somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রোগের ওষুধ, ওষুধের রোগ

০৯ ই অক্টোবর, ২০১১ সকাল ১১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা গল্প শুনেছেন নিশ্চয়ই: এক লোক খুব ঘন ঘন ডাক্তারের কাছে যান বলে এক বন্ধু জানতে চাইলো সমস্যাটা কী। তো সে বলে যে, ‘আরে, ডাক্তারদের খেয়ে-পরে বাঁচতে হবে না!’ বন্ধু জিজ্ঞাসা করলো, তাহলে ওষুধ কিনছিস কেন? ‘কারণ ফার্মেসির লোকজনের খেয়ে-পরে বাঁচতে হবে তাই!’ তাহলে, বন্ধু আবার জানতে চাইলো, ওষুধ কিনে সে বাসায় আনছিস, কিন্তু ওষুধ খাচ্ছিস না কেন? হাসিমুখে ভদ্রলোক বললেন, ‘আরে, আমাকেও তো বাঁচতে হবে নাকি?’

গল্পটা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে। অবশ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যাপারটা তো নতুন নয়। বহু আগ থেকেই এ বিষয়ে বলা হয়ে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে ব্যাপারটা খুব বেশি বেড়ে গেছে। সারাজীবন আমরা পালন করে এসেছি ‘অমুক রোগ-তমুক রোগ নির্মূল’ দিবস। আর এ বছর ৭ এপ্রিল পালন করলাম ‘এন্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার প্রতিরোধ’ দিবস। প্রশ্ন আসতেই পারে, এরকম একটা দিবস ঘটা করে পালন করার কী দরকার? রোগের সাথে সাথে এখন ওষুধও প্রতিরোধ করতে হবে কেন? কারণটা হলো রোগের যে ওষুধ, সেটাই যেন রোগের কারণ হতে না পারে সেজন্যে সবাইকে সচেতন করে তোলা। এর পেছনে আছে নানাবিধ কারণ: ওষুধের তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন আছে, তেমনি আছে ওষুধে-ওষুধে প্রতিক্রিয়া। আবার অতিরিক্ত ওষুধ সেবনে কার্যকারিতা কমে যাওয়াও একটা কারণ। আর এটা কেবল এন্টিবায়োটিকের জন্যই নয়, মোটামুটি সবরকম ওষুধের বেলায়ই সমানভাবে প্রযোজ্য।

অনেকে হয়তো বলবেন যে বাংলাদেশে যেখানে মানুষের খাওয়া-পরার টাকা নেই সেখানে কি তারা বেশি ওষুধ খেতে পারে? বরং ওষুধ না খেয়ে মারা যাওয়াটা কি বেশি চিন্তার নয়? অবশ্যই তাই। কিন্তু অনেক মানুষ যেমন একেবারেই চিকিৎসা পাচ্ছেনা, তেমনি অনেক মানুষ, বিশেষত সমাজের মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত অংশ, একটা রোগ থেকে বাঁচতে গিয়ে আরও বেশি করে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এক্ষেত্রে ডাক্তারদের ভূমিকা কতটুকু? হেলথ ওয়াচ নামের একটা সংস্থার জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে একজন ডাক্তার প্রত্যেক রোগীর পেছনে গড়ে সময় দেন মাত্র ৫৪ সেকেন্ড! এতটুকু সময়ের মধ্যে কি আসলেই সম্ভব সঠিকভাবে রোগ নিরূপন? আবার দোষের ভাগীদার কিন্তু আমরাও। যখন রোগে ভুগি তখন সাময়িক উপশমের জন্য দেদারসে ওষুধ গিলি। বেশিরভাগই এন্টিবায়োটিকের কোর্স শেষ করি না। আবার কয়েকমাস পর একই উপসর্গ দেখা দিলে সহজে কিন্তু ডাক্তারের কাছে যাই না; আগের ওষুধটা নিজে নিজে খেয়ে ফেলি। কখনও কখনও পরিচিতদের ‘পরামর্শে’ নিজেরাই ডাক্তার বনে যাই- ‘অমুক ভাই’ উপকার পেয়েছেন বলে আমরাও আশ্বস্ত হই এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ওষুধ খাই।

মূল সমস্যাটা হলো আমাদের অতিরিক্ত ওষুধ নির্ভরতা। ডা. জন রবিন্স এ অবস্থার জন্যে চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্পর্কে রোগীদের ভ্রান্ত ধারণাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, এরা মনে করে যে, সুস্বাস্থ্য বা নিরাময় ডাক্তার, ড্রাগস্টোর বা হাসপাতালে রয়েছে। ডাক্তার তাদেরকে ধন্বন্তরী ট্যাবলেট, ক্যাপসুল বা ইনজেকশন দিয়ে ভালো করে দেবেন। এ আশায় রোগীরা ডাক্তারের পর ডাক্তার আর ওষুধের পর ওষুধ বদলায়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের অবস্থা দিনের পর দিন একই থাকে।
আসলে রোগ ও অসুস্থতা থেকে মুক্তির জন্য প্রথম প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গি বা জীবন চেতনার পরিবর্তন। অপনাকে জানতে হবে যে, নিরাময়ের ক্ষমতা আপনার নিজের ভেতরেই আছে, ডাক্তার কেবল সহায়ক শক্তি মাত্র। যতক্ষণ নিজে বিশ্বাস করতে না পারছেন যে আপনিও সুস্থ হতে পারেন ততক্ষণ কোনো চিকিৎসাই আপনাকে সুস্থ করতে পারবেনা। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, শতকরা ৭৫ ভাগ রোগের কারণই হচ্ছে মনোদৈহিক। অর্থাৎ কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে আপনার মানসিক প্রতিক্রিয়াই ৭৫ ভাগ রোগ সৃষ্টির কারণ। শতকরা ১৫ ভাগ রোগের কারণ হচ্ছে ইনফেকশন, ভাইরাস আক্রমণ, ভুল খাদ্য গ্রহণ ও ব্যায়াম না করা। শতকরা ১০ ভাগ রোগের কারণ হচ্ছে দৈহিক আঘাত, ওষুধ ও অপারেশনের প্রতিক্রিয়া। তাই শতকরা ৭৫ ভাগ রোগই শুধুমাত্র দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে সুস্থ জীবনদৃষ্টি গ্রহণের মাধ্যমে নিরাময় হতে পারে। অন্যান্য রোগ নিরাময়েও ওষুধ, সার্জারির পাশাপাশি সুস্থ জীবনদৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তাই এখন থেকে কম ওষুধ খাবেন। অবশ্যই জটিল অসুখের ব্যাপারটা আলাদা। কিন্তু সামান্য অসুখে অতিরিক্ত ব্যস্ত হয়ে যাওয়াটা ঠিক নয়। সেক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস বা জীবনাচার পরিবর্তন আপনাকে সুস্থ করে তুলতে পারে। যেরকম শিথিলায়ন হলো সবচেয়ে কার্যকরী ব্যাথানাশক হিসেবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বীকৃত। তাই হাতের কাছে এরকম নিরাপদ পদ্ধতি থাকতেও আপনি ছোটোখাটো অসুখে পেইনকিলার খাবেন কিনা সেটা ভাববার বিষয়। আর যত মেডিটেশন করবেন তত আপনার অন্তর্গত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে, ভেতর থেকে আপনি সুস্থ থাকবেন। তখন দেখবেন, রোগের ওষুধ আর ওষুধের রোগ -দুটো থেকেই আপনি মুক্ত থাকছেন।
শিথিলায়ন মেডিটেশনের ডাউনলোড লিংক: শিথিলায়ন

সূত্র: কোয়ান্টাম মেথড
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই অক্টোবর, ২০১১ সকাল ১১:০৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×