somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দানব নয় , মানুষ-মানবতারই জয় হবে !

১৭ ই এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


হয় ওরা না হয় আমরা । এক পক্ষকে জিততেই হবে । হয় ওরা না হয় আমরা জিতবো । দ্বন্দ্বটা হলো শুভ আর অশুভের । সেই প্রাগৈতিহাসিক দ্বন্দ্ব-বিরোধ আর যুদ্ধের । যে যুদ্ধে সবসময়ই অসংখ্য তাজা প্রাণ আত্মত্যাগ করে শুভশক্তির ঝাণ্ডা উড়িয়ে দেয় । প্রাগৈতিহাসিক সেই যুদ্ধটা আজ সম্মুখে কড়া নাড়ছে । যেখানে গুটিকয় অতিকায় 'শ্বেতহস্তী' সেই যুদ্ধের দামামা বাজাচ্ছে । অতিকায় শ্বেতহস্তী দানবেরা চোখ-মুখ খিঁচিয়ে ভারি ভারি অস্ত্র মেশিনগান বোমা মাইন গ্রেনেড মারণাস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে বেড়াচ্ছে পুরো পৃথিবীর মানুষকে , পৃথিবীকে ।

সেই ভয়ানক ক্রান্তিকাল আজ এখন আমাদের নাকের ডগায় । অশুভ অতিকায় দানবেরা ভয়াল থাবা তুলে ঘাড়ের উপর গরম নিঃশ্বাস ফেলছে । দেয়ালে পীঠ ঠেকে গেছে আজ আমাদের সকলের । তাই বলে কী দেয়ালে চাপা পরে মরবো নাকি ! নাহ...হহহ ! মরবোনা । প্রাগৈতিহাসিক কিন্তু তা আমাদের সে শিক্ষা দেয়না । প্রাগৈতিহাসিক সেই আদিম অবস্তা থেকে আজ আমরা এই পর্যন্ত এসেছি । আমরা মরিনি । কারন আমরা এখনো বেঁচে আছি , বেঁচে থাকবো । আমরা আর্তনাদ করছি, গোঙ্গাচ্ছি, চিৎকার করছি আর তার মাধ্যমেই জানান দিচ্ছি আমরা বেঁচে আছি , মরিনি । আমরা প্রস্তুত হচ্ছি...একটা কিছু করার জন্য । লড়বো ! হারবো না !

অবশ্যই করবো । আমরা লড়বো । এভাবে কেউই আমরা বেঁচে থাকতে চাইনা । আমরা একত্রিত হচ্ছি । লড়াইয়ের জন্যে । লড়বো আমরা । এস্পার অস্পার হবে এইবার। একটা হেস্তনেস্ত করেই ছাড়বো । হয় দানবেরা নাহয় আমরা মানুষেরা । আমরা জানি আমরা কাদের বিরুদ্ধে লড়বো । আমরা এও জানি এরা হাতেগোনা ক'জন । আর ওদের বিরুদ্ধে আমরা নির্যাতিত পুরো পৃথিবীর দুখী মানুষেরা । কিন্তু ওদের হাতে আছে এমনসব ভয়াবহ মারনাস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবী নামক বিশাল গ্রহটা ওরা মিনিটেই শেষ করে দিতে পারে । কিন্তু আমরা তো জানি পৃথিবীকে আজতক আমরা মানে , প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে কীভাবে রক্ষা করে এসেছি । ভয়াবহ সেইসব রোমহর্ষক যুদ্ধের ফলে আমাদের পৃথিবীটা ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে কিন্তু আমরাই আবার সেই ক্ষতগুলো ধুয়েমুছে সাফসুতরো করে স্নেহ-ভালবাসা দিয়ে ঠিকঠাক সারিয়ে তুলেছি । এই হাত দিয়েই তো ওরা বোমা মাইন গ্রেনেড প্রতিদিন প্রতিনিয়ত ছুড়ে মারে । এই একই হাত দিয়েই আমরা সারিয়েছি তোমাকে , নিজেকে এবং বাঁচিয়েছিও নিজেকে । আমরা তো এই হাত দিয়ে গ্রেনেড মাইন বোমাও মারতে পারতাম,তাইনা ? কিন্তু আমারা তা পারিনা । আমরা প্রতিরোধ করেছি । ফুল ছুড়েছি । হোক না সে বাসি শুকনো ! সমুদ্র গুপ্ত কী বলেন জানো ? বলেন...

'এই নাও ফুল !
এমা! এতো কাগজের ফুল ?
হোক না কাগজের ফুল , ফুলই তো ?
এই কাগজ দিয়ে লোকটা তো বন্দুকও তো বানাতে পারতো !'



শুভাশুভের যুদ্ধটা একদম শ্বাসনালীকে আঁকড়ে ধরে আছে । হাঁসফাঁস করছি আমরা । মরণপণ লরাই হবে এইবার । কঠিন লড়াই । একবার । শুধু একবার , মত-পথ, ধর্ম-বর্ণ, জাতি ভেদাভেদ ভুলে নির্বিশেষে একত্রিত হবো আমরা । তারপর আসল লড়াই । do or die । এক্ষেত্রে কী ফল হবে তাও আমরা জানি । আমরা বিজয়ী হবো । কারণ শুভ'র ই জয় হয় । পরাজিত হয় অশুভ শক্তি । আমরা আরও জানি যে , জয় হবে শুধুই মানবতার-মানুষের । কোনও দানবের নয় । পরাজিত হবে ওরা । দানবেরা । লাল ঠকঠকে জিভওয়ালা রক্ত লুলোপ শ্বেতহস্তী দানবেরা বিলীন হবে কালের গর্ভে । সেদিন আর বেশি দুরে নয় , সম্মুখেই । সেদিন শান্ত হবে পৃথিবী , পৃথিবী হবে মানুষের । সেদিন আমরাই চিৎকার উল্লাসে কোরাস গাইবো । সেদিন প্রানভরে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেবে মানুষ এই পৃথিবীতে। এই দমবন্ধ ক্রান্তিকাল থাকবেনা । সব কিছুরই তো শেষ আছে । আমরা জানি, প্রাগৈতিহাসিক বিবর্তনিক বাতাবরন আমাদের জানান দেয় যে ... ... ...



' অতিকায় জলহস্তী লোপ পাইয়াছে , কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে !'

তাই আমাদেরই জয় হবে । জয় হবেই হবে মানুষের ।
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×