somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভ্যালেনটাইন ডে.....

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রচ- গর্জন শুনে চমকে যায় ইথিকা। আকাশে যে কখন এত মেঘ ঘনিয়েছে, বুঝতে পারেনি। আকাশের বুকের এক প্রানস্ন থেকে আরেক প্রানস্ন চিরে দিচ্ছে বিদু্যৎ। এমন জোরে একটা ঝড়ের ঝাপটা এলো, মনে হলো উড়িয়ে নেবে সবকিছু। নিজেকে শক্ত করে অাঁকড়ে রইল ইথিকা। ব্যালকনির একটা টব ফুলগাছসহ উড়িয়ে নিয়ে গেল। দরজা-জানালাগুলো জীবনস্ন হয়ে ছটফট করতে লাগল। ইথিকার ওড়না আর মাথার চুলগুলো বুঝি ঝড়ের সঙ্গী হওয়ার জন্য উন্মাতাল। ঘোর দুপুরটিকে মনে হচ্ছে রাতের শুরু। এক সময় নিজের অজানস্নেই সে উপলব্ধি করল, প্রকৃতির এই লীলা থেকে নিজেকে প্রতিরোধ করার সামর্থ্য তার নেই। আত্দ্মসমর্পণ করল বৃষদ্বির কাছে। তার মনে হতে লাগল, স্ট্বর্গলোক থেকে প্রকৃতি দেবী বুঝি আজ আর সমস্টস্ন সৌন্দর্য মেলে ধরেছে।
ইথিকার আজ এত ভালো লাগছে কেন? ছাদহীন এ বাল্যকনিতে আগেও তো বহুবার এসেছে। নাকি এর প্রকৃত কারণ হিমেশের চিঠি? দুপুরে চিঠিটি পাওয়ার পর সব কিছুই ইথিকার ভালো লাগছে। হিমেশ বড় খালার ছোট ছেলে। ইথিকার চেয়ে দুই বছরের বড়। ব্যাঙ্গালোরে পড়ছে। লিখেছে_ 'সামনে পরীক্ষা তাই আসতে পারব না। দোয়া করিস।' খুব কমন কথা। তবুও এর মধ্যে ইথিকা অন্য কিছু খুঁজে ফেরে কেন? হিমেশ কখনো কিছু বলেনি; তবু যখনই হিমেশের চোখের দিকে তাকিয়েছে, মনে হয়েছে সে ভাষার সঙ্গে পরিচয় নেই।
কতক্ষণ বৃষদ্বিতে ভিজেছে_ বলতে পারবে না ইথিকা। আবহাওয়া কেমন যেন থমথমে হয়ে গেল। এ সময় একা থাকতে গা ছমছম করে। দাদুর অসুস্ট্থতার খবর পেয়ে বাবা-মা দেখতে গেছেন। কাপড় পাল্কেল্ট এক মগ কফি তৈরি করল ইথিকা। আধো অল্পব্দকারে নিজ বাড়িটাকেও কেমন যেন অপরিচিত ভুতুড়ে মনে হচ্ছে। সল্পব্দ্যাটা এভাবেই কাটল ইথিকার। রাতে ঝিরঝির বৃষদ্বির সঙ্গে সঙ্গে বইতে লাগল জোর বাতাস।
ছোট ভাইটির সামনে ফাইনাল পরীক্ষা। তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খেয়ে তাকে ওর রুমে পড়তে পাঠিয়ে দিয়ে চলে এলো নিজের রুমে। রাত সাড়ে 11টারও বেশি। ত্রক্রমেই বাড়ছে বাতাসের বেগ আর সমুদ্র-গর্জনের মতো অবিরাম শ্বন্ধ। হঠাৎ মনে হলো, ইথিকার ঘরের সঙ্গে লাগোয়া ব্যালকনির জানালায় ঠকঠক দুটি আওয়াজ। ইথিকা বলল_ কে? আস্টেস্ন উত্তর এলো_ হিমেশ।
প্রকৃতি বুঝি আজ ত্রক্রুদব্দ খেলায় মেতেছে। নিজেকে বড় অসহায় বোধ হয়। ইথিকার ভেতরের ঝড়ের আন্দোলন বাইরের ঝড়কেও যেন হার মানিয়ে গেল। আস্টেস্ন করে দরজাটা খুলে দিল ইথিকা। দেখল, এক তোড়া গোলাপ হাতে নিয়ে হিমেশ কাকভেজা হয়ে দাঁড়িয়ে। ফুলগুলো ইথিকার দিকে বাড়িয়ে বলল_ 'হ্যাপি ভ্যালেন্টাইনস ডে'। ইথিকা কোনো উত্তর না দিয়ে প্রশম্ন করল_ 'সিড়ি ছাড়া দোতলার ব্যালকনিতে উঠলেন কীভাবে? আশপাশে তো কোনো গাছও নেই।' হিমেশ নিরুত্তর রইল। বলার মতো ভাষা খুঁজে পাচ্ছিল না ইথিকা। ফুলগুলো হাতে নেওয়ার পর থেকেই বুকের মধ্যে অন্যরকম এক টান অনুভব করছে। তাকিয়ে দেখল ব্যালকনির পিলার বেয়ে বেয়ে হিমেশের নিচে নেমে চলে যাওয়া।
ব্যাপারটা সত্যি না স্ট্বপম্ন_ ভাবতে পারছে না ইথিকা। কেবল ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল একটি ছায়ামহৃর্তির মিলিয়ে যাওয়ার দিকে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিপদ

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


বিপদ নাকি একা আসে না—দলবল নিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। প্রবাদটির বাস্তব এবং কদর্যরূপ যেন এখন মৃণালের জীবনেই ফুটে উঠেছে। মাত্র মাসখানেক আগে বাবাহারা হলো। পিতৃশোক কাটার আগেই আবার নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্য অর্জনে অপরিহার্য - অটল মনোযোগ

লিখেছেন ঢাকার লোক, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৫

মানুষের জীবনে লক্ষ্য একটি দিকনির্দেশনার মতো কাজ করে। লক্ষ্যহীন জীবন অনেকটা দিকচ্যুত নৌকার মতো, যা স্রোতের টানে ভেসে বেড়ায় কিন্তু কোনো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। তাই জীবনে সফল হতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নগর দর্পন

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৫১



১. মিরপুর ডিওএইচএস থেকে কুড়িল বিশ্বরোড যাওয়ার পথে ফ্লাইওভারের ওপর এক অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য। এক ভদ্রলোকের প্রায় ৪৮ লাখ টাকার ঝকঝকে সেডান হাইব্রিড গাড়ির পেছনে এক বাইক রাইডার ধাক্কা দিয়ে স্ক্র্যাচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলামি চুক্তির কারণে বোয়িং কিনতে বাধ্য হলো সরকার?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১২:৫৭


বাসই চলে না , কিন্তু আকাশে ওড়ার বিলাসিতা থেমে নেই। কালের কণ্ঠের এই শিরোনামটা পড়ে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। কথাটায় একটা তিক্ততা আছে, একটা ক্ষোভ আছে, যেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিয়া আচরণে অতিষ্ট হয়ে হযরত আলী (রা.) ও তাঁর শিয়ার বিপক্ষের সত্য প্রকাশ করতে হয়

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা মে, ২০২৬ ভোর ৬:৩১



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×