ছবিটা স্কুলফিরতি কিছু বাচ্চার। দাদা তুলে এনেছিল। নিউজ পেপারের জন্য ছবি তুলতে গিয়ে দাদা এই বাচ্চাদের পায়। ওরা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ করে জামাকাপড় খুলে রাস্তার পাশের ডোবায় নেমে যায় এবং শাপলা তুলতে শুরু করে। দাদা অনেকক্ষন ওদের সাথে গল্প করে। দাদা জানতে পারে, এই শাপলা বিক্রি করে ওরা বিস্কুট খাবে এবং খাতা কিনবে। এক এক আঁটি ২ টাকা। ওদের সবার বাবা মা'ই দিনমজুরের কাজ করেন। স্কুলের খাতাপত্র যোগাড় করে দেওয়া তাদের পক্ষে অনেক সময়ই সম্ভব হয়না। এমনকি স্কুল থেকে ফিরে ওরা খাবারও পায়না। একেবারে রাতে বাবা, মা ফিরে এসে রান্না করবেন, তবে খাওয়া (এখন অবশ্য স্কুলে মিড ডে মিল চালু হয়েছে)।
এই ছবিটা নিয়ে একটা ঘটনা আছে। এটা উততরবঙ্গের জনপ্রিয় পত্রিকায় ছাপা হয়। ক্যাপশন ছিল, বেঁচে থাকার সংগ্রাম। তিন চার দিন পর জনৈক ব্যক্তি এটি খবরের কাগজে প্রকাশের সমালোচনা করেন, বলেন এটি নাকি অশ্লীল, নগ্ন ছবি ছাপানো বিকৃত মানসিকতার পরিচায়ক, ফোটোগ্রাফারের রুচিবোধ নিম্ন। স্বাভাবিকভাবেই আমার ভীষন রাগ হয় এবং আমি জবাবী চিঠিতে লিখি, মাতৃস্তন্য পান রত শিশুর ছবি দেখে কি কারও অশ্লীল মনে হয়? যদি মনে হয় তবে সেটা তার মানসিকতা। বিষয়টি নির্ভর করে আপনি কোন নজরে ছবিটি দেখছেন। উনি আর কিছু লেখেন নি। আপনাদের কেমন লাগল
(ছবিটির সর্বস্বতত সংরক্ষিত)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৫:১৬