বাংলাদেশ ও ভারতের সীমানার কাছে ভয়াবহ এক ঘটনা একটি পরিবারকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিবে, এবং আনবে ভয়, লোকজনের মধ্যে যারা বাস করে বিশাল এক জলা ভুমি সুন্দরবনে। এটি একটি ভয়ংকর এবং অনিশ্চিত জায়গা। পুরো চার হাজার বর্গমাইল দুর্গম এলাকা হচ্ছে একদল ভয়ংকর প্রাণীর শিকার স্থল। বেঁচে থাকার জন্য এখানে বাস করা চল্লিশ লক্ষ মানুষের অনেকেরই সুন্দর বনের কোর রিজার্ভ (অন্তঃস্থল) এ যেতে হয়। এটা শিকারী প্রাণীদের অভয়ারন্য, প্রত্যেক বারই লোকগুলোর অনেক ঝুকি নিতে হয়। মানুষের রাজত্ব এখানে চলে না।
এপ্রিলের এক সকালে হিমাংশু মন্ডল তার শালা এবং অন্য সাতজন সহ মধু আহরণে বের হয়েছে। সকলের একসাথে কাজ করার কারণ, মৌমাছির বাসাগুলো আছে যেখানে শিকারী প্রাণীগুলো বাস করে। মানুষগুলো সর্বদা বিপদের জন্য প্রস্তুত। কেউ কেউ শাঁখা বাজাচ্ছে স্বর্গীয় নিরাপত্তা পাবার জন্য। সবারই মানুষের মুখোশ পড়া আছে মাথার পিছেনে, বাঘ সাধারণত পিছন থেকে আঘাত করে তাই এরা ধরে নেয় এধরনের মুখোশ পড়লে বাঘকে বোকা বানানো যাবে। যারা সুন্দর বনে যায় তারা সবাই ফিরে আসে না। কিন্তু হিমাংশু মন্ডল ও তার সঙ্গীরা অনেক দিন ধরে সুন্দরবনের গভীর কাদার মধ্যে চলাচল করে অভ্যস্ত। সাতাশ বছরের যুবক, যিনি সাধারণত দল থেকে আলাদা হন না, এপ্রিলের সেই সকাল সাতটায় বিদ্যুত গতির এক ওত পাতা আক্রমনে তার জীবন হারিয়ে যায় হঠাৎ এক আর্তচিৎকারে।
সাথে সাথে তার শালা এবং অন্যান্যরা খোঁজ করতে এসে দেখে হিমাংশু নেই, পরে আছে কয়েক ফোটা রক্ত। আশেপাশের জঙ্গলে তার কোন লক্ষনই নেই। কি হয়েছে! কিভাবে একজন পূর্ণবয়স্ক লোক মাত্র কয়েক মিটার দূরে তার সহযোগীদের কাছ থেকে হাওয়া হয়ে যেতে পারে কোন সন্ধান না দিয়েই। ভয়ে মুধু আহোরণকারীনা দ্রুত জঙ্গল ছাড়ল।
অস্তঃস্থল জঙ্গলে কোন মানুষের ভাগ্যে এরকম ঘটনা ঘটা প্রথম নয়। বছরের পর বছর শত শত ঘটনা লিপিবদ্ধ হয়েছে। এর থেকেও সুন্দরবনে অন্য জায়গা আছে যাকে নিরাপদ ভাবা হয়। যেমন চিংড়ী ও কাকড়া ধরা নদীতে। নদীতে চিংড়ী ও কাকড়া ধরা জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে এবং এটা খুবই পরিশ্রম সাধ্য কাজ, কিন্তু জঙ্গলে কাজ করার চেয়ে নিরাপদ। কিছু লোক খোলা নদীতে কাজ করে, যার স্রোত অনেক এবং অনেক দূর পর্যন্ত ভালভাবে দেখা যায়। অনেকের কাজের জায়গা নদীর কূল থেকে কয়েক মাইল দূরে হয়। ২০০৩ এর অক্টোবরের এক পড়ন্ত বিকেলে তুষার আলী এবং তার সাথীরা নদীতে মাছ ধরা প্রায় শেষ করেছে। তারা কাজ করছিল বাফার জোনে, যে এলাকাটি লোকালয় এবং অন্তঃজঙ্গলের (কোর) মাঝামাঝি স্থান। তুষার আলীর কাজ ছিল বইঠা নিয়ে পাহারা দেওয়া। সূর্যাস্তের সময় সে দেখছিল নদী এবং খেয়াল রাখছিল নদীর পাড়ের জঙ্গলের দিকে। সূর্যান্ত যেন শান্তির রাতের বার্তা নিয়ে এসেছে। এরপর যা ঘটছিল জেলেরা তার জন্য প্রস্তুত ছিল না। ঘুমন্ত বাকী জেলেরা উঠে এসে বুঝার চেস্টা করছিল কি ঘটেছে। প্রথমে তারা তুষার আলীর কোন চিহ্ন দেখতে পেল না। হঠাৎ তার দেখল নদীতে মিশে আছে এক থোক রক্ত। একটু পাশেই নৌকার সাথে নদীতে ভাসছে তাদের বন্ধু। কে এরকম করতে পারে!
নদীমাতৃক সুন্দর বনে বাস করে এক দল শিকারী। নোনা পানির কুমির, বিশাল সাপ এবং ব্যাম্বু শার্ক। এরা সবাই এখানে শিকার করে। এদের যে কেউই মানুষ মারার ক্ষমতা রাখে, কিন্তু এদের কেউ কি নিজেকে পানি থেকে কয়েক ফিট উপরে নিজেকে নিক্ষেপ করেতে পারে এবং একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষকে নৌকা থেকে নামিয়ে আনেত পারে। এদের সবারই নিজেদের এত দূরে নিক্ষেপ করা কস্ট কর হবে। বার ফুট কুমিরের সামর্থ্যেও তা নেই। এদের সবাই মানুষকে আক্রমন করে যদি সামনে পড়ে যায়। কিন্ত এখানে এক শিকারী বাস করে যে কোন নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা করে না। লোকালয়ের মানুষ মনে করে যার অলৌকিক ক্ষমতা আছে। অবিশ্বাস্যভাবে যে প্রানীটি তুষার আলীর পিছনে ঝাপিয়ে পড়েছিল, সেটি হল বেঙ্গল টাইগার। কিন্তু কিভাবে একটা বাঘ নদীর পাড় থেকে অনেক গভীর নদীতে আক্রমন করতে পারে।
বাঘ স্থলে, নদীতে, সমুদ্রে শিকার কে অনুসরণ এবং আঘাত করতে পারে। তুষার আলী নৌকার উপর নদীথেকে কয়েকফুট উপরে বসেছিল। কিন্তু বিশাল বাঘটি তার তিন ইঞ্চির নখর সহ থাবা তাকে নৌকা থেকে নামিয়ে আনার যথেস্ট পরিমাণ উপরে উঠাতে পেরেছিল। তারপর বাঘটি লোকটির ঘাড়ে কামড় দিয়ে তিন ইঞ্চি পরিমাণ ক্ষত তৈরি করেছিল। লোকটিকে নৌকায় তুলে সাথীরা বৈঠা দিয়ে পানিতে আঘাত করা শুরু করল, অবশেষে বাঘটি তীরে ফিরে গেল। কিন্তু সাথীদের বীরত্বপূর্ণ কাজও অনেক দেরী হয়ে গিয়েছিল। গ্রামে ফিরার অনেক আগেই তুষার আলী মারা যায়।
তার নামটি বিশার বাঘ দ্বার মৃত লোকদের সাথে যোগ হয়। শুধু গত চব্বিশ বছর ধরে সরকারী হিসাবে প্রত্যেক বছর তিরিশ জল লোক বাঘের হাতে মারা পরে। এটা শুধু সরকারী হিসাব যারা পারমিট নিয়ে সুন্দরবনে যায়। লোকেরা বলে বছরে শ
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৪:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






