somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

যুদ্ধাপরাধের বিচার ও বাংলাদেশ

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে আড়াল করা পাকিস্তান এবার বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়েও অপপ্রচারে নেমেছে। নিজের দেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেনি তারা এবং এর কোনো ব্যাখ্যাও কখনো দেয়নি। এখন উল্টো বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির জন্য সুপরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করেছে পাকিস্তানিরা। এরই অংশ হিসেবে গত বুধবার ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রভাবশালী একটি নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক আইন ও বাধ্যবাধকতা বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির নামে এক কর্মশালা আয়োজন করে। সেখানে নির্বাচিত আলোচকরা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, বাংলাদেশ’-এর কার্যক্রম পর্যালোচনা ও এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
রিসার্চ সোসাইটি অব ইন্টারন্যাশনাল ল (আরএসআইএল) নামে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান পাকিস্তানের জারদারি সরকারের সাবেক আইনমন্ত্রী আহমেদ বিলাল সুফি। কর্মশালায় তিনি ছাড়াও যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির ডেপুটি সেক্রেটারি ড. ফরিদ আহমাদ পারাচা। জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়কে ‘ঢাকার পতন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে কর্মশালায় বলা হয়, ওই ঘটনাটি ধোঁয়াটে, রহস্যপূর্ণ ও অতি কথায় ঘেরা। আহমেদ বিলাল সুফি ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রেক্ষাপট তাঁর মতো করে তুলে ধরে দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ২০০৯ সালে এটি আবার সচল করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ওই বিচারে ভারতের জোরালো প্রভাব রয়েছে এবং বিরোধী দল, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীকে বেকায়দায় ফেলতে
বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি লঙ্ঘন করে ওই বিচার করছে। তিনি আরো অভিযোগ করেন, বিচারব্যবস্থায় বিবাদীদের সাংবিধানিক/মৌলিক অধিকার দেওয়া হচ্ছে না।
আহমেদ বিলাল সুফি বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাঠামো হিসেবেও অভিহিত করেন। কর্মশালায় উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জামায়াত নেতা ড. ফরিদ আহমাদ পারাচা সাবেক আইনমন্ত্রী আহমেদ বিলাল সুফির নেতৃত্বে একটি দলের বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে মূল্যায়নের প্রশংসা করেন। ওই জামায়াত নেতা দাবি করেন, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি ওই বিচারের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকারকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে।
ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) কেন্দ্রীয় তথ্যসচিব ও সংসদ সদস্য শিরিন মাজারি বলেন, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার বেশ সময় ধরেই চলছে। পাকিস্তান সরকার কেন এ নিয়ে এত উদাসীনতা দেখাল এবং কেন কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিল না?
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত সীমান্তে পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধে অংশে নেওয়া পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল তালাত মাসুদ বলেন, রাজনৈতিক বিষয়কে আইনি বিষয় থেকে আলাদা করা যায় না। দুটিই হাতে হাত রেখে চলে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তানের পাঠ্যপুস্তকগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস আড়াল করে নতুন প্রজন্মকে নিজেদের বর্বরতার কথা জানতে দেওয়া হয় না। জাপানের মতো দেশ যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন নৃশংসতার জন্য অন্য দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চাচ্ছে, সেখানে পাকিস্তান নিজের অতীত অপকর্ম আড়াল করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির ভুল ব্যাখ্যা করে ইসলামাবাদ যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধিতা করছে। অথচ ওই চুক্তিতে এমন কোনো কথা নেই। এমনকি পাকিস্তান নিজেই বিচারের আশ্বাস দিয়ে তার দেশের যুদ্ধাপরাধীদের ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশ পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দায়ের কথা সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানি দূতকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি এ দেশে জোরালো হচ্ছে। বিষয়টি অনুধাবন করে পাকিস্তান সুপরিকল্পিতভাবেই এর বিরুদ্ধে প্রচারণায় নেমেছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১১:১৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×