আল্লায় বাঁচাইছে, আমার ছোট ভাই দুইদিন আগেই তার স্কুল পরিবর্তন করছে । তা না হইলে তাকেও তার বন্ধুদের সাথে জেলের ভাত খাইতে হইত । ছোট ভাই গেছে গাজীপুরে বনভোজন খাইতে । আমার জানা মতে সবাই বনভোজন করতেই যায় কিন্তু আমাদের ছোট ু মিয়া গেছিলো খাইতেই । সেদিন তার পুরাতন স্কুলের এক বন্ধু বাসায় ফোন করে ঘটনাটা আমাদের জানায় । ছোটু বনভোজন থেকে ফেরার পর আরো কয়েকজনের বাসায় ফোন করে যে কাহিনী উদ্ধার করল সেটা হইল............
পুরাতন স্কুলে তারা ( আমার ছোট ভাই ও তার বন্ধুগণ ) মিলে একটা "পেটোয়া বাহিনী" গড়ে তুলেছিল । তাদের কাজ ছিল উপরের ক্লাসের ছেলেপেলেদের সাথে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া বাঁধানো । আর কোনমতে একটা ঝগড়া বাঁধাতে পারলেই সেটা মারামারি পর্যন্ত গড়াতো । সেদিন কি নিয়া মারামারি হইছিল সেটার সঠিক কারন জানতে পারি নাই, কারন মারামারির ঘটনার আগেই ছোটু স্কুল পরিবর্তন করেছে । কিন্তু সে স্কুল পালটাইছে আর 'পেটোয়া বাহিনী' তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিবে তা তো হয় না । সেইজন্যই বোধহয় এই মারামারি টা । তবে যারা মাইর খাইছে তাদের ভিতর একজনের বাবা ছিল বিরাট প্রভাবশালী ব্যক্তি । মাইর খাওয়ার পরপরই সেই ছেলে তার বাবাকে দিয়ে আমার ভাইয়ের ক্লাসের সবার নামে ক্যামনে ক্যামনে জানি পুলিশি রিপোর্ট করছে ( টাকা খাওয়াইছিলো মনে হয় )।
14তারিখ ভ্যালেন্টাইনের দিন বেরসিক পুলিশ আইসা দুইজনরে বমাল ( ছেঁড়া ইউনিফর্ম এবং স্টীলের স্কেল ) ধইরা নিয়া গেছে । বাকিরা কিভাবে জানি টের পাইয়া পালাইছিলো । যে দুইজনরে ধরছে তাদের মধ্যে একজন নাকি ঘটনার দিন উপস্থিত ছিলই না । সে জেলে যাওয়ার পর জানতে পারছে যে, স্কুলে মারামারি হইছিলো । একদিন কারাবাসের পর তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয় ( অবশ্যই টাকার বিনিময়ে ) এবং সাবধান করে দেয়া হয় এরকম যেন আর না হয় । সোজা বাংলায়, প্রভাবশালীর সন্তানদের গায়ে টোকা না পড়ে ।
যেহেতু এটা ছিলো স্কুলের ঘটনা তাই বিচারের দায়িত্বটা শিক্ষকদের দিলেই মনে হয় ভালো হইত । এভাবে ছোট বাচ্চাদেরকে ( 7ম শ্রেণী ) পুলিশ দিয়ে হয়রানি করলে এদের মানসিক অবস্থাটা কেমন হতে পারে? আমার তো মনে হয় এরা এখন আরো বেশী কইরা হিংসাত্মক কাজ করব । ছোটু ফোনে খোঁজখবর নিয়া আমাকে সব জানাইছে, যে দুইজন জেল খাটছে ( বিশেষ কইরা যে ছেলেটা কিছুই করে নাই ) এরা নাকি এখন নতুন কইরা প্ল্যান করতেছে, কিভাবে ঐ প্রভাবশালীর ছেলেরে টাইট করা যায় ।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার: ব.ভাই এবং রি.ভাই ( সহযোগিতা করার জন্য )
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




