somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুলক, ফেসবুক প্রেম, অতঃপর ....

২৩ শে অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নাহ্, ভাবছি এবার ডিজিটাল হয়েই যাবো! পত্রিকার পাতা উল্টাতে উল্টাতে আচমকা বলে উঠলো পুলক। আমি ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকালাম। পুলক একটু লজ্জ্বা পেয়ে বলল, না মানে ফেসবুক আর কি! শুনলাম ওখানে নাকি দু-চারটা প্রেম করা কোন ব্যাপারই না। আমাকে একটা একাউন্ট খুলে দিবি?

পুলক হল আমার রুমমেট, কাম ক্লাসমেট। মাস ছয়েক আগের কথা। গ্রামের ছেলে পুলক শহরে আসে উচ্চশিক্ষার জন্য। ছ্যাঁকা খাওয়ার যদি কোন বিশ্বরেকর্ড থাকত তাহলে সে নিশ্চিত চ্যাম্পিয়ন হত। কোন মেয়ের সাথে চোখাচোখি, কিংবা খানিক কথা হলেই বলত, দোস্ত আজকে একটা প্রেম হয়ে গেছে। আমরা বন্ধুরাও ট্রিট পাবার আশায় তাকে ব্যাপক উৎসাহ দিতাম। এমনকি ছ্যাঁকা খাবার পরেও ট্রিট চাইতাম।

স্বাভাবিকভাবে এখানেও উৎসাহের কমতি ছিল না। উৎফুল্লতার সাথে তাকে একটা ফেসবুক একাউন্ট খুলে দিলাম। তারপর থেকে সে সারাদিন ফেসবুকে পড়ে থাকতো, আর দুনিয়ার মেয়েকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতো। আর এভাবেই কাটতে লাগলো তার দিন। গ্রামের এনালগ পুলকের ডিজিটাল হবার প্রচেষ্টা চলতে লাগলো।
অতঃপর একদিন সে বললো, দোস্ত আমার তো হয়ে গেছে। আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কী হয়ে গেছে দোস্ত? সদা হাসিমাখা মুখে পুলক বললো, প্রেম হয়ে গেছে, ফেসবুক প্রেম। মেয়ে নিজে আমাকে আই লাভ ইউ বলেছে। আমি আর ঘাটালাম না, মনে মনে হাসলাম।

কিছুদিন পর তারা এসএমএস চালাচালি শুরু করলো। তবে মেয়েটা ফোনে কথা বলতে চাইতো না। পুলক প্রায়ই নাকি তার মোবাইলে টাকা রিচার্জ করে দিতো। একবার তো মায়ের অসুখের কথা শুনে নিজের মোবাইল বিক্রি করে, আমার কাছ থেকে ২০০০ টাকা ধার নিয়ে পাঠিয়ে দিল।
একদিন হঠাৎ মেয়েটা যোগাযোগ বন্ধ করে দিল। কী ব্যাপার? আমার সন্দেহ হল। মেয়েটির ফেসবুক প্রোফাইল দেখতে চাইলাম।
আরে! এই ছবি দিয়ে তো ফেসবুকে হাজারটা ফেক আইডি আছে।
পুলকের এখন মাথায় হাত। সাথে আমারও।

মরাল: ফেক আইডি হইতে সাবধান।

বি.দ্র.: সমস্ত চরিত্র কাল্পনিক। কাহারো সাথে মিলিয়া গেলে লেখক দায়ী থাকিবে না।

[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নবীজি ﷺ -এর অতুলনীয় উপমা: হাদিসে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:০৪

নবীজি ﷺ -এর অতুলনীয় উপমা: হাদিসে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

এআই দ্বারা তৈরিকৃত ছবি।

আরবের সাহিত্যের স্বর্ণযুগে, যখন কবিতা ছিল জাতির প্রাণশক্তি এবং ওকাজের মেলায় কাব্য প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ কবিতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এসো ঈদের গল্প লিখি.....

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১১


সামুতে নেই আর সেই আগের দিনের ঈদগুলো। ঈদের পোস্ট, গল্প লেখা,কবিতা, স্মৃতিচারণ কিছুই আর আজ নেই। সব কোলাহল ছাপিয়ে সামু আজ দাঁড়িয়ে আছে প্রায় অনেকটাই নিশ্চুপ। কেউ কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×