somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মনে পড়ে কবিতা লেখার সেই খেলা

১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ৩:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকের সকালটা ছিল অদ্ভুত
জেগে দেখি আমার উঠোনে সূর্যের সিঁদূরে জ্বোনাক
সেই সাথে কুয়াশা ভেজা ঝিরঝির হাওয়া ...

২০০২। তেজকুনিপাড়ায় থাকি। বেশ কয়েকজন বন্ধু ও সহপাঠী মিলে। আড্ডা হতো ভীষণ। কেমন যেন একটা পরিবার। কোন কিছুর তাড়া নাই। যেমন ইচ্ছে চলা-বলা-যাওয়া-খাওয়া। কোন নিয়ম নেই। এক শীতের সকালে এক বন্ধু (রিয়াজ) এসে আমার ও অমির ঘুমের কয়টা বাজিয়েছিলো বলতে পারবো না। অবশ্য সেজন্যে ওর কয়টা বাজিয়েছিলাম তা মনে আছে। যাহোক ঘুম থেকে উঠিয়াই প্রথম কাজ চা বানালাম। সিগারেটের ধূম্রজালে হঠাৎ কুয়াশার আভাস ফুটে উঠলো। তখন অমি ও রিয়াজ একটা যৌথ কবিতা লেখার প্রস্তাব দিলো। একেকজন এক লাইন- একটার পর একটা- সময় ৪৫ সেকেন্ড প্রতি লাইনের জন্য- নাহলে জরিমানা তো আছেই।

অমি শুরু করলোঃ আজকের সকালটা ছিল অদ্ভুত
তারপর রিয়াজঃ জেগে দেখি আমার উঠোনে সূর্যের সিঁদূরে জ্বোনাক
শেষে আমিঃ সেই সাথে কুয়াশা ভেজা ঝিরঝির হাওয়া ...

চলতে থাকলো কবিতা লেখার খেলা। কারোই জরিমানা হলো না। (হলে ভালো হতো!)। এভাবে একখানা কবিতার জন্ম হলো। আমাদের ভালো লাগলো। কবিতা এরূপঃ

আজকের সকালটা ছিল অদ্ভুত
জেগে দেখি আমার উঠোনে সূর্যের সিঁদূরে জোনাক
সেই সাথে কুয়াশা ভেজা ঝিরঝির হাওয়া
রান্না ঘরে চায়ের কাপে টুং টাং শব্দ
তবু আমার মনে রাত্রির নিস্তব্ধতার নির্জনতা
কিন্তু সে নির্জনতা ভেঙ্গে দিল আমার প্রিয়ার হাত।
স্পর্শের নিবিড় আবেদন আমায় শিহরিত করে
অথচ দেহের কামনার কোন শিখা উঁকি দেয় না মনের গভীরে
নিস্তব্ধতা আমায় গ্রাস করে নির্জনভাবে
ভেসে যাওয়া মেঘের বিশালতা আমাকে ঝাপিয়ে দেয়
প্রিয়ার হাত ভুলে আমি উথাল-পাথাল কাব্যের সাম্রাজ্য খুঁজে ফিরি
নারী হলেও মনের গভীরে ওর অস্তিত্ব আমি খুঁজে পাইনি, তাই
সবকিছু ছেড়ে কবিতাকে নিয়ে উড়াল দেই
যেখানে আনকোড়া সব শব্দ, শব্দের গন্ধ আর
পিছুটানহীন জীবনের এক অনাবিল আনন্দ
সেখানে আমি পৌঁছে যাই হিমালয়ের বরফ ছেড়া চূঁড়ায়।
শুভ্র এ সকাল, কুয়ামার ঘোলাটে পর্দায় সূর্যের আদুরে বর্ণীল লুকোচুরি
যেমন লুকোচুরি চলছে আমার মনের অন্তরালে
তথাপি বাস্তবতা আমায় টেনে নামায় আমার কষ্টের কাছে
ভাবুক আমি আবার প্রিয়ার আলিঙ্গনে ডুবে যাই গত জন্মের মত
আমি মেনে নিই আমার বাস্তবতা - আমি মানুষ।।
----------------------------------------------------

এমন করে আর কবিতা লেখার খেলায় আর মেতে উঠতে পারেনি এই কয়েক বছরে। বন্ধুত্ব আজও আছে। তিনজন কিছুটা দূরে দূরে। তবু খুব কাছে। দেখা হয় মাঝে মাঝে। তবে সেদিনের মতো আর হয় না। কেমন যেন হয়ে গেছি- আমি... সে ....
বদলে গেছি আমরা .. .
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ৩:১৪
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×