকে রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে খুব একটা সাহায্য করতে পারেনি। এমতাবস্থায় নির্বাচন দোড়গোড়ায় চলে আসায় 14-দলীয় নেতৃত্ব বুঝতে পেরেছেন যে পৌণে পাঁচ বছরে বড় বড় ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন করে যেখানে তারা সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য বা রাজনৈতিকভাবে খুব একটা বেকায়দায় ফেলতে পারেননি, সেখানে আগামী তিন মাসেও হয়তো তারা এ ব্যাপারে উলেস্নখযোগ্য সফলতা পাবেন না। একথা স্পষ্ট যে সরকারের মেয়াদকালীন সময়ে যদি বিরোধী দলীয় জোট তাদের সংস্কার দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয় তাহলে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ৰমতায় এলে সে অস্থায়ী সরকার নির্বাচনী প্রসত্দুতির ব্যসত্দতার মাঝে এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে তাদের দাবি-দাওয়ার প্রতি মনোযোগী হবে বলে মনে হয় না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ৰমতা যেহেতু সংবিধানে উলেস্নখিত আছে এবং যেহেতু এ সরকারের বড় ধরনের নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধানত্দ গ্রহণের ৰমতা নেই, কাজেই 14 দলের যেসব দাবি বাসত্দবায়নে সাংবিধানিক সংস্কার প্রয়োজন, যেমন সেনাবাহিনীর কতৃত্ব তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার হাতে দেওয়া; অথবা যেসব দাবি বাসত্দবায়নে দীর্ঘ সময় দরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পৰে সেসব দাবির প্রতি মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হবে না। আর ঐ রকম গুরম্নত্বপূর্ণ সময়ে নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচন, প্রচারণা কৌশল নির্মাণ, প্রভৃতি কাজে বেশি সময় না দিয়ে দাবি আদায়ের দিকে মনোযোগী হওয়া হয়তো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। ফলে 14-দলীয় নেতৃত্ব এখন যতটা আন্দোলনের কথা ভাবছে, তার চেয়ে বেশি ভাবছে নির্বাচনের কথা। সাংগঠনিক তৎপরতায় এগিয়ে থাকা 4-দলীয় জোটকে নির্বাচনী প্রচারণায় মোকাবেলা করতে হলে যে ব্যাপক প্রসত্দুতি দরকার, সরকারবিরোধী আন্দোলন বা দাবি আদায়ের আন্দোলনের চেয়ে এখন সে প্রসত্দুতি গ্রহণেই 14-দলীয় নেতৃত্বের মনোযোগ বেশি। এ নেতৃত্ব হয়তো বুঝতে পেরেছেন যে আন্দোলন করতে যেয়ে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে, এখন একশত ভাগ নির্বাচনমূখী হয়ে কিভাবে নির্বাচনে ভাল করা যায় সেদিকে মনোযোগ দেওয়া ভাল হবে। এ কাজ সম্মিলিতভাবে ঝাপিয়ে পড়ে পরিকল্পিতভাবে এখনই শুরম্ন না করলে ওয়াশিংটন থেকে মাঝে-মধ্যে জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় এসে আমাদেরকে নির্বাচনী বৈতরণী পার করাতে পারবেন না।
আওয়ামী লীগ থেকে গত পৌণে পাঁচ বছরে জোট সরকারের পতন ঘটাতে, বা এ সরকারকে অজনপ্রিয় করতে যেসব পরিকল্পনা করা হয়েছিল সেগুলো খুব একটা কাজ করেনি। 4-দলীয় জোটে, বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত সখ্যতায় ভাঙ্গণ সৃষ্টির যাবতীয় কলাকৌশলও ব্যর্থ হয়েছে। জোটে ভাঙ্গনের পরিবর্তে বোঝার ওপর শাকের আটির মত যুক্ত হতে যাচ্ছে এরশাদের জাপা। এতে জোটের শক্তি আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করার সঙ্গত কারণ আছে। নির্বাচন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করাও খুব একটা সম্ভব হয়নি, আর আগামী 3 মাসে এমন কিছু সম্ভব হবে বলেও মনে হচ্ছে না। সরকারের ব্যর্থতাকে জোরেশোরে উলেস্নখ করে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য বা রাজী করিয়ে একটা জাতীয় সরকার গঠন করে সে সরকারে শরিক হয়ে ৰমতার স্বাদ গ্রহণের স্বপ্ন যারা দেখেছিলেন, তারাও বুঝতে পেরেছেন যে সে স্বপ্ন বাসত্দবায়িত হবার নয়। এসব যাবতীয় পরিকল্পনার ব্যর্থতা এবং চতুমর্ুখী হতাশার মধ্যে একটিই লৰ্য এখনো সামনে আছে, আর তা হলো আসন্ন নির্বাচন। ফলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হলে এখন 14-দলীয় জোটের নির্বাচনমূখী হওয়া ছাড়া আর কোনোই পথ খোলা নেই্ । যদি বুঝাও যায় যে নির্বাচনে খুব ভালো ফল করা যাবে না, তাহলেও এখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।
14-দলীয় জোট নেতারা এও উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে জামায়াত যতই যুদ্ধাপরাধী হোক না কেন গত 35 বছরে এ দলের প্রতি বিভিন্ন সময়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গী ও আচরণ মূল্যায়ন করে দেশবাসী তাদের প্রসত্দাবিত 'জামায়াতের সঙ্গে আলোচনায় বসা যাবে না' দাবির সঙ্গে একাত্মতা দেখাতে পারছেন না। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, বিএনপিবিরোধী আন্দোলন জামায়াতকে নিয়ে একসঙ্গে করে, সংসদে, সংসদীয় কমিটিতে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আপত্তি না করার পর শুধু নির্বাচনী সংস্কার প্রসঙ্গে তাদের সঙ্গে আলোচনায় না বসার অযৌক্তিক দাবি যে একটি নির্বাচনপূর্ব অচলাবস্থা সৃষ্টির পরিকল্পিত অছিলা ছিল তা আরো পরিষ্কার হয়েছে 7 তারিখে লেক শোর হোটেলে দাতাদের আহ্বানে একটি নির্বাচন প্রাসঙ্গিক আলোচনা অনুষ্ঠানে জামায়াতসহ বিভিন্নদলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যোগ দেওয়ায়। উলেস্নখ্য, এ আলোচনায় দাতাদের মধ্যে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া, ইসির রাষ্ট্রদূত এবং দাতাদের সাহার্য সংস্থার মধ্য থেকে ডিএফআইডি, ইউএনডিপি, ইউএসআইডি, কানাডিয়ান সিডা, এনডিআই এবং এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা যোগ দেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, বিকল্প ধারা, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ প্রভৃতি দলীয় নেতারা যোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য প্রদান ও নির্বাচন প্রসঙ্গে মতামত বিনিময় করেন। এ আলোচনায় আওয়ামী লীগের পৰ থেকে যোগ দেন জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত, সাবের হোসেন চৌধুরী, মহিউদ্দিন খান আলমগীরসহ প্রায় 8/9 জন দলের উচ্চ পর্যায়ের সম্মানিত নেতা। জামায়াতের পৰ থেকে যোগ দেন দলীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জনাব কামরম্নজ্জামান ও ব্যারিষ্টার আবদুর রাজ্জাক। অন্যান্য দলের পৰ থেকেও গণ্যমান্য নেতারা এ আলোচনায় অংশ নিয়ে তাদের বক্তব্য প্রদান এবং নির্বাচন প্রসঙ্গে মতামত বিনিময় করেন। এ আলোচনায় বিএনপি-জামায়াত নেতারা ছাড়া অন্য দলীয় নেতারা নির্বাচন কমিশনের ওপরে জনগণের আস্থাহীনতার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয় বলে উলেস্নখ করেন। জামায়াতের পৰে এ আলোচনায় বক্তব্য দেন জনাব কামারম্নজ্জামান। কাজেই 7 আগস্টে দাতাদের আহ্বানে রাজধানীর লেক শোর হোটেলের আলোচনা সভায় জামায়াতসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে নির্বাচন প্রাসঙ্গিক আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব তাদের জামায়াতবিরোধী অনড় অবস্থানকে কিছুটা নমনীয় করেছেন বলে রাজনৈতিক বিশেস্নষকদের কাছে মনে হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনায় বসা যাবে না, বা যুদ্ধাপরাধীরা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবে না বলে বিরোধী দলের দেওয়া দাবি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ হয়তো কিছুটা নমনীয় ভূমিকা নিতে পারে। এর ফলে সকল দলের অংশগ্রহণে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা কিছুটা উজ্জ্বল হলেও কট্টর জামায়াতবিরোধী 14-দলীয় বাম নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের অবস্থানগত দূরত্ব রচিত হয়েছে।
সুত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক
তাহলে আওয়ামীলীগের এই জামায়াত বিরোধীতা একটি নাটক???????????
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




