somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবিতা কি?

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি তখন হলিক্রস কলেজে পড়িতাম। আমাকে হোস্টেলে গৃহশিক্ষা দান করিতে আসিতেন জনৈক নটরডেমিয়ান এন্ড বুয়েটিয়ান এক যুবক। যুবক মাথায় অতিশয় তৈল প্রয়োগ করিতেন এবং উহা প্রয়োগ করিবার পরপরই যেন আমাকে ও আমার দুই সখীকে পড়াইতে আসিতেন। আমরাও পড়িতাম তবে পড়িবার চেয়ে তাহাকে নিইয়া আড়ালে হাসাহাসিই বেশি করিতাম।

একদিন এক সখী তাহাকে খুব বড় মুখ করিয়া আমার কবিতা লেখার কথা বলিল। সেও যেন আমাদের হাসাহাসির কিছু আগেই আচ করিয়াছিল। সেদিন প্রতিশোধ নিবার সুযোগ পাইয়া সে বলিয়া উঠিল, “ ইহা এমন কিছু নয়। কবিতা সকলেই লিখিতে পারে। গুনিয়া দেখিলে বঙ্গদেশে কাকের চেয়ে কবিদের সংখ্যাই বেশী হইবে”।

লজ্জায় অপমানে আমার ও সখীর বড় মুখ সেদিন একেবারে ছোট হইয়া গিইয়াছিল।

অবশেষে আমাদিগর পড়া শেষ হইল, বেতনও পরিশোধ হইল। তবু কি এক অজানা কারনে যুবক হোস্টেলে আসিয়া বসিয়া থাকিত। তাকে শুধাইতে সে বলিল, ভ্রাতা হিসেবে সে আমাদের খোঁজ খবর লইতে আসে।
কিন্তু হোস্টেল মালিক রক্তের সম্পর্কহীন এইরূপ ভ্রাতাকে ভাল চোখে দেখিতেছিলেন না। তাই না পারিয়া একদিন সে গোমর ফাঁক করিল।

আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিইয়া বসিল। আমিও সেইদিনের সেই অপমানের শোধ লইয়া তাহাকে প্রত্যাখ্যান করিলাম।

তবে আজ বুঝিয়াছি সেইদিন সেই যুবক ভুল কিছু কহেন নাই।
জগত সংসারে কবিতা আসলেই সবাই লিখিতে পারে।

আপনার বাটীতে যেই ঝগড়ুটে মহিলাটি রোজ বাসন মাজে তাহাকে শুধাইয়া দেখুন দু এক ছত্র বাল্যকালে সেও লিখিয়াছে। যাহার অক্ষর জ্ঞান নাই সেও অন্তত ভাবিয়াছে।

তাই আজকাল আমাকে কেউ কবি বলিয়া ডাকিলে খুশী হইবার চেয়ে বেশী রাগ হইয়া যায়। সে কি সত্যিই কবি মনে করিয়া কবি বলিল নাকি উপহাস করিয়া বলিল। আমি জানি স্কুলের পরীক্ষায় ৯০ অনেকেই পাইয়াছে। কিন্তু ডাক্তার-মোক্তার ২/১ জনই হইয়াছে। দু এক খানা লাইন লেখার অপরাধে আমাকে কবি বলিলে নির্মলেন্দু মহাদেব সাহার হয়ত অপমানই হইবে।

কবিতা লেখা এমন কিছু নহে। কবিতা লিখিতে সকলেই পারে। পড়িতে পারে না। জগত সংসারে পড়িবার লোকের বড়ই অভাব। আপনি কাউকে গল্প পড়িতে বলিবেন সময় থাকিলে, ইচ্ছা থাকিলে পড়িবে কিন্তু কবিতা পড়িবার কথা বলিলেই ছুটে পালাইবে।

উহার পেছনের কারণটা কি, তাহা আমি ভাবিয়া বাহির করিয়াছি। কবিতা অনেকটা ‘খালি কলসি বাজে বেশী’র মতন। আড়ম্বরে ভরা যেন উহা এক অসমাপ্ত গল্প। সেই অসমাপ্ত গল্প সকলেই সমাপ্ত করিতে পারেন না। যাহারা পারেন তাহাদেরকেই আমরা সফল কবি বলিয়া থাকি।

আরেক ভাবে ভাবিলে কবিতা হইল আবেগের ছটফটানি। আবেগের ছটফটানি বেশি হইয়া গেলে কবি তাহা আর তখন ধরিয়া রাখিতে পারেন না। যেন এক ভয়ংকর প্রসব বেদনায় কাতরাইতে থাকেন। সেই বেদনা থেকে মুক্তি পাইতে তাড়াতাড়ি তাহা ভূমিষ্ঠ করিতে ব্যস্ত হইয়া পড়েন। আর ঠিক তখনই একটি কবিতার জন্ম হয়। প্রসব বেদনা থেকে মুক্তি পাইয়া ও নবজাতক কবিতার মুখ দেখিয়া কবির এক অনাবিল স্বর্গীয় শান্তি হয়। সফল কবিতার ক্ষেত্রে কবি ও পাঠক উভয়কেই এই শান্তি লাভ করিতে দেখা যায়।

এইরকম ছটফটানি আবেগ আমার ক্ষেত্রেও প্রায়ই আসে।

বেশি ভোজন করিলে আসে, বাড়িতে কেউ বকিলে আসে, পরীক্ষায় খারাপ ফল করিলে আসে, কোন সুদর্শন যুবক দেখিলেও আসে।

কিন্তু তাহা প্রসব করিতে গেলেই বন্ধুরা বলিয়া বসে, থাক বাপু, কবিতা লিখিয়া আর জ্বালাতন করিস নে ।

*** কবিতা লিখি বলিয়া অনেকসময় অনেকেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করিয়া থাকে। জগত সংসারে আর কেহ কিছু না পারিলেও কবিতাখানা নাকি সবাই ই লিখিতে পারে। এরকম শুনিলে অবশ্য একটু রাগই হয়। সেরকম অনুভুতি থেকেই লেখাটি লেখা।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ ভোর ৬:১০
১৭টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×