তাই আমরা বলি কথায় কুশলী হোন। জীবনে কথা দিয়ে যত মানুষের কাছ পযর্ন্ত যেতে পারবেন তেমনটা আর কোনো উপায়ে সম্ভব বলে জানা নেই। ইন্টারনেট তো নস্যি! তাই বন্ধু- ‘ভাবিয়া বলিও কথা, বলিয়া ভাবিও না’। সম্পর্কের সম্মুখ সমরে এই কথা কিন্তু আপনার জন্য বিশাল এক ঢাল। আপনিই বলুন: ‘তুমি আমাকে কষ্ট দিয়েছ’ আর ‘এই কাজটায় আমি কষ্ট পেয়েছি’ –শ্রোতা হলে কোনটি বেশি ভালো লাগত? একইভাবে যদি বলেন ‘আমার জন্য কাজটা করা খুব কঠিন হয়ে যায়’ তাহলে সরাসরি প্রত্যাখ্যানের তিক্ততা আর থাকে না। অর্থা্ৎ বক্তব্যকে দুর্বল না করেও ঘুরিয়ে বললে পরে আপনি অনেকখানি নিরাপদে থাকতে পারেন। তবে হ্যা্ঁ, যতক্ষণ মন থেকে বলছেন ঠিক আছে- যে মাত্রই কৃত্রিম বা ‘প্লাস্টিক’ কথা বলতে যাবেন আপনার আকর্ষণ ঠেকবে শূন্যের কোঠায়। এমনকি কেউ যদি বেশি ‘মাথায় তুলতে’ যায় তাহলেও বুঝবেন গন্ডগোল আছে বাপু! বিশেষত যেসব তরুণ-তরুণী স্বপ্নের পথচারী আসবে বলে ঘটা করে রাস্তায় নেমেছেন, তাদের বলবো- সময় থাকতে সাবধান। ফেসবুকের প্রশংসাবাণী বা ফোনের মিষ্টি কথায় ভেসে যাবেন না যেন! একটা গল্প দিয়ে আপনাদের বুদ্ধিটাকে একটু ঝাঁকিয়ে দেই, শুনুন:
“প্রেম করে বিয়ে করার মাসখানেকের মাথায় সংসারে উথাল-পাথাল শুরু হলো। কারণ স্বামী বেচারা বুঝতে পরলো, বড়লোকের মেয়ের সাথে প্রেম করা যত সোজা, বিয়ের পর তাকে ধরে রাখা তত সহজ কাজ নয়। বউয়ের আবদার ভীষণ রকম। ছা-পোষা স্বামী কী করে তা পূরণ করে বলুন? অবশ্য উপায় একটা বেরুলো। স্বামী শুনলো, মেয়েদের দুর্বলতা প্রশংসায়। ব্যস্, শুরু হলো। প্রতিদিন সে বউকে একেকটা নতুন আপ্ত বাক্য শোনাতে লাগল। কখনো ‘মেঘসম’ চুল কখনো বা ‘হরিণী’ চোখের প্রশংসায় স্ত্রীটিও ভালোই মজে গেল।
এর মধ্যে চলে এল প্রথম বার্ষিকী। স্ত্রীর বায়না একটা রক্ত-লাল পোষাক। কিন্তু আগুনরঙা পোষাকের দামটাও যে আগুন- স্বামী কি পারবে তা কিনতে? অতএব বাসায় ফিরতে ফিরতে স্বামী ভাবছে আজ কী বলে বউকে খুশি করবে। পৌঁছে দেখে সেজেগুজে বউ বসে আছে। মুহূর্তে চলতে লাগলো স্বামীর মুখ- ‘কী পোষাক আনি বলো তোমার জন্য? এই মর্মর পাথর সদৃশ তোমার ত্বক, এমন কোনো কাপড় কী আছে যা একে আরাম দিতে পারে?’
স্বামীকে অবাক করে স্ত্রী বললো, ‘কক্ষণো না! আমি কি রূপকথার রাজকুমারী নই?’
স্বামী বললো, ‘তুমি সিনেমার নায়িকা, স্বর্গের অপ্সরা!’
স্ত্রী বলে, ‘আমি কি গুণে অতুলনীয়া, ছলা-কলায় অদ্বিতীয়া, চলনে-বসনে মোহিনী নই?’
স্বামী বলে, তাই তো তুমি আকাশের চাঁদ, আমার প্রাণভোমরা!’
এবার উঠে দাঁড়িয়ে স্ত্রী বললো, ‘ঠিক তাই! আর তা বলেই তোমার চেয়ে ঢের ভালো ভাগ্য আমার! এমন নক্ষত্রের কি তোমার ঘরে ঘানি টানা সাজে? তাই আমি চললাম আমার যোগ্য স্বামীর খোঁজে-’
বিস্ময়ে হতবাক স্বামী তখন তার অলস-কুশ্রী-স্থূলাঙ্গী বউয়ের চলে যাওয়া দেখে ভাবছে, ‘হা ঈশ্বর! আমি যা বলেছি, সে কি সত্যিই সব বিশ্বাস করেছে!’”
সূত্র: কোয়ান্টাম মেথড http://quantummethod.org.bd/
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





