somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কি ভাবে ব্লগ লিখবেন, কি লিখবেন ও কেন: আমার ভাবনা

২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৬ সকাল ১১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সমপ্রতি চৌধুরী সাহেব ও আড্ডাবাজ-এর "ব্লগ লেখা" সম্পর্কিত কিছু পোস্টিং দেখে, আমারও ইচ্ছা হল এই ব্যাপারে কিছূ লেখার। তাই এই পাগলামি প্রচেষ্টা!

এইচ.এস.সি-র বাংলা সাহিত্যে সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত "বই কেনা" গল্পের একটি লাইন তুলে ধরছি। "রুটি, মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবে কিন্তু বইখানা অনন্ত যৌবনা- যদি তেমন বই হয়।"

এবার আরব পন্ডিতের লেখা, সবার জানা এক গল্প আমি আবার আপনাদের বলছি, শোনেন।

আরব পন্ডিত লিখেছেন" ধনীরা বলেন, পয়সা কামানো দুনিয়াতে সবচেয়ে কঠিন কাজ। কিন্তু জ্ঞানীরা বলেন, না, জ্ঞানার্জন সবচেয়ে শক্ত কাজ। এখন প্রশ্ন হল কার দাবীটা সঠিক, ধনীর না জ্ঞানীর? ধনীর মেহনতের ফল হল টাকা। সেই ফল যদি কেউ জ্ঞানীর হাতে তুলে দেন তবে তিনি সেটা ভালমত কাজে লাগান এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় জ্ঞানীরা পয়সা পেলে খরচ করতে পারেন ধনীদের চেয়ে অনেকগুণ ভাল পথে ও পদ্ধতিতে। জ্ঞানচর্চার ফল সঞ্চিত থাকে বই-এ এবং সে ফল ধনীরা পারে না ব্যবহার করতে, কারণ তারা বই পড়েন না।" পরিশেষে, আরব পন্ডিত এই বলেই তার বক্তব্য শেষ করেছেন যে, " জ্ঞানার্জন ধনার্জনের চেয়ে মহত্তর"।

এটা আরব পন্ডিতের সময়কাল না। ইন্টারনেটের ব্লগ আজ কত গুরুত্তপূর্ণ একটি পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আমরা বুঝতে পারি সবাই। জ্ঞানার্জনের জন্য ইন্টারনেটকে কি দৃষ্টিতে দেখা হয় তাও আমরা জানি। আমরা সবাই ব্লগ সাইট ভিসিট করি, কেউ ছড়া লিখি, কেউ মজা পাই কমেন্ট করে, কেউ লিখি রাজনীতি নিয়ে, কেউ এক লাইন লিখেই বলছি 'পরে লিখব", কেউ যা মনে আসে তাই লিখি (যেমন আমি!); ভাল কথা -- তবে একবার ভেবে দেখেছি কি আমরা, ব্লগ-এর উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে নাকি? জ্ঞানার্জনের এক অপূর্ব মাধ্যম এই ব্লগ। আপনার মনের কথাই গুছিয়ে লিখে ফেলুন না! আরব পন্ডিত বা মুজতবা আলীর ঐ-কালের বই-এর ধারনার অনেক প্রতিচ্ছবির একটি হল আজকের এই ব্লগ। নিজের চিন্তার প্রকাশ ব্লগ-এর মাধ্যমে শেয়ার করি আসুন। অত প্রস্তুতির কি আছে? সাবলিল ভাষায় লিখে দিন, দেখুন না, কে কি ভাবছে। কি বিষয় নিয়ে লিখলেন তা বড় কথা নয়, যা লিখলেন তাতে যেন একটি আবেদন থাকে, এই তো চাই আর কি?

শুনেছি, কোন কোন জেলার, ফাঁসির আসামীকে নাকি গারদের দরজা সামান্য খুলে রেখে জেল থেকে পালাবার সুযোগ দেয়। আসামী ভাবে, জেলার বেখেয়ালে দরজা খুলে রেখে গেছে। তারপর অনেক গা ঢাকা দিয়ে, একে এড়িয়ে, ওকে বাঁচিয়ে যখন সে জেলের বাইরে মুক্ত বাতাসে এসে ভাবে সে বেঁচে গেছে, ঠিক তখনই তাকে জাবড়ে ধরে পাহারাওয়ালা- সঙ্গে জেলার তাকে চুমা খেয়ে বলে," ভাই জীবন কত দু:খে ভরা। তার থেকে তুমি নিস্কৃতি পাবে কাল ভোরে। আহাম্মকের মতো সে নিস্কৃতি থেকে, এই হেয় নিস্কৃতির চেষ্টা তুমি কেন করছিলে, বন্ধু?" পরদিন তার ফাঁসি হয়।

আমার মনে হয়, ফাঁসির চেয়েও ঐ যে জেলের বাইরে ধরা পড়া সেটা অনেক কঠোর, কঠিন, নির্মম। মৃতু্য কোন কঠোর, কঠিন অভিজ্ঞতা নয়, বরং তা আবশ্যসংঘটিত বাস্তব! মৃতু্যর কথা আমরা তেমন চিন্তা করি না, করলে থেমে যেত এই সভ্যতা! সময় থাকতে তাই আসুন সবাই মিলে ক্রিয়েটিভ কিছু করি, যার যা সাধ্যমত, আসুন লিখি এমন কিছু ব্লগ যা সবাইকে দেবে আনন্দ আর যা থেকে সবাই আহরণ করতে পারব ছোট হলেও কিছু জ্ঞান, আর করতে পারব কিছু সত্যের সন্ধান। কারণ, ' ট্রুথ ইজ স্ট্রেঞ্জার দ্যান, ফিকশন'।

দেখলেন তো কি করে ব্লগ লিখতে হয়?? কোথায় শুরু করলাম আর ছাড়ছি কোথায়? আমি তো পাগল, আলুর দম, জাতীর কপালে লাথি মারা মানুষ---আরও কি কি যেন; একটু পরেই বলবে সবাই! ইদানিং তাই বড় একা লাগে.....
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৬ সকাল ১১:১০
১৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Dual Currency Card Needed for Meta Monetization. Urgent National Interest.

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬

ছবি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছি প্রায় চল্লিশ মিনিট। এক জায়গায় এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে সাধারণত দুই ধরনের সন্দেহ হয়- এক, লোকটা কিছু করতে এসেছে। দুই, লোকটার করার কিছু নেই। আমি কোনোটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

’দেশ বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউনূস–জামাত–বিএনপি–এনসিপি”

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:১৩

’দেশ বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউনূস–জামাত–বিএনপি–এনসিপি”
==========================================
চুক্তি মানেই তো স্বার্থের ভারসাম্য। কিন্তু সেই ভারসাম্য যখন দেশের স্বার্থকে উপেক্ষা করে, তখন সেটি আর চুক্তি থাকে না প্রশ্নবিদ্ধ সমঝোতায় পরিণত হয়। ইউনূসের শেষ সময়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্তদের সকল অপকর্মের তদন্ত হোক....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮


সময় যত যাচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে অস্বস্তিকর সত্য!
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে- আর অতীতের অনেক ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য ও তথ্য সামনে আসছে-
যেখানে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষকের মর্যাদা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৩


কবিতাটার কথা কি মনে আছে? বাদশাহ আলমগীর একদা প্রভাতে গিয়ে দেখলেন, শাহজাদা এক পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকের চরণে পানি ঢালছে, আর শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পায়ের ধূলি মুছে সাফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×