উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আজও কন্যাসন্তানের জন্মকে অভিশাপ বলে মনে করা হয় । বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয় । এ সমাজে এখনও অনেকেই কন্যাসন্তানকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারে না । তাদের কাছে কন্যাসন্তান মানেই বিরাট বোঝা । আর তাই দেখা যায় পুত্রসন্তানের আশায় অনেকের ঘরে 6/7টি কন্যা । পুত্রের তুলনায় কন্যার লালন-পালনে বেশি খরচ । আর তারপর আছে যৌতুকের ধাক্কা । আর তাই নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো কন্যাসন্তানকে মনে করেন অভিশাপ । মূলত এই নিম্নবিত্ত ও অশিক্ষিত পরিবারেই কন্যারা বেশী নিগৃহীত হয় । অনেক পাষন্ড পিতামাতা তো আর্থিক দৈন্যতার কারনে আপন কন্যাকে হত্যা করতেও দ্্বিধা করেননা । কিন্তু যে পরিমান অর্থ তারা পুত্রের পেছনে খরচ করেন সেই একই পরিমান অর্থ যদি কোন কন্যার জন্য ব্যবহৃত করা হয় তবে সে কন্যা কি তাদের বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটাতে পারবে না? কিন্তু এই সহজ কথাটিই অনেকে মানতে নারাজ ।
এটা তো গেল কেবল নিম্নবিত্ত ও অশিক্ষিতদের কথা, আজকাল কমবেশি প্রায় সব পরিবারেই দেখা যায় কোন না কোনভাবে মেয়েরা অবহেলিত হচ্ছে । পরপর কয়েকটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়ার অপরাধে (!) অনেক পুরুষ তালাক দিয়ে দেয় তাদের স্ত্রীকে । অথচ গর্ভের সন্তানটি কন্যা হবে না পুত্র হবে তা পুরোপুরি নির্ভর করে পুরুষের এক্স ও ওয়াই ক্রমোসমের উপর ।
ভদ্রতার খাতিরে অনেকে তাদের কন্যাকে স্কুল-কলেজে প্রেরণ করলেও তাদের লেখাপড়া কখনই সম্পূর্ণতা লাভ করে না । পড়াশুনার মাঝপথেই তাদের বসতে হয় বিয়ের পিঁড়িতে , অনেকটা জোড়পূর্বক ভাবেই । মেয়েটি হয়তো মেধাবী, আরও পড়াশুনা করতে চায়, কিন্তু তার ইচ্ছার মূল্য কি দেয় তার বাবা-মা ? উনারা তো বেঁচে যান কোনমতে মেয়েকে পার করতে পারলেই । এ ধরনের বাবা-মা মনে করেন- 'মেয়েরা হল বাবার কপালে বিষফোঁড়ার মত, না কাটলে টনটন করবে আর কেটে ফেললেও দাগ থেকে যাবে আজীবন ।'
বাংলাদেশে এখনও অনেক পরিবার আছে, যারা মনে করে পুত্রসন্তান না থাকলে শেষ জীবন অন্ধকার । তারা পুত্রকে বংশের বাত্তি এবং শেষ বয়সের সম্বল ভাবেন । আর এ কারনেই তারা পুত্রের সুশিক্ষা নিশ্চিত করেন । কিন্তু এ সুবিধা তারা মেয়েদের দিতে রাজি নয় । কারন মেয়ে তো পরের ঘরেই চলে যাবে, দরকার কি এত টাকা ঢালার ? এই হচ্ছে আমাদের দেশের বেশিরভাগ মেয়েদের অবস্থা ।
বর্তমানে অনেক মেয়েই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে, চাকুরি করছে । কিন্তু এদের সংখ্যা তো খুবই কম । নারী-পুরুষ যদি সমভাবে অগ্রসর না হয় তবে দেশ এগুবে কি করে? বেগম রোকেয়া তো সেই কবেই বলে গিয়েছেন- " সমাজ শকটের একটি চাকা বৃহৎ আর অন্যটি ক্ষুদ্র হইলে সে সমাজ কখনই অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাইতে পারে না ।"
মেয়েরা এগুতে চায়, কিন্তু পারে না তাদের অভিভাবকদের বিবেচনাহীন কাজের জন্য ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




