আচ্ছা, কী হয় অন্যে ভালো থাকলে? নিজে খারাপ আছি- এটা নিয়ে থাকা যায়, কিন্তু অন্যে ভালো আছে –এ যেন সহ্যের সীমার বাইরে। এ কারণে দামী শার্ট গায়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটাকে দেখে আমরা কিন্তু প্রশংসা করি না, বরং নিচের দিকে তাকিয়ে বলি- “খ্যাত একটা, কেমন চপ্পল পায়ে রাস্তায় বেরিয়েছে!” একইভাবে মেয়েরাও কিন্তু অন্য মেয়ের ব্যাপারে প্রশংসা করে খুব কমই। একটা মজার ঘটনা শুনেছিলাম, এক মহিলা নিরন্তর চাইতেন ঘরের হারমোনিয়ামটা যেন ভেঙে যায়; কারণ তার ধারণা ছিলো স্বামীর কাছে ঐ যন্ত্রটার মূল্য তার চেয়ে ঢের বেশি! আজব ব্যাপার- ঈর্ষার বশে এখন ভালোবাসা নিয়ে প্রতিযোগিতা করতে হবে একটা বাদ্যযন্ত্রের সাথে?
এরকম মারাত্মক বিষক্রিয়া আছে বলেই ঈর্ষা নামের এই দানো কিন্তু অনেক রোগের জননী। সেটা ওসিডি থেকে শুরু করে সিজোফ্রিনিয়া পর্যন্ত। তবে সবচেয়ে বড় যন্ত্রণাটা বোধহয় নিজের ভেতরের ক্রমাগত অশান্তি। আপনার ভেতরটা কিন্তু বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে। মনের এই বিষ থেকে বাড়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অক্ষমতা। সহজ ব্যাপারকেও ঘুরিয়ে দেখতে শুরু করেন আপনি। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘ডিস্ওরিয়েন্টেশন অব রিয়েলিটি’। একারণে শেক্সপিয়ের ঈর্ষার নাম দিয়েছিলেন ‘গ্রীন আইড্ মনস্টার’, যে দানব সবকিছুর উপর বিষাদের সবুজ পর্দা টেনে দেয়।
এই সমস্যাটার কিন্তু অনেক রকমফের আছে। মূল কারণগুলো হলো: এক, নিজের ভেতরের চাওয়া; আর দ্বিতীয়ত, সমাজের চাপ। সমাজের চাপটা হলো বাইরের ব্যাপার- সবাইকে প্রথম হতে হবে, সব ব্র্যান্ডেড জিনিস থাকতে হবে, এবং অন্য সকলের আগে আমাকেই সেটা পেতে হবে –এমনটা কিন্তু আজকাল একরকম ‘রীতি’ হয়ে গেছে। এটা থেকে বেড়িয়ে আসাটা খুব কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। সহজ সমাধান হচ্ছে সৎসঙ্ঘে থাকা- যারা এই অনবরত বৈষয়িক প্রতিযোগিতার পক্ষে নন তাদের সাথে থাকা। আর নিজের ভেতরের স্পৃহাটা হলো আপনার মানসিকতা। যেরকম কেউ কেউ আছেন যারা খুব খুঁতখুঁতে হন- সবকিছু বাছাই করে চলেন; একদম সেরাটা না হলে তাদের মন ভরে না। এর পেছনের ব্যাখ্যাটাও কিন্তু অন্যকে পেছনে ফেলারই নামান্তর। খুশির খবর হলো এই মানসিকতাটা আপনার এগিয়ে যাওয়ার পথে বড়রকমের সহায়ক হতে পারে যদি স্রেফ এর ধরণটা আপনি পাল্টে দিতে পারেন। এই ঈর্ষাটাই তখন হয়ে যাবে ভালো কাজের প্রভাবক; যেরকম কাজে সাফল্য বা পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার প্রতিযোগিতা। সেক্ষেত্রেও আপনি অন্যকে পেছনে ফেলতে চাইছেন, কিন্তু তখন ব্যাপারটা আপনার জন্য ধ্বংসাত্মক না হয়ে সহায়ক হবে।
তাই বন্ধুরা, কুচিন্তার উপর লাগাম দিন। অন্যের ভালোতে না জ্বলে ‘নিজের শক্তিতে জ্বলে উঠুন’। প্রতিযোগিতা করুন ‘গতকালের আমি’র সাথে ‘আজকের আমি’র। দেখবেন ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছেন আপনি। আর তা না করে অন্যের শ্রী দেখে কাতর হোন, বা স্ত্রী দেখে- ভুগবেন কিন্তু আপনি নিজেই।
সূত্র: কোয়ান্টাম মেথড [ http://quantummethod.org.bd ]
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১০:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





