somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার প্রথম প্রেম

০১ লা জুন, ২০১৫ বিকাল ৪:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তোমার প্রেমে যখন পড়লাম, আমার
ঘুম আর জেগে থাকা এক হয়ে গেল;
আমার ঘুমের ভেতর চলতে থাকে,
তোমার পদচারণা, অর্ধেক বাস্তব চলে আসে
সেখানে,- তোমার পায়ের শব্দ, হাসির শব্দ,
টেবিলে হাত রাখার শব্দ আমি শুনতে পাই;
চোখ বন্ধ থাকে, তবুও দেখতে থাকে,
দেখতে থাকে ক্যাম্পাসে তুমি হেটে বেরাচ্ছ,
কাছের বন্ধুদের কি যেন বুঝাচ্ছ, চায়ের কাপে ফু দিচ্ছ, আমি তোমার সামনেই আছি,
আমাকে দেখতে পাচ্ছ না একটুও! ক্লাস রুমে স্যারের লেকচার শুনছ খুব মনযোগ দিয়ে,
মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছ, স্যারকে আমার খুব ভাগ্যবান মনে হচ্ছে, স্যার মনে হয় কবিতা পড়ছে, ক্লাসের সবাইকে মনে হয় গান শুনছে, সবাই আনমনা; তুমি এক হাতে ধরে আছ বান্ধবির হাত, তোমার বান্ধবিকে লাগছে রাজপুত্রের রাজ ভাগ্যের অধিকারী,
ঐ হাত ধরার স্বপ্ন আমাকে স্বপ্নের ভেতর থেকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে আরো গভীর স্বপ্নের ভেতর; আমি দেখছি, সাপুড়ের মত কলম নারাচ্ছ তুমি আঙ্গুল দিয়ে;দেখছি, তোমার ফর্সা গলা বেয়ে বেয়ে পড়ছে ঘাম,
তোমার ঘামকে মনে হচ্ছে গোলাপের মধু,
ফ্যানের বাতাসে চুল এলো মেলো হয়ে যাচ্ছে, তুমি হাত দিয়ে দিয়ে শাষণ করছ বার বার।
আমি যখন জেগে থাকি, চেয়ে থাকি, কোন কিছু স্পষ্ট করে দেখিনা; ক্যালেন্ডারে পাতার দিকে তাকিয়ে থাকি, আমাকে প্রশ্ন করলে আমি বলতে পারব না ঐ পাতায় আজকের
তারিখ, বার মাসের নাম; আমি বন্ধুদের আড্ডায় থাকি, ওরা গল্প করে, মাঝে মাঝে আমাকে ধরে ঝাকুনি দেয়, আমি চমকে যাই, বাস্তবতার ভেতরে আমি স্বপ্ন খুজে বেরাই, হাতে ধরা চায়ের কাপ ঠান্ডা হতে থাকে, রাস্তায় হাটি খুব সাবধানে, বন্ধু আমাকে শিশুর মত হাত ধরে ধরে রাস্তা পার করে, শার্ট কিনে দোকানিকে তার দাম দিতে ভুলে যাই, আমার আশে পাশে কেউ
মারা গেলেউ আমি শোক পাই না!
বিয়ে বাড়িতে বিকট শব্দে গান চলতে থাকে, মধ্য রাত অবধি ওরা নাচে, আমি কোনায় চেয়ারে বসে থাকি, রাত পার হয়ে যায়, ওরা
ঘুমতে যাওয়ার জন্য আমাকে ডাকে, আমি ঘুমতে যাই, ওরা পড়ে পড়ে ঘুমায়, আমার চোখে ঘুম আসে না !
স্কুল ছুটি হলে আমার বন্ধুর দোকান থেকে
দেখা যায় ;দল বেধে ওরা আসে দোকানে, টুকিটাকি জিনিস কেনে, সামান্ন গল্প করে, একটু আড্ডা দেয় ; আমি মিলাতে থাকি- কার নাকের ভাজ তোমার মত, কার চোখের মণি তোমার মত কালো, কার কথা বলার সময় ঠোট তোমার মত করে নাড়ায়, কে তোমার মত করে ওড়না ঠিক করে, কে তোমার মত করে হাতের উপর হাত রাখে, কে তোমার রঙ্গের জামা সেন্ডেল পড়ে ;ওরা কিছুক্খনের মদ্ধেই দোকান ছেরে যায়,
আমি ওদের পায়ের দিকে তাকিয়ে থাকি,
তোমার পায়ের সাথে ওদের পা মেলাতে থাকি !
বাসায় দুপুরে টিভি সেটের সামনে বসি,
নাটক গান চলতে থাকে, একটার পর একটা চ্যানেল পাল্টাই, কোন কিছু আমাকে স্থীর রাখতে পারে না ;এক সময় রিমটে টিপ দিতে মনে থাকে না, প্রোগ্রাম শেষে বিরামহীন বিগ্গাপন চলতে থাকে, আমি তাকিয়ে থাকি, কোন কিছু বুঝতে পারি না!
রাস্তায় পরিচিত রিক্সায়ালা আমাকে দেখে ডাকতে থাকে ; বলে কোথায় যাবেন, আমি মনে করতে পারিনা আমি কোথায় যাব, কিছু না বলে উঠে পড়ি, রিক্সাওয়ালাকে বলতে চাই তোমার বাড়ির ঠিকানা, বলতে পারিনা, ও একটা দু'টা করে কথা বলতে থাকে, আমি আশে পাশের মানুষের হেটে যাওয়া দেখি, গাড়ির পেছনে লেখাগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকি, বাসার সামনে আসলে
আমাকে নামিয়ে দেয়, টাকা চাইতে ওউ ভুলে যায় ----
কাছের বন্ধু তার প্রেমের গল্প করে, আমি খুব মনোযোগ দিয়ে শুনি, ওর প্রেম তখন আমার প্রেম হয়ে যায়, ওর প্রেমিকাকে মনে
হতে থাকে তুমি, আমি চুপ করে থাকলেও ও বলেই যায়; ওর কথার সাথে আমি ঘুরতে থাকি ঝুম বৃষ্টিতে, তুমি খুব শক্ত করে আমার হাত ধরে হাটছ, গাছ থেকে টোকাই ছেলেরা এনে দিচ্ছে কদম ফুল, ওদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছ তুমি, ওখানে ওদের সাথে আমারো শিশু হয়ে যেতে ইচ্ছে করছে, তোমার হাতের আদর মাখাতে ইচ্ছ করছে আমার চুলে, তারপর ঘন্টা চুক্তিতে রিক্সা নিলাম, বৃষ্টি পড়ছে, বৃষ্টি আর হাওয়ার ঝটকা তোমার ওরনা উড়িয়ে নিতে চাচ্ছে, তুমি এক হাতে ওড়না আর এক হাতে কদম ফুল ধরে রিক্সায় উঠলে, আমি মনে মনে বলছি- আজকের বৃষ্টি যেন শেষ না হয়, আমার সারা শরীর সুখে ভরে যাচ্ছে, এত বৃষ্টিতেও আমার দেহের উষ্নতা কমছে না একটুও, ফাকা রাস্তায় আমাদের এই ছোট যান ধীরে চলছে, রিক্সা ওয়ালাকে ফেরেস্তার মত লাগছে, আমাদের এ রাস্তা জান্নাতের রাস্তা মনে হচ্ছে; তোমার ভেজা চুল, ভেজা শরীর, ভেজা ভেজা কথা ঢুকে যাচ্ছে আমার হ্নদপিন্ডে; কথা শেষে ওর ঝাকুনিতে আমি,
বাস্তবের দুপুরে ফিরে এলাম।
এক দিন লাইব্রেরীতে আমাকে দেখে চিনতে পারলে তুমি, বললে এই যে, আপনি আমাদের এলাকায় থাকেন, তাই না? আমার কোন কথা বেরুলোনা মুখ থেকে, তার পর কি কি বললে কিচ্ছু শুনতে পারলাম না, তোমার এই যে ডাক বার বার প্রতিধ্বনিত হতে থাকলো আমার চারপাশে, তুমি চলে যাবার পর অনেকক্খন দাড়িয়ে ছিলাম!
তার পর আরেক দিন, পাশের ক্যানটনমেন্ট এ কি এক ঝামেলায় ক্লাস হল না। দূর থেকে আমাকে দেখে সামনে এলে, বললে চলেন বাসায় যাই, চলেন আজ আমাকে বাসায় এগিয়ে দিবেন। নিয়ে গেলে তোমার বাসায়, জানলাম, তোমার বাবা মা কানাডায় থাকেন, অনার্স ফাইনাল শেষে তুমিও চলে যাবে।
তারপর পরিক্খা শেষে গ্রীষ্মের ছুটি হল। ক্যাম্পাসে যাইনি অনেক দিন। হঠাৎ তোমার চলে যাওয়া কথা মনে হতেই আৎকে উঠলাম, দৌড়ে গেলাম তোমাদের বাড়ির সামনে, দেখি মস্ত এক তালা ঝুলছে!
কষ্টে আমি মাটিতে বসে পড়লাম!
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুগল এ.আই. - প্রফেশনাল সার্টিফিকেট পেয়ে গেলাম

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৫


বিগত কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে কোর্সেরাতে টুকটাক কোর্স করছি, মাঝে মধ্যেই সার্টিফিকেট পাচ্ছি। তবে প্রফেশনাল সার্টিফিকেট কোর্স কখনো করা হয় নি। বলে রাখা ভালো কোর্সেরা ফ্রি নয়, এখানে আপনাকে পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মদিনার মিষ্টান্ন, শ্রী ঘোষের দধি: সম্প্রীতির যে রেখা চোখে পড়ে না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৮



২০২১ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে প্রয়াত লেখক, গবেষক ও বাম রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমরকে দেশের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ষাটের দশকে যিনি ‘সাম্প্রদায়িকতা’ নামে আস্ত একটা বই... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বেগম রোকেয়া, একজন মাদাম কুরী এবং একজন আএলিটা

লিখেছেন নাজনীন১, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০



মঙ্গল গ্রহের রাণী আএলিটা।



রাশিয়ান বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর একটি চরিত্র। ১৯২৪ সালের সাদা কালো ম্যুভিটি বানানো হয়েছে,সায়েন্সফিকশন উপন্যাসটি লিখেছিলেন এলেক্সে নিকোলেভিস টলস্টয়, ১৯২৩।


বাংলাদেশে এক সময়ে বিজ্ঞানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ পর্ব-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯



এবার জিন্নাহর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যে আসা যাক। জিন্নাহ জন্মসূত্রে গুজরাটি ছিলেন এবং কেবল ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষা জানতেন। তিনি উর্দু বলতে পারতেন না। সেক্যুলারিস্ট জিন্নাহ যেহেতু ব্যক্তিজীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামের জ্ঞানদীপ : যুক্তির আরব্য-ফারসী নবযাত্রা প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য -৩য় পর্ব

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:১৭
×