আমরা জীবনে গতি চাই , গতি শারীরভাবে বয়স বৃদ্ধি আয়ু হ্রাস । তবু গতি গতিই জীবন স্তিতিই মৃত্যু । নিস্ক্রিয়তা নিস্পৃহা নিরুদ্দিষ্টতা মাত্রই মৃত্যুতুল্য জীবনমৃতাবস্তা মাত্র । আমরা গতিকেই প্রগতিকেই-প্রাগ্রসারতাকেই মনের মননের মগজের মনীষার , আবিষ্কারের উদ্ভাবনের , নতুন চেতনার নতুন চিন্তার নতুন সৃষ্টির নতুন নির্মাণের উৎস ও ভিত্তি বলে মানি ।
সংস্কৃতি তো মানস প্রসূন । কাজেই এর সার্থক অনুশীলনের জন্যেই একটা গুণগত মানের-মাপের মাত্রার স্বশিক্ষিত-নৈতিক , আর্থিক সামাজিক অবস্থা অবস্থান আবশ্যিক । সংস্কৃতি যখন আবশ্যিক ; তখনই সংঘর্ষ । ক্রান্তিকাল , বড়ো অশুভ সময় এসেছে পৃথিবীতে , যারা অন্ধ তারা আজ চোখে সবচেয়ে বেশি তো দেখতে পাচ্ছেই,তারা অন্তত বড়ো বেশি বিশ্বাস করছে এবং পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে বিস্বাসের মহামারি । যার একেকটা সুতীক্ষ্ণ তীর এসে বিদ্ধ করেছে বাঙলা , বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতিকে । যার আঘাতে আঘাতে আজ বাঙালি সংস্কৃতি খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে । হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি আজ কূপমণ্ডূকদের কাছে জিম্মি । এরা কারা ? কারা কলকাঠি নাড়াচ্ছে এদের পেছনে ? এরা অতিমাত্রায় মুসলমান ; অতিমাত্রায় হিন্দু । কিন্তু আমাদের হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য কী তা সাক্ষ্য বহন করে ? করেনা । আমরা ইংরেজদের সংস্পর্শে আসার পরপরই দেখতে পাই বাঙালি মুক্তমনা সংস্কৃতিপ্রেমী প্রগতিশীল ব্যক্তিদের । যারা তৎকালে এবং স্বকালের জন্য বিস্ময় । রাজা রামমোহন রায় ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং ইয়ং বেঙ্গলরাই মূলত শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মুক্তচিন্তার অগ্রনায়ক ।
অন্যদিকে বাঙালি মুসলমানরা স্বকালে এসে প্রগতির দিকে কিছু পথ হাঁটার পর ক্লান্ত-শ্রান্ত,দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েছে , আবার ফিরে যাচ্ছে পিছনে ও প্রতিক্রিয়াশীলতার দিকে । এখন এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য এক ভয়ঙ্কর দুরারোগ্য ব্যাধি হচ্ছে প্রতিক্রিয়াশীলতা , ভয়াবহ ধর্ম ব্যবসা , ভয়াবহ ধর্মান্ধতা ও পরিকল্পিত মৌলবাদ ! বাংলাদেশ এখন ধর্মান্ধ ও কথিত সেক্যুলারি ( আওয়ামি বিএনপি জামাত জুমাত এবং কতিপয় বামেরা) প্রতিক্রিয়াশীল মৌলবাদী শকুনদের অভয়ারণ্য ।
তাই এখন-ই সময় সংস্কৃতির এই বন্ধ্যা সময়ে ধর্মান্ধ অধর্মান্ধ প্রতিক্রিয়াশীলদের হাত থেকে বাঙলা বাঙালি তথা হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতিকে রক্ষা করা । প্রতিক্রিয়াশীলতা এখন প্রবল । আর্থ-সাম্রাজ্যবাদ , পুঁজিবাদ বজায় রাখার জন্য তাকা পয়সার লোভ দেখিয়ে ধর্মের-শাস্ত্রের অলীকতার, জাতিয়তাবাদী দোহাই দিয়ে লোকজনকে ঐ পথে পরিচালিত করছে ।
বিজ্ঞানের এই অসাধারন যুগে যখন কিছু অবিশ্বাসী সূর্যালোক পেরিয়ে ঢুকতে চাচ্ছে মহাবিশ্বে ; তখন আমার স্বদেশ মেতে উঠেছে মধ্যযুগীয় বিশ্বাস আর হানাহানিতে । শক্তি লোভী ভ্রষ্ট রাজনীতিকেরা মানুষকে বিশ্বাসী করে তুলেছে ; যা খুবই ক্ষতিকর । যার ফলাফল বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভোগ করেছে । আজ বাংলাদেশের সবাই বিশ্বাসী ! শক্তিমান থেকে দুর্বল সবাই চরম নিস্টার সাথে বিশ্বাস লালন পালন করছে । আমি এইসব প্রথাগত চিন্তাচেতনা অবিস্বাস করি । আমাদের ব্রত হোক নতুন চিন্তা চেতনা ; আমাদের পথচলা হোক মানবতা মানবমুক্তি ও হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির গৌরবে ঐতিহ্যে যোগ্য উত্তরাধিকারী । যা রবি ঠাকুরের ভাষায় বলতে হয় ...
'আকাশেতে য়ামি রাখি নাই মোর উড়িবার ইতিহাস
তবু উড়েছিনু এই মোর উল্লাস ।'

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


