somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের আই.সি.টি. মন্ত্রনালয়: কিছু কথা

২২ শে জানুয়ারি, ২০০৬ সকাল ১০:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জানুয়ারি 2006

আমার কথা কারও ভাল লাগে না, না লাগুক-তাও আমি বাংলাদেশের বর্তমান আই.সি.টি. মন্ত্রনালয়ের ব্যাপারে কিছু বলতে চাই।

গত 10-15 বছরে, বাংলাদেশ আই.সি.টি. শিল্পে/ক্ষেত্রে কোথা থেকে কোথায় গেছে? কারও সাথে তুলনা করা ছাড়া একবাক্যে বলা যায় যে, কোথাও-ই যায় নাই। যা গিয়েছে বলে আমরা দেখি, তা কেবল সময়েরই প্রয়োজনে। তথাকথিত আই.সি.টি. মন্ত্রনালয় পাবলিক ফান্ড চুরি ছাড়া কিছুই করছে না। এটা বুঝতে তেমন কোন বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার হয় না যে, এই মন্ত্রনালয়টি অদক্ষতা এবং দূর্নীতিতে ভরপুর। আই.সি.টি. মন্ত্রনালয়-এর মন্ত্রী এবং তার টিম এর অদক্ষতা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবার মত বিষয় কারণ, প্রচুর সম্ভাবনার এই ক্ষেত্রে যা ঘটার কথা ছিল তা না ঘটে, ঘটেছে অন্য কিছু। শুধু এই আলোচিত সময়ে, পশ্চিমবঙ্গ এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চাইতে এগিয়ে গিয়েছে অন্তত দশ গুন!

সমপ্রতি 18 কোটি টাকার এক দূর্নীতির অভিযোগ এসেছে এই মন্ত্রনালয়ের বিরুদ্ধে যেখানে স্বয়ং তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী নাকি জড়িত। এই ধরনের একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হবার পর থেকে নাকি মন্ত্রী সাহেব অসুস্থ হয়ে গেছেন এবং তাকে কোনভাবেই আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!! 18 কোটি টাকা দিয়ে দেশের আই.সি.টি. খাতে যে কি করা যেত, তা সকলেরই বোধগম্য!

ডিসেম্বর 28, 2005 ুএর, দি নিউ এজ পত্রিকাতে এই বিষয়ে একটি রিপোর্ট আমি পড়ি, যাতে এ ধরনের একটি কথা বলা আছে যে, ঐ অর্থের 90%-ই নাকি আই.সি.টি. মন্ত্রনালয়-এর লোকজন হাওয়া করে দিয়েছে এবং এই অর্থ আই.সি.টি. মন্ত্রনালয় বিভিন্ন ভূয়া প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নামে, রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট-এর কোন এক বা একাধিক প্রজেক্ট-এর কথা বলে গ্র্যান্ট করিয়েছে।

এরকম আরেকটি বিতর্কিত কথা শোনা যায় যে, বাংলাদেশের আই.সি.টি. জার্নালিস্ট ফোরাম নাকি আই.সি.টি. মন্ত্রনালয়-এর কাছ থেকে 5 লক্ষ টাকা অনুদান লাভ করেছে যা ঐ ফোরামের লিডার-রা দিয়েছে হজম করে! বলা বাহুল্য এই কথা শুনে ফোরামের অন্যান্যরা ক্ষিপ্ত! কেন? বিচারের জন্য? মিথ্যা অপপ্রচারের জন্য নাকি টাকার ভাগ পেল না তার জন্য??

তবে কেঁচো খুড়তে বেরিয়ে আসছে সাপ! আই.সি.টি. মন্ত্রীর ক্রিমিনাল অ্যাকটিভিটি বেরিয়ে আসছে! যেমন:

1. আই.সি.টি. মন্ত্রীর পি.আর.ও. জনাব আজম নাকি একটি খুন-এর সাথে জড়িত! 1996 সালে জনাব আজম আওয়ামী সরকার-এর আই.সি.টি. মন্ত্রীর পি.আর.ও. ছিলেন। 1996 সালে আজিমপুর কলোনি থেকে একটি মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় যার খুন-এর সাথে জনাব আজম জড়িত (জনকন্ঠ, নভে:96-জান:ু97)। জনাব আজম-কে তৎকালীন আই.সি.টি. মন্ত্রনালয় থেকে সাসপেন্ড করা হয় এবং ক্রিমিনাল ইনভেসটিগেশন চলতে থাকে যা বর্তমান আই.সি.টি. মন্ত্রী এসে থামিয়ে দেন এবং জনাব আজম কে নিজের পি.আর.ও. হিসেবে নিয়োগ দেন!!

2. বর্তমান আই.সি.টি. মন্ত্রী, রিসার্চ ফান্ড থেকে তার পিয়নের স্ত্রীর নামে 30 লক্ষ টাকা অ্যালোকেট করেন কিন্তু পিয়ন শাহ আলম-কে 10 হাজার টাকা দিয়ে বাকিটা নিজে হস্তগত করেন!

3. আই.সি.টি. মন্ত্রনালয়-এর এক জয়েন্ট সেক্রেটারির একাউন্টে 1 কোটি টাকা পাওয়া গেছে যিনি বর্তমান আই.সি.টি. মন্ত্রীর ঘনিষ্ট আত্মীয়!

আই.সি.টি. মন্ত্রনালয়-এর দূর্নীতি এখন এমন এক পর্যায়ে চলে গেছে যে, বর্তমান আই.সি.টি. মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝোলানো উচিত।

শেষ একটি কথা, আমি নিজে একজন আই.সি.টি. প্রফেশনাল এবং আপনারা জানেন বর্তমান আই.সি.টি. মন্ত্রীর নাম মঈন খান! এতক্ষন এই নামটি লিখি নাই। আমার নামও মঈন কি না, বড় ঘৃণা হয়েছে লিখতে নামটি প্রিয় পাঠক, বড় ঘৃণা!



কৃতজ্ঞতা স্বীকার: দি নিউ এজ, সাদিয়া হাসান, এনাম হক, বাংলা আই.টি.ইয়াহু গ্রুপ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাস্তায় পড়ে থাকা একপাটি জুতো

লিখেছেন সাব্বির আহমেদ সাকিল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫২



রাস্তায় চলার পথে এমন দৃশ্য আমার মাঝেমধ্যেই চোখে পড়ে। আজও বাসায় ফেরার সময় ঠিক এমনই একটা দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়ালাম—রাস্তার একপাশে নিথর হয়ে পড়ে আছে একটি শিশুর একপাটি জুতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×