somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজকে অন্তত একটা নতুন ভুল করুন!

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৯:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের এক বন্ধুর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মত সম্পর্ক ভেঙে গেল। প্রতিবার একই কারণে: “যেমনটা ভেবেছিলো এ তেমন নয়” -সেজন্য! প্রথমবার আমরা তাকে বলেছিলাম, “দ্যাখ, ইন্টারনেটে সবাই বাড়িয়ে-টারিয়ে লেখে, বাস্তবে তেমন হয় না। অতএব এত আশা করিস না। তাছাড়া নিজের কথাটাই কি ঠিক করে লিখেছিস? বেঞ্চের উপর দাঁড়ালেও তো ৬ ফুট হবিনা, অথচ ফেসবুকে তাই দিয়ে রেখেছিস!” কিন্তু কে শোনে কার কথা! সেই ‘মনের মানুষ’ খুঁজতে গিয়ে বারবার সে ধরা খেল! প্রথমবার তো কান্নাকাটি করে বেচারার অবস্থা খারাপ। কত হাজার শপথ নিলো; তারপরও ঠিকই একমাস পর আবার প্রেমে পড়লো। এবার অবস্থা হলো আরও খারাপ: যে মেয়ে ফেসবুকে বলে ‘রাস্তার বাচ্চাদের’ দেখে চোখে পানি আসে- সেই মেয়ে কিনা আমাদের বন্ধুকে রীতিমতো জানে মেরে ফেলার হুমকী দিলো! আগেরবার তো শুধু সে কেঁদেছিলো, দ্বিতীয়বারে এ ‘করুণ বাস্তবতা’ দেখে আমরা সবাই কাঁদলাম। কাজেই দুই মাস পর যখন দেখলাম আমাদের রোমিওর ভাবগতিক ভালো না, সবাই তাকে একেবারে একঘরে করে দিলাম। টানা তিনমাস যোগাযোগ বন্ধ থাকার পর সেদিন শুনলাম সে হাসপাতালে। এবার কী হলো? বাড়াবাড়ি রকমের ‘উৎসাহী’ বলে নাকি এ মেয়েটিও তাকে ছেড়ে গেছে! অবশ্য সে আত্মহত্যা করতে যায়নি, হাসপাতালে আছে ডেঙ্গুর জন্য। এবং যদিও অবাক হবার মত কিছু না, তারপরও বলি, সে খুব দ্রুত সুস্থ হচ্ছে। কারণ হাসপাতালের বেডে শুয়ে সে তার ‘জীবনের ধ্রুবতারা’ খুঁজে পেয়েছে! ফোনে বললো, মেয়েটির ফেসবুকে নামও নাকি ‘তারা’। কী আর করবো? ফোনটা রেখে বন্ধুর নাম্বারটা মুছে দিলাম।
ঘটনাটা খুব সত্যি, এবং খুব বাস্তব। বাস্তব, কারণ এই অভ্যাসটা আমাদের সব্বার আছে। একই বিশ্বাসঘাতকের উপর আমরা বারবার ভরসা করি। ব্যবসা করতে পারিনা, তারপরও বাবার পেনশনের টাকা-ধারের টাকা শেয়ারে খাটাই। মাস ঘুরতে না ঘুরতে লস খাই। তবুও দেউলিয়া হয়ে পথে বসার আগ পর্যন্ত আমরা শেয়ার ছেড়ে উঠিনা। একটু একটু করে মারা যাচ্ছি জেনেও প্রতি রাতে মদের গ্লাসটা ঠিকই হাতে থাকে। পদে পদে সবাই সতর্ক করার পরও পাড়ার বখাটে ছেলেটার মিষ্টি কথা কেন জানি বারবার শুনতে ইচ্ছে করে। প্রতিবার বহুত মানত করি-মিলাদ দেই, তারপরও যেই পরীক্ষাটা শেষ হয় সেই আমরা আবার পড়া জমাতে আরম্ভ করি। ঘুম থেকে উঠতে পারিনা বলে প্রতিদিনই নামাজ বাদ পড়ে যায়। কিন্তু কোনোবারই কি আমরা ভুল থেকে কিছু শিখি?
মহাভারতে আছে: যখন দৈব জানতে চাইলো ‘মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্যি কী’?-ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির তখন ঠিক উত্তরটি দিয়েছিলেন; যে, মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্যি হলো মানুষ কখনও শিখতে চায় না। একই ভুল বারবার করে। এজন্য সাধারণ মানুষ সারাজীবন একটা গন্ডীতেই বন্দী থেকে যায়। আর সফল মানুষরা যে ভুল করেন না তা না। কিন্তু তারা ভুল থেকে শেখেন। যিনি বুদ্ধিমান তিনি জানেন যে সীমালঙ্ঘনের পরিণতি খারাপ হয়, তাই তিনি দ্বিতীয়বার সতর্ক থাকেন। আর যে আহাম্মক, সে ভাবে এবার যেন অলৌকিকভাবে সব ঠিক হয়ে যাবে। এই মরীচিকার আশায় সে বারবার বেলতলা যায়। এবং শুধু যায় যে তা না, খুব গর্বের সাথে সে স্বীকারও করে যে, ‘আমি ওমনই!’ এটা হয় মূলত দুই কারণে: প্রথমত, আমরা সবসময় মনে করি যে নিজেরা ভুলের উর্ধ্বে, আমরা কোনো দোষ করতে পারি না; আর দ্বিতীয়ত, যখন আমাদের ভুলের মাশুল গুনতে হয় তখন অবচেতনে স্বীকার করলেও সচেতনে আমরা বারবার ভুলটাকে ঢাকতে চেষ্টা করি এবং ঐ একটা ভুলকে ধামাচাপা দিতে গিয়ে আরও বহু গন্ডগোল পাকিয়ে ফেলি। ফলে ‘আমি এরকমই’ -এই বৃ্ত্ত থেকে আমরা আর বেরুতে পারি না, একই দুর্দশায় বারবার আমরা নিপতিত হই।
কাজেই একটু চিন্তা করুন। নিজের সাথে নিজে কথা বলুন। যেখানে যেখানে ভুল বোঝাবুঝি বা সমস্যা হচ্ছে সেগুলোর কারণ খোঁজার চেষ্টা করুন। পরিস্থিতির দোহাই না দিয়ে নিজের ভুলটাকে চিহ্নিত করুন। এবং দেখে অবাক হবেন যে, যে স্বভাবটার জন্য বাসায় সমস্যা হচ্ছে, সেটাই আপনার অফিসেও ঝামেলা করছে।
আসলে ভুল করাটা কখনও দোষের না। কিন্তু ভুলের পুনরাবৃত্তি দোষের। যতক্ষণ না নিজের ভেতর থেকে অভ্যাসটাকে বদলাতে পারবেন ততক্ষণ আপনার দুর্দশা কেউ ঘোচাতে পারবেনা, একই ভুলের বৃত্তে আপনি বারবার ঘুরপাক খাবেন। তাই একটা অনুরোধ: আজকের দিনে অন্তত নতুন একটা ভুল করুন!
সূত্র: কোয়ান্টাম মেথড http://quantummethod.org.bd
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৯:৫০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×