somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাতীয় জীবনে রৌদ্রোজ্জ্বল এবং রুদ্র, সেই সঙ্গে উজ্জ্বল এক ইতিহাসের দিন আজ

১৭ ই মে, ২০১৫ বিকাল ৩:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




বাংলাদেশের কোমল মাটিতে যার জন্ম, তার শ্যামল প্রান্তর যার হৃদয়জুড়ে, তিনি কি আর থাকতে পারেন বিভূঁই। এক অমোঘ টান তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে তাঁর পিতার কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলায়। এটা জেনেও যে, এখানে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্রে ওঁত পেতে বসে থাকবে বাংলাদেশ বিরোধী বিশ্বাসঘাতক হায়েনার দল, ঘনিয়ে এলো সময়, প্রিয় দেশবাসীর ভালোবাসা তাঁকে ফিরে আসার প্রেরণা জোগাল। ১৯৮১ সাল, ১৭ মে, তিনি ফিরলেন। কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে অবতারণ হলো অভূতপূর্ব এক দৃশ্যের। সারা এলাকা লোকেলোকারণ্য, বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে রানওয়েতে ঢুকে পড়েছে মানুষ, নামতে পারছে না বিমান। তারপর যখন তিনি নামলেন, সারা শহর ফেটে পড়ল উল্লাসে, মুজিবকন্যা ঘরে ফিরছে। অগণিত মানুষের হর্ষধ্বনিতে প্লাবন বয়ে গেল ঢাকা শহরে। বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলানগরে তাঁর জন্য আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় পৌঁছতে সময় লাগল তিন ঘণ্টা। বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার বরাতে, সেদিন সারা ঢাকায় প্রায় ১৭ লাখ ছাত্র-জনতার সমাবেশ ঘটেছিল। সকলেই একত্রিত হয়ে সাদরে বরণ করে নিয়েছিলেন তাদের প্রিয় অপরাজেয় নেত্রী, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রকামী জনমানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, আবহমান বাংলার চিরায়ত রূপ যার অবয়বে মূর্ত, সেই মহীয়সীকে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর ছাত্র-জনতার মাঝে এমন গণজাগরণ আর কখনো সচরাচর দেখা যায়নি। দেশ ও জাতির সম্যক ও সর্বাঙ্গীন কল্যাণের গুরুদায়িত্ব এবং বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কর্মকাণ্ডের দায়ভার আজ নেত্রী সানন্দে নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন, ধীরে ধীরে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। শিক্ষা-দীক্ষা-জ্ঞান-বিজ্ঞান, রাজনীতি ও প্রগতিশীলতা সবক্ষেত্রে এখন বাংলাদেশের যে অভাবনীয় অগ্রগতি, তার পেছনে যিনি সন্দেহাতীত অদ্বিতীয় রূপকার হিসেবে নিরলস কাজ করে চলেছেন। অবিরাম চলতে থাকল অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ, বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এক নতুন ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিযাত্রা। সেই পথ-পরিক্রমায় অগণিত আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজপথে বীরাঙ্গনার মতো তিনি লড়ে চলেছেন নিজের জীবন বাজি রেখে। অপশক্তির রাহু তাকে গ্রাস করে নিতে চেয়েছে বহুবার কিন্তু স্বীয় আদর্শে বলীয়ান এই অসমসাহসিকা মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে এগিয়ে চলেছেন। প্রোজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হাতে তার অতুলনীয় নেতৃত্বে দেশ সন্ধান পেল উন্নয়নের এক অনুসরণীয় বর্ণছটার। বিশ্বসভায় বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে লাগল আপন বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল হয়ে। যেভাবে দেশ ও জাতিকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরেছিলেন, যেভাবে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে। তার অসাধারণ রাজনৈতিক দূরদর্শিতা তাকে নিয়ে গেছে অনন্য এক উচ্চতায়। বিশ্বব্যাপী এখন তিনি উন্নয়নের রোলমডেল। রূপকল্প ২০২১ ধার্য করা হয়েছে; বাংলাদেশ ক্রমশ হয়ে উঠছে মধ্য আয়ের একটি শক্তিশালী দেশ।


০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিদায় নানা পাটেকার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৫৭



৯০ দশকের শুরুর দিকের কথা, সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে যখন বাসভবনে ফিরেছি, রুটিন মাফিক গোসল খাওয়া দাওয়া করে ঘুমোবো কিন্তু টিভি অন করে দেখি একটি সিনেমা শুরু হচ্ছে -... ...বাকিটুকু পড়ুন

×