somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুন্দরবনের মানুষ খেকো বাঘ: ১ম পর্ব (দ্বিতীয় পর্ব কবে আসে ঠিক নাই)

২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৪:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেজেন্ড: লাল= কোর জোন; সবুজ= বাফার জোন
বাংলাদেশ ও ভারতের সীমানার কাছে ভয়াবহ এক ঘটনা একটি পরিবারকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিবে, এবং আনবে ভয়, লোকজনের মধ্যে যারা বাস করে বিশাল এক জলা ভুমি সুন্দরবনে। এটি একটি ভয়ংকর এবং অনিশ্চিত জায়গা। পুরো চার হাজার বর্গমাইল দুর্গম এলাকা হচ্ছে একদল ভয়ংকর প্রাণীর শিকার স্থল। বেঁচে থাকার জন্য এখানে বাস করা চল্লিশ লক্ষ মানুষের অনেকেরই সুন্দর বনের কোর রিজার্ভ (অন্তঃস্থল) এ যেতে হয়। এটা শিকারী প্রাণীদের অভয়ারন্য, প্রত্যেক বারই লোকগুলোর অনেক ঝুকি নিতে হয়। মানুষের রাজত্ব এখানে চলে না।

এপ্রিলের এক সকালে হিমাংশু মন্ডল তার শালা এবং অন্য সাতজন সহ মধু আহরণে বের হয়েছে। সকলের একসাথে কাজ করার কারণ, মৌমাছির বাসাগুলো আছে যেখানে শিকারী প্রাণীগুলো বাস করে। মানুষগুলো সর্বদা বিপদের জন্য প্রস্তুত। কেউ কেউ শাঁখা বাজাচ্ছে স্বর্গীয় নিরাপত্তা পাবার জন্য। সবারই মানুষের মুখোশ পড়া আছে মাথার পিছেনে, বাঘ সাধারণত পিছন থেকে আঘাত করে তাই এরা ধরে নেয় এধরনের মুখোশ পড়লে বাঘকে বোকা বানানো যাবে। যারা সুন্দর বনে যায় তারা সবাই ফিরে আসে না। কিন্তু হিমাংশু মন্ডল ও তার সঙ্গীরা অনেক দিন ধরে সুন্দরবনের গভীর কাদার মধ্যে চলাচল করে অভ্যস্ত। সাতাশ বছরের যুবক, যিনি সাধারণত দল থেকে আলাদা হন না, এপ্রিলের সেই সকাল সাতটায় বিদ্যুত গতির এক ওত পাতা আক্রমনে তার জীবন হারিয়ে যায় হঠাৎ এক আর্তচিৎকারে।

সাথে সাথে তার শালা এবং অন্যান্যরা খোঁজ করতে এসে দেখে হিমাংশু নেই, পরে আছে কয়েক ফোটা রক্ত। আশেপাশের জঙ্গলে তার কোন লক্ষনই নেই। কি হয়েছে! কিভাবে একজন পূর্ণবয়স্ক লোক মাত্র কয়েক মিটার দূরে তার সহযোগীদের কাছ থেকে হাওয়া হয়ে যেতে পারে কোন সন্ধান না দিয়েই। ভয়ে মুধু আহোরণকারীনা দ্রুত জঙ্গল ছাড়ল।

অস্তঃস্থল জঙ্গলে কোন মানুষের ভাগ্যে এরকম ঘটনা ঘটা প্রথম নয়। বছরের পর বছর শত শত ঘটনা লিপিবদ্ধ হয়েছে। এর থেকেও সুন্দরবনে অন্য জায়গা আছে যাকে নিরাপদ ভাবা হয়। যেমন চিংড়ী ও কাকড়া ধরা নদীতে। নদীতে চিংড়ী ও কাকড়া ধরা জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে এবং এটা খুবই পরিশ্রম সাধ্য কাজ, কিন্তু জঙ্গলে কাজ করার চেয়ে নিরাপদ। কিছু লোক খোলা নদীতে কাজ করে, যার স্রোত অনেক এবং অনেক দূর পর্যন্ত ভালভাবে দেখা যায়। অনেকের কাজের জায়গা নদীর কূল থেকে কয়েক মাইল দূরে হয়। ২০০৩ এর অক্টোবরের এক পড়ন্ত বিকেলে তুষার আলী এবং তার সাথীরা নদীতে মাছ ধরা প্রায় শেষ করেছে। তারা কাজ করছিল বাফার জোনে, যে এলাকাটি লোকালয় এবং অন্তঃজঙ্গলের (কোর) মাঝামাঝি স্থান। তুষার আলীর কাজ ছিল বইঠা নিয়ে পাহারা দেওয়া। সূর্যাস্তের সময় সে দেখছিল নদী এবং খেয়াল রাখছিল নদীর পাড়ের জঙ্গলের দিকে। সূর্যান্ত যেন শান্তির রাতের বার্তা নিয়ে এসেছে। এরপর যা ঘটছিল জেলেরা তার জন্য প্রস্তুত ছিল না। ঘুমন্ত বাকী জেলেরা উঠে এসে বুঝার চেস্টা করছিল কি ঘটেছে। প্রথমে তারা তুষার আলীর কোন চিহ্ন দেখতে পেল না। হঠাৎ তার দেখল নদীতে মিশে আছে এক থোক রক্ত। একটু পাশেই নৌকার সাথে নদীতে ভাসছে তাদের বন্ধু। কে এরকম করতে পারে!

নদীমাতৃক সুন্দর বনে বাস করে এক দল শিকারী। নোনা পানির কুমির, বিশাল সাপ এবং ব্যাম্বু শার্ক। এরা সবাই এখানে শিকার করে। এদের যে কেউই মানুষ মারার ক্ষমতা রাখে, কিন্তু এদের কেউ কি নিজেকে পানি থেকে কয়েক ফিট উপরে নিজেকে নিক্ষেপ করেতে পারে এবং একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষকে নৌকা থেকে নামিয়ে আনেত পারে। এদের সবারই নিজেদের এত দূরে নিক্ষেপ করা কস্ট কর হবে। বার ফুট কুমিরের সামর্থ্যেও তা নেই। এদের সবাই মানুষকে আক্রমন করে যদি সামনে পড়ে যায়। কিন্ত এখানে এক শিকারী বাস করে যে কোন নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা করে না। লোকালয়ের মানুষ মনে করে যার অলৌকিক ক্ষমতা আছে। অবিশ্বাস্যভাবে যে প্রানীটি তুষার আলীর পিছনে ঝাপিয়ে পড়েছিল, সেটি হল বেঙ্গল টাইগার। কিন্তু কিভাবে একটা বাঘ নদীর পাড় থেকে অনেক গভীর নদীতে আক্রমন করতে পারে।

বাঘ স্থলে, নদীতে, সমুদ্রে শিকার কে অনুসরণ এবং আঘাত করতে পারে। তুষার আলী নৌকার উপর নদীথেকে কয়েকফুট উপরে বসেছিল। কিন্তু বিশাল বাঘটি তার তিন ইঞ্চির নখর সহ থাবা তাকে নৌকা থেকে নামিয়ে আনার যথেস্ট পরিমাণ উপরে উঠাতে পেরেছিল। তারপর বাঘটি লোকটির ঘাড়ে কামড় দিয়ে তিন ইঞ্চি পরিমাণ ক্ষত তৈরি করেছিল। লোকটিকে নৌকায় তুলে সাথীরা বৈঠা দিয়ে পানিতে আঘাত করা শুরু করল, অবশেষে বাঘটি তীরে ফিরে গেল। কিন্তু সাথীদের বীরত্বপূর্ণ কাজও অনেক দেরী হয়ে গিয়েছিল। গ্রামে ফিরার অনেক আগেই তুষার আলী মারা যায়।

তার নামটি বিশার বাঘ দ্বার মৃত লোকদের সাথে যোগ হয়। শুধু গত চব্বিশ বছর ধরে সরকারী হিসাবে প্রত্যেক বছর তিরিশ জল লোক বাঘের হাতে মারা পরে। এটা শুধু সরকারী হিসাব যারা পারমিট নিয়ে সুন্দরবনে যায়। লোকেরা বলে বছরে শ
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৪:১৮
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

মুখোশ খুলে গেছে ও আয়না ভাঙ্গা শুরু হয়েছে!

image upload problem

বাংলাদেশে একসময় খুব জনপ্রিয় একটা পরিচয়-“আমি সুশীল”, “আমি নিরপেক্ষ”, “আমি কোনো দলের না”। এই পরিচয় ছিল আরামদায়ক, নিরাপদ, সম্মানজনক। এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×