যেহেতু গোয়েন্দা দল গঠনের প্রস্তাবটি এসেছে আমার উর্বর মস্তিষ্ক হতে আর এ ব্যাপারে একমাত্র আমিই জানি তাই প্রথমেই দুই সহকারীকে বুঝালাম আমাদের উদ্দেশ্য এবং কার কি করণীয় । এক্ষেত্রে তিন গোয়েন্দার বইগুলো আমার গাইডের কাজ দিল । ওদেরকে আমি আমার বইগুলো পড়তে দিলাম যাতে করে ওদের গোয়েন্দাগিরি সম্পর্কে কিছু ধারনা হয় । কিন্তু ওরা কোন বই-টই পড়তে আগ্রহী ছিল না । তাই আমাকেই বাধ্য হয়ে মূল কাহিনী যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত করে বুঝাতে হল । অবশেষে আমি প্রস্তাব করলাম, যেহেতু আমি তোদের চেয়ে বড় আর গোয়েন্দাগিরি সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী সুতরাং আমিই হব নেতা। তারা মাথা নেড়ে সম্মতি জ্ঞাপন করল । এবার আমার দ্বিতীয় প্রস্তাব উত্থাপিত হল, যেহেতু আমরা এখন গোয়েন্দা সুতরাং আমাদের নামও হওয়া উচিত গোয়েন্দাদের মত । তখন পর্যন্ত তিন গোয়েন্দাই ছিল আমাদের ভরসা । তাই নামের ক্ষেত্রে আমরা তাদেরকেই বেছে নিলাম । কিন্তু কে কোনজন হবে সেটা নিয়ে মোটামুটি ঝগড়ার মত হয়ে গেল । আমার ইচ্ছা আমি হব কিশোর কিন্তু মুন্নী আর তন্বীরও ইচ্ছা কিশোর নামটা নেয়ার । অনেক কষ্টে তাদের বুঝাতে সক্ষম হলাম যে, যেহেতু তোদের চেয়ে আমি বড়, বুদ্ধিমান আর দলের নেতা সুতরাং কিশোর নামটা আমাকেই দেয়া উচিত । কিন্তু গোল বাঁধল রবিন আর মুসা নাম নিয়ে । কেউই মুসা হতে চায় না । মুন্নীর যুক্তি যেহেতু মুসা কালো ( নিগ্রো ) আর ভূতের ভয়ে ভীতু সুতরাং তন্বীকেই এ নাম দেয়া উচিত । আর তন্বীর যুক্তি হল, মুন্নী একটু পেটুক টাইপ আর মারামারিতেও বিশেষ সুনাম আছে সুতরাং মুসা হওয়া তারই সাজে । মুন্নীকে বুঝালাম যে রবিন হলে অনেক পড়াশুনা করতে হবে আর অনেক অনেক ফাইল লিখতে হবে, অবশেষে কান্নাকাটি আর মারামারির ধাপ শেষ করে মুন্নীকে মুসা আর তন্বীকে রবিন উপাধি দেয়া হল ।
আমরা গোয়েন্দা দল গঠন করার পর একটা সুন্দর হেড কোয়ার্টার বানিয়েছিলাম । আর কেসের কথা কি বলব? মোট 10/12 টা কেস পেয়েছিলাম কিন্তু সমাধান করতে পেরেছি মোটে 3 টা কি 4টা । সেগুলো নিয়ে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হবে ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



