গত হরতাল হয়তো নিন্দিত। কিন্তু আগামীকালই অনেকের মনে ভাসতে থাকবে ঘরছাড়া খালেদার মুখচ্ছবি, তাঁর অশ্রুবিধৌত কান্না। সেই কান্না বাঙালির ‘কোমল’ মনের বন্দনাও পাবে। ভোটাশ্রয়ী আমজনতার মনও হয়তো গলবে। তাঁরা অতীতের দুঃশাসনের স্মৃতির সিন্দুকে ঢাকনা চাপিয়ে এই সরকারের ‘দুঃশাসনের’ গেরো খুলতে চাইবেন। হরতালের নিন্দা গতিমুখ বদলে হয়ে যাবে সরকারের নিন্দা।
তার পরও কান্নারতা খালেদা জিয়ার ভাবমূর্তি রাষ্ট্রনায়কসুলভ নয়। ক্ষমতাবান সাবেক শাসক কিংবা প্রধান বিরোধী দলের নেত্রীর এমন কান্না মানায় না। হয়তো এই কান্না তিনি ঠেকাতে পারেননি। যেমন—যে অপমান তিনি সয়েছেন, তাও ছিল তাঁর কল্পনাতীত। এসবের পর তাঁকে অনেকে দেখবেন এক নির্যাতিত বিধবা হিসেবে। এভাবে আবার তিনি ফিরে গেলেন সেই দুঃখিনী নারীর ভাবমূর্তিতে, যে ভাবমূর্তি ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরুর পুঁজি। ‘উচ্ছেদ-পরবর্তী’ ঐতিহাসিক কান্নার ওই মুখচ্ছবি আপসহীন খালেদার ভাবমূর্তিকে ছাপিয়ে যাবে। কিন্তু এই অশ্রু যতই মানবিক হোক, তার ব্যবহারটা পুরোপুরিই রাজনৈতিক। আইন ও রাজনীতি বর্তমানে অনুকূলে নয় বলে কান্না দিয়েই তাঁকে শুরু করতে হলো তাঁর নতুন যাত্রা। সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণায় বোধহয় তারই ইঙ্গিত।
অনেকেই আবার ঘটনার নাটকীয়তা ও অশ্রুসিক্ত ফরিয়াদে গলবেন না। তাঁদের মনে পড়ে যাবে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তাঁর দলের ‘সোনার ছেলেদের’ অনাচারের কথা। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কথাও মনে পড়বে, কীভাবে কানসাটে অনেক নারীকে বিধবা ও সন্তানহারা করা হয়েছিল, কীভাবে ফুলবাড়ীর কৃষকদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের জন্য তিন মায়ের বুক খালি করা হয়েছিল। মানুষের ভিটেমাটি রক্ষার প্রশ্নে তাঁর সরকারের রেকর্ডও অন্য সব সরকারের মতোই দুর্বল। তাহলে সাধারণ মানুষের কান্না থেকে ‘অসাধারণের’ কান্না কোন বিচারে বেশি করুণ, বেশি মর্মস্পর্শী, বেশি দামি? কারও অশ্রু মিঠা আর কারও অশ্রু কি তিতা?
কিন্তু অন্য এক বিচারে এই কান্না ও এই লাঞ্ছনার অভিযোগ অকাট্য, গুরুত্বও বিপুল। বিরোধীদলীয় নেত্রীই হোন বা তিন-তিনবারের প্রধানমন্ত্রীই হোন, তাঁকেও বাংলাদেশের যেকোনো নারীর মতোই কুৎসা ও ‘কলঙ্কের’ পুরুষালি অস্ত্রে ঘায়েল হতে হলো? বাকিদের তাহলে কী অবস্থা?
সূত্র :প্রথম আলো । পড়ে এতোটা ভালো লাগলো যে শেয়ার করার লোভ সামলাতে পালাম না ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


