সমপ্রতি চৌধুরী সাহেব ও আড্ডাবাজ-এর "ব্লগ লেখা" সম্পর্কিত কিছু পোস্টিং দেখে, আমারও ইচ্ছা হল এই ব্যাপারে কিছূ লেখার। তাই এই পাগলামি প্রচেষ্টা!
এইচ.এস.সি-র বাংলা সাহিত্যে সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত "বই কেনা" গল্পের একটি লাইন তুলে ধরছি। "রুটি, মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবে কিন্তু বইখানা অনন্ত যৌবনা- যদি তেমন বই হয়।"
এবার আরব পন্ডিতের লেখা, সবার জানা এক গল্প আমি আবার আপনাদের বলছি, শোনেন।
আরব পন্ডিত লিখেছেন" ধনীরা বলেন, পয়সা কামানো দুনিয়াতে সবচেয়ে কঠিন কাজ। কিন্তু জ্ঞানীরা বলেন, না, জ্ঞানার্জন সবচেয়ে শক্ত কাজ। এখন প্রশ্ন হল কার দাবীটা সঠিক, ধনীর না জ্ঞানীর? ধনীর মেহনতের ফল হল টাকা। সেই ফল যদি কেউ জ্ঞানীর হাতে তুলে দেন তবে তিনি সেটা ভালমত কাজে লাগান এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় জ্ঞানীরা পয়সা পেলে খরচ করতে পারেন ধনীদের চেয়ে অনেকগুণ ভাল পথে ও পদ্ধতিতে। জ্ঞানচর্চার ফল সঞ্চিত থাকে বই-এ এবং সে ফল ধনীরা পারে না ব্যবহার করতে, কারণ তারা বই পড়েন না।" পরিশেষে, আরব পন্ডিত এই বলেই তার বক্তব্য শেষ করেছেন যে, " জ্ঞানার্জন ধনার্জনের চেয়ে মহত্তর"।
এটা আরব পন্ডিতের সময়কাল না। ইন্টারনেটের ব্লগ আজ কত গুরুত্তপূর্ণ একটি পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আমরা বুঝতে পারি সবাই। জ্ঞানার্জনের জন্য ইন্টারনেটকে কি দৃষ্টিতে দেখা হয় তাও আমরা জানি। আমরা সবাই ব্লগ সাইট ভিসিট করি, কেউ ছড়া লিখি, কেউ মজা পাই কমেন্ট করে, কেউ লিখি রাজনীতি নিয়ে, কেউ এক লাইন লিখেই বলছি 'পরে লিখব", কেউ যা মনে আসে তাই লিখি (যেমন আমি!); ভাল কথা -- তবে একবার ভেবে দেখেছি কি আমরা, ব্লগ-এর উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে নাকি? জ্ঞানার্জনের এক অপূর্ব মাধ্যম এই ব্লগ। আপনার মনের কথাই গুছিয়ে লিখে ফেলুন না! আরব পন্ডিত বা মুজতবা আলীর ঐ-কালের বই-এর ধারনার অনেক প্রতিচ্ছবির একটি হল আজকের এই ব্লগ। নিজের চিন্তার প্রকাশ ব্লগ-এর মাধ্যমে শেয়ার করি আসুন। অত প্রস্তুতির কি আছে? সাবলিল ভাষায় লিখে দিন, দেখুন না, কে কি ভাবছে। কি বিষয় নিয়ে লিখলেন তা বড় কথা নয়, যা লিখলেন তাতে যেন একটি আবেদন থাকে, এই তো চাই আর কি?
শুনেছি, কোন কোন জেলার, ফাঁসির আসামীকে নাকি গারদের দরজা সামান্য খুলে রেখে জেল থেকে পালাবার সুযোগ দেয়। আসামী ভাবে, জেলার বেখেয়ালে দরজা খুলে রেখে গেছে। তারপর অনেক গা ঢাকা দিয়ে, একে এড়িয়ে, ওকে বাঁচিয়ে যখন সে জেলের বাইরে মুক্ত বাতাসে এসে ভাবে সে বেঁচে গেছে, ঠিক তখনই তাকে জাবড়ে ধরে পাহারাওয়ালা- সঙ্গে জেলার তাকে চুমা খেয়ে বলে," ভাই জীবন কত দু:খে ভরা। তার থেকে তুমি নিস্কৃতি পাবে কাল ভোরে। আহাম্মকের মতো সে নিস্কৃতি থেকে, এই হেয় নিস্কৃতির চেষ্টা তুমি কেন করছিলে, বন্ধু?" পরদিন তার ফাঁসি হয়।
আমার মনে হয়, ফাঁসির চেয়েও ঐ যে জেলের বাইরে ধরা পড়া সেটা অনেক কঠোর, কঠিন, নির্মম। মৃতু্য কোন কঠোর, কঠিন অভিজ্ঞতা নয়, বরং তা আবশ্যসংঘটিত বাস্তব! মৃতু্যর কথা আমরা তেমন চিন্তা করি না, করলে থেমে যেত এই সভ্যতা! সময় থাকতে তাই আসুন সবাই মিলে ক্রিয়েটিভ কিছু করি, যার যা সাধ্যমত, আসুন লিখি এমন কিছু ব্লগ যা সবাইকে দেবে আনন্দ আর যা থেকে সবাই আহরণ করতে পারব ছোট হলেও কিছু জ্ঞান, আর করতে পারব কিছু সত্যের সন্ধান। কারণ, ' ট্রুথ ইজ স্ট্রেঞ্জার দ্যান, ফিকশন'।
দেখলেন তো কি করে ব্লগ লিখতে হয়?? কোথায় শুরু করলাম আর ছাড়ছি কোথায়? আমি তো পাগল, আলুর দম, জাতীর কপালে লাথি মারা মানুষ---আরও কি কি যেন; একটু পরেই বলবে সবাই! ইদানিং তাই বড় একা লাগে.....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
