বুকে কয়েক টন আশা নিয়া অনেক বাংগালীর মত গত পরশু আমিও বাংলাদেশ বনাম ভাতের খেলা দেখিতে বসিয়াছিলাম।কিন্তু প্রথমেই একাদশ দেখিয়া বেশ চমকিয়া গিয়াছিলাম।মুশফিকুর রহিম চার নম্বরে ব্যাট করিতেছে ভালো কথা; কারণ এইবার জাতীয় লীগে তিনি ঐ স্থানে ব্যাট করিয়া ব্যাপক সফল হইয়াছেন আর উনাকে যদি ঐ জায়গায় নিয়মিত খেলানো হয় এবং উনি যদি জাতীয় লীগের মত সফল হন তাহা হইলে দল নিঃসন্দেহে লাভবান হইবে এই কথা বলিবার অবকাশ থাকে না।কিন্তু কিয়দক্ষন পরেই দেখিতে পাইলাম ছয় নম্বর ব্যাটস্ ম্যানটির নাম রাকিবুল ! বুকের ভিতরটা খুড়-বুড় খুড়-বুড় করিয়া উঠিল, ঠিক হাসিব নাকি কাঁদিব বুঝিতে পারিলাম না।এই স্থানে যদি আমি কোন ব্যাটস্ ম্যানই খেলাইব তবে এমন কোন ব্যাটস্ ম্যান খেলাইব যাহার হাতে প্রচুর মার আছে এবং যাহার মাধ্যমে আমি ব্যাটিং পাওয়ার প্লের পূর্ণ সুবিধা লইতে পারি।এই মতে স্থানটির জন্য সবচাইতে উপযোগী ক্রিকেটার হইলো অলক কাপালি যিনি আমাদের 'অ' যুক্ত পদার্থ নির্বাচক গনের কৃপাধন্য হইতে না পারিয়া বর্তমানে দলেই তাহার স্থান করিয়া লইতে পারেন নাই।তিনি থাকিলে আরও একটি যে লাভ হইত তাহা হইল বাম হাতি ব্যাটস্ ম্যানে ভরা ভারতের বিপক্ষে আমরা একজন ডান হাতি লেগ স্পিনার পাইতাম যাহা এই ম্যাচে হয়তোবা বেশ কাজ দিতে পারিত। অনেকেই হয়তো বলিতে পারেন যাহা করিবার তাহাতো শেবাগই করিয়া দিয়া গিয়াছে, বাম হাতিরা আর কি করিল, আহারে ভায়া বামহাতি গম্ভীর, খোলি'রা সাহায্য করিয়াছে বলিয়াইতো শেবাগ নিশ্চিন্তে তাহার রূদ্ররূপ দেখাইতে পারিয়াছে ;চিন্তা করিয়া দেখেন যদি অন্য প্রান্তে ঐ পরিমান সহযোগিতা না পাইতো তাহা হইলে কি শেবাগ একটু হইলেও চাপে পড়িয়া যাইতো না? আবার এর পরে যুবরাজ,হরভজনরা তো থাকিয়া গিয়াছিল। যাহা হউক যেহেতু কাপালি বিশ্বকাপ দলেই নাই আফসোস করিয়া আর কি লাভ হইবে।কিন্তু তাহার পরেও কি বাকিরুল সঠিক চয়েস? আমিতো বলিব যত দোষই থাকুক এই যায়গায় বর্তমান দলের সবচাইতে উপযুক্ত ব্যাটস্ ম্যানটির নাম আশরাফুল। 'আশরাফুল' নামটি শুনেই এতক্ষনে হয়তো অনেকেই আমার মুন্ডপাত করিতে শুরু করিয়া দিয়াছেন! কিন্তু একটু ভাবিয়া বলুন এই স্থানে ঐ আহাম্মক ছাড়া আর কে খেলিতে পারে।আশরাফুলকে কি কারণে আহাম্মক বলিলাম তাহা পড়ে ব্যাখ্যা করিতেছি, তাহার আগে বলিয়া নেই এই স্থানে ২য় পছন্দটি হইতে পারে শাহরিয়ার নাফিস; কিন্তু কখনই রাকিবুলের মত স্বার্থপর খেলোয়ার নহে।বাকিবুলকে কি কারণে স্বার্থপর বকিলাম তাহাও পরে বলিতেছি।আবার আশরাফুল কিংবা নাফিস মাঠে না থাকায় একজন অভিজ্ঞ খেলোয়ারের প্রয়োজনিয়তা বেশ বুঝা যাইতেছিল।সাকিরের বারং বারের সেই অশায় মুখখানা অনেক কষ্টে সহ্য করিয়াছিলাম, কিন্তু গত কয়েক টুর্নামেন্টেই দেখিয়াছিলাম সাকিব সমস্যায় পড়িলে আশরাফুলের সাথে আলোচনা করিতে; তাছাড়া এই ম্যাচেইতো দেখিলাম শচিন কিভাবে বোলিং এর সময় তাহার দলের বোলারদের মনবল বাড়াইতেছিলেন। অভিজ্ঞতার একটি মূল্য সবসময়ই থাকিয়া যায়। আর সব চাইতে ভালো সিদ্ধান্ত হয়তোবা হইতো এই যায়গায় একজন তৃতীয় পেসার খেলানো সেক্ষেত্রে নাজমুল হলো অটোমেটিক চয়েস কাবণ ইণজুরি কিংবা যাহাই হোকনা কেন মাশরাফিকেতো আর পাওয়া যাইবে না। রুবেল কিন্তু ভলোই বল করিতেছিল অন্য পক্ষ থেকে সে কোন সাপোর্টই পাইতেছিল না।আমি বলিতেছিনা যে সুহাস খারাপ বলার আমি এটা মানি যে সুহাস মাশরাফি আর শাহাদৎ এর যোগফল, কিন্তু সবদিনতো আর সবার সমান যায় না তাই নাজমুল থাকলে আমাদের আর একটি অপশন থাকিয়াই যাইতো কারণ আমরা যানি স্পিনের বিপক্ষে ভারতেব্যাটিং বিশ্বসেরা।
এবার আসি রাকিবুলকে কি কারণে আমি স্বার্থপর খেলোয়াড় বলিয়াছিলাম।রাকিবুল এমন এক খেলোয়ার যে সব সময়ই নিজের জন্য খেলে। দলের কথা চিন্তা করিয়া খেলিতে তাহাকে আমি খুব কমই দেখিয়াছি।এই ম্যাচের কথাই ধরেন না কেন রাকিবুল মাটে নামার আগ পর্যন্ত কিন্তু বাংলাদেশ মোটামুটি সমানে সমান লড়িয়া গিয়াছে।কিন্তু রাকিবুল মাঠে নামার ফলেই শেষ আট ওভারে রান সংখ্যা ৩৫ যেখানে তাহার রান ২৮ বল খেলিয়াছেন ৪৪ টি।তাহাকে প্রথম মারিতে দেখিয়াছিলাম তাহার বান ১৬ হইবার পরে; অথচ ঐ সময়ের ব্যাটস্ ম্যানের কাজই হইল মাড়িয়া খেলা। রাকিবুল মারিয়া খেলিলেইযে বাংলাদেশ জিতিয়া যাইতো তাহাও নহে, তবে হারার আগেই হারিয়া যাইতো না অন্তত সাকিব-তামিমরা খেলার সময় যেমন লড়িতেছিল তেমনই লড়িত ভাগ্য ভালো থাকিলে হয়তো....। আপনারা হয়তো লক্ষ করিয়া থাকিবেন যে রিয়াদের কয়েকটি সহজ ডাবল কলে রাকিবুল সাড়া দেয় নাই; কারন যদি সে আউট হইয়া যায়। এখানে আউত হইলে দলের ক্ষতি হইবে এমন ভাবিয়া সে রিস্ক নেয় নাই এমন ভাবিলে ভুল করিবেন। কারণ ঐ সময়টাই ছিল রিস্ক নেবার। আসলে সে ১৫ বা তার বেশি রান করিয়া তাহার পরবর্তি ম্যাচ নিশ্চিৎ করিতেছিল।অবাক হইলেন মাত্র ১৫ রানেই পরের ম্যাচ নিশ্চিৎ! হ্যাঁ ।কারন তিনি পাকিস্তানের সাথে ম্যাচেও তাই করিয়াই এ ম্যাচে তাহার স্থান পাকা করিয়াছেন কেননা তিনি যে সিডন্সের বেশ প্রিয় খেলোয়াড় আর এই ৬/৭ ব্যাটস্ ম্যানের কাছে প্রত্যাশাটাও খুব বেশি থাকেনা, যদি না তিনি পাঠান টাইপের কেহ না হন।পাঠানের কথা আশাতেই আবার আশরাফুলের কথা মনে পড়িয়া গেল। এ্যাশকে দিয়া কিন্তু আমরা নো উইকেট ধরে পাঠানের মত ফ্রি ষ্ট্রোক খেলাইতে পারি। ও' আর আশরাফুলকে কেন আহাম্মক বলিয়াছি তাহা এইবার শুনেন, এই পোলাটারে আমিও জীবনে অনে গালাগালি করিয়াছি। কিন্তু এই পোলাটা কখনই হারার আগে হারেনা... পাকিস্তান ম্যাচে বড় রান তাড়া করিতে গিয়া সে আহাম্মকের মত মারিতে গিয়াই ৫ রানে আউট হইয়াছে আর ভারতের বিপক্ষে দলে জায়গা পায় না.... তাই তাহাকে আহাম্মক ছাড়া আর কিই বা বলিব। হ্যাঁ সেদিন পাকিস্তানের বিপক্ষে সে মারিতে গিয়া আউট হইয়াছিল কিন্তু যদি সে মারিতে গিয়া মারিতেই পারে তাহা হইলে কি হয় এটা মনে হয় সবারই জানা।তাই ৬/৭ যদি একজন অতিরিক্ত ব্যাটস্ ম্যানই খেলাই তাহা হইলে নো উইকেট ধরিয়া কি টাহাকেই খেলানো উচিৎ নহে; যেখানে রাকিবুল আর মাহমুদুল্লার মধ্যে কিন পার্থক্য নাই।তবে ভাই আমরা হইলাম মাথা মোটা, কিছুই বুঝিনা.... আমাদের বিজ্ঞ কোচ-নির্বাচকরা ঠিকই পরের ম্যাচেও ঐ রাকিবুলকেই রাখিবেন; যদি কোন অদল-বদল হয় তাহা হইটে দেখিবে রিয়াদ/নাঈমের জায়গায় শুভ/নাজমুল খেলিবেন।
রাকিবুলের খেলা দেখিতে দেখিতে আমার এক ছোট ভাই বলিয়াছিল, " ভাই একটা বন্দুক দেন তো ঐ ছাগলটারে মারিয়া ফাসিতে ঝুলি"। আমি মুচকি হাসিয়া বলিয়াছিলাম, 'রাকিবুল পরের ম্যাচে তাহার জায়গা করিয়াই লইল...
(বিঃদ্রঃ রি পোষ্ট)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




