জমি রক্ষার কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে জমির ব্যবহার সীমিত করা হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন ভূমি রক্ষা পাবে, অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যয়ও কমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রতি বছর ১ শতাংশ হারে কৃষি জমি হারাচ্ছে। বিগত দিনে নগর পরিকল্পনায় শহরের কলেবরই কেবল বৃদ্ধি করা হতো। এতে জমির মূল্য বৃদ্ধির কারণে কৃষি জমি তার নিজস্ব চরিত্র হারিয়েছে। বর্তমানে সুষ্ঠু নগরায়নে নিবিড় লোকালয় তৈরি ও অবকাঠমো নির্মাণ করে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ভূমি সম্পদের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এ বিষয়টি সামনে রেখেই নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি ব্যবহারে সতর্ক অবস্থান নেয়া হয়েছে । ভূমি রক্ষায় যেসব নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে সেগুলো হচ্ছে প্রথমত, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণের প্রবণতা বাদ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, নতুন প্রকল্প অনুমোদনের সময় যথাসম্ভব ইতোপূর্বে অধিগ্রহণকৃত কিন্তু অব্যবহৃত জমি ব্যবহার করতে হবে। তৃতীয়ত, মাঠ পর্যায়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করে সেখানে বিভিন্ন সরকারী দফতর স্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। চতুর্থত, মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আওতাধীন সরকারী জমির রেকর্ড সংরক্ষণপূর্বক জমির দলিল সংরক্ষণের বিষয়ে সচেষ্ট থাকতে হবে। জরিপ পরিচালনাকালে সরকারী প্রতিষ্ঠানের জমি যাতে যথাযথ রেকর্ড হয় সে জন্য সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। বর্তমানে নগরায়ন ও অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশের সর্বত্র অত্যন্ত অপরিকল্পিতভাবে কৃষি জমির ব্যাপক ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। কোন ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রস্তাবনা প্রণয়নের সঙ্গে সঙ্গেই নতুনভাবে কৃষি জমি অধিগ্রহণ, খোলা জলাভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে ভরাট করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালানো হয়। প্রতিবছর দেশের ৬৮ হাজার ৭৬০ হেক্টর চাষাবাদযোগ্য জমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশে আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ৭৬২ মিলিয়ন হেক্টর। গত ৩৮ বছরে এ জমির পরিমাণ কমেছে ১ দশমিক ২৪২ মিলিয়ন হেক্টর। অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও নগরায়নের জন্য কৃষিজমি অকৃষিতে পরিণত হচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়নের ফলে মাথাপিছু আবাদযোগ্য জমি কমতে কমতে প্রান্তসীমায় এসে দাঁড়িয়েছে। এভাবে কৃষি জমি কমতে থাকলে দেশের ৬৮ শতাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা চরম হুমকির সম্মুখীন হবে। উপরোক্ত সকল বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রেখে সরকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জমির ব্যবহার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এ পদক্ষেপে একদিকে যেমন ভূমি রক্ষা পাবে, অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যয়ও কমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উন্নয়ন প্রকল্পে ভূমি ব্যবহার সীমিত হচ্ছে। কৃষি জমি রক্ষার উদ্যোগ সরকারের
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
এ আগুন আপনাদেরও একদিন গ্রাস করবে।

আজ যারা ধর্ম, জাতীয়তা ইত্যাদির ভিত্তিতে ও তাঁর কথিত “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা”, “মুসলিম বিদ্বেষী” সহ নানা মিথ্যা অভিযোগ আর অজুহাতে রবীন্দ্রনাথ বিদ্বেষের ব্যাপারে চূড়ান্ত বাড়াবাড়ি ও ইতরামি দেখিয়ে বেড়াচ্ছে তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাটায় - পুটায় ঘষাঘষি, মাঝখানে মরিচদের জীবন শেষ?
আওয়ামী তথা ভারতীয়দের নমস্য রবী বাবুর চিত্রে কালিমা লেপন।
দুই দিন পরে, আওয়ামী বিরোধীদের 'রবী' ইউনুস সাহেবকে গালাগালি!!!
এ যেন পাটাপুটায় ঘষাঘষি করে অভাগা মরিচদের জীবন শেষ করার চেষ্টা?
কিন্তু, রবী বাবু কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতা প্রেমিকদের কলমে সময়ের বিবেক : বিশ্ব কবি রবিন্দ্র নাথ ঠাকুরের গ্রাফিতেতে কালী লেপন প্রসঙ্গ

যে কবির গানে ভোরের আকাশ জেগে ওঠে প্রতিদিন
যাঁর সুরে আজও অশ্রু ঝরে হাসে হৃদয় রঙিন
সেই রবীন্দ্রনাথের ছবির বুকে কালি মাখায় যারা
তারা কি জানে তাঁরই গানে বাঙালির প্রাণের... ...বাকিটুকু পড়ুন
রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন
রঠার মুসলিম বিদ্বেষ

রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষেপে রঠা এর ছোট গল্প "রীতিমত নভেল" এ রঠা মুসলমান শব্দের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন ‘যবন’। যবন অর্থ অসভ্য, ম্লেচ্ছ, অপবিত্র, বর্বর জাতি, যেকোনো বিদেশি ইত্যাদি ইত্যাদি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।