তার আগে লালুর ছোট একটা বদভ্যাস বলে নেই । সে বড় বেশী ছ্যাঁচ্চোড় ছিলো । কারও হাতে কিছু দেখলেই অথবা কাউকে মুখ নাড়াতে দেখলেই হল, সাথে সাথে ঘেউ ঘেই শুরু করত । মনে করত না জানি কি অমৃত খাওয়া হচ্ছে তাকে বাদ দিয়ে ।
অঘটনের দিন, আমার ছোটবোন পাকা পেয়ারা খাচ্ছিল আয়েশ করে । যথারীতি লালুর আগমন এবং ঘেউ ঘেউ । যেন বলছে- ওগো আমাকে না দিয়ে, কি খাচ্ছো একা একা? । দাও না একটু চেখে দেখি বস্তুটা কি? আমার বোন আবার লালুর চেয়ে এককাঠি সরেস । লাল টুকটুকে পাকা পেয়ারা, সে না খেয়ে লালুকে দিবে? এতবড় কলজে তখনো হয়নি ওর । সুতরাং লালুর হাত থেকে বাঁচার জন্য দৌড় দিলো । আর লালু ভাবলো -আহা! নিশ্চয়ই মজাদার কিছু । তা না হলে পলায়ন কেন? অতঃপর লালুও দে ছুট পেছন পেছন । একসময় লালুর আঁচড় লাগল আমার বোনের পায়ে ......
এরপর, ডাক্তার আর হাসপাতাল দৗড়াদৌড়ি । ভেবেছিলাম বোনের জলাতঙ্ক না হয়ে যায় না । কিন্তু একি? জলাতঙ্ক হল ঠিকই কিন্তু আমার বোনের না লালুর । আর এ কারনেই প্রাণ হারালো আমাদের আদরের লালু
এরপর থেকে আমার ছোটবোনের সাথে ঝগড়া হলেই বলি, তুই এত বিষাক্ত যে, কুকুর কামড় দিয়ে নিজেই মরে যায় অথচ তোর কিছুই হয় না ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



