ছোট্ট শিশু আফসিন । বয়স মাত্র আটমাসের কাছাকাছি । এই বয়সে যখন তার দস্যিপনার পাঠ নেবার কথা প্রকৃতির বুক থেকে, আধো আধো স্বরে ডাকার কথা বাবা, মা ; তখন সে লড়ছে অমোঘ মৃত্যুর সাথে । নিয়তির নির্মম পরিহাস, সন্তানের এক একটি হাসি মাখা মুখ আজ এক একটি শেল হয়ে বেধে পিতামাতার হৃদয়ে । তারা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছেন মৃত্যর কড়াল গ্রাস ।
আফসিন একটি বিরলপ্রজ রোগ হাইপোক্সিয়ায় (HYPOXIA) আক্রান্ত । এ রোগটি সম্পর্কে আমি তেমন কিছুই জানতাম না । নেট থেকে যা জানতে পেরেছি তা হল সহজ কথায়, মানব দেহে অক্সিজেনের স্বল্পতা । যখন দেহের টিস্যু লেভেলে অক্সিজেন সাপ্লাই কমে যায় এবং রক্তে অক্সজেনের পরিমান অতিরিক্ত কম হয় সেই অবস্থাকে হাইপোক্সিয়া বলে । হাইপোক্সিয়া দেহের যেকোন জায়গায় হতে পারে । যেমন লিভার, রেনাল জোনে, হৃদপিন্ডে কিংবা সেরিব্রাল (মস্তিস্কে) অংশে । এ রোগের চিকিৎসা খুব ব্যায়বহুল হয় ।
চিহ্ন এবং লক্ষণ সমূহ :
যেহেতু খুব দ্রুত পোস্ট করা হয়েছে, তাই বাংলা না দিয়ে ইংলিশ দিলাম ।
Signs:
1) Rapid Breathing
2) Cyanosis
3) Poor Coordination
4) Lethargy/Lassitude
5) Executing Poor Judgment
Symptoms:
1) Air Hunger
2) Dizziness
3) Headache
4) Mental and Muscle Fatigue
5) Nausea
6) Hot and Cold Flashes
7) Tingling
8) Visual Impairment
9) Euphoria
উপরোক্ত লক্ষণগুলো বিভিন্ন ব্যাক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হতে পারে । এমন কি সব লক্ষণ এক জন লোকের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান নাও হতে পারে । এ জন্যে প্রাথমিক অবস্থায় এ রাগ সম্পর্কে ধারণা করা কঠিন হয়ে পড়ে ।
রোগের নাম এবং তার কার্যকারণ শুনেই বোঝা যাচ্ছে, রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যায়বহুল । তবে আশার কথা হচ্ছে সঠিক চিকিৎসা করা সম্ভব হলে শিশুটিকে বাচানো সম্ভব । তবে খুব দ্রুত সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন ।
ব্যায়বহুল এই রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে আফসিনের পরিবার, ইতিমধ্যেই আর্থিক অসঙ্গতির মুখে পড়েছে । আফসিনের মা মিসেস নায়লা হোসেন জানান, প্রায় তিন সপ্তাহ লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়েছে ইউনাইটেড হসপিটালে। প্রতিদিন খরচ যাচ্ছে প্রায় ২৫,০০০ টাকা। সঠিক চিকিৎসার জন্য হয়ত বিদেশে নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে । সেক্ষেত্র খরচ হবে অনেক টাকা । সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ লাখের মত খরচ পড়তে পারে ।
সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে গিয়ে শিশুটির বাবা এখন পাগল প্রায়, আর মায়ের চোখের জল বাধ মানছে না । আমরা জানি পিতার কোলে সন্তানের লাশ কতটা ভারি । আমরা কি কেউ পারি না, মায়ের কান্না ধারা মুছে দিতে ?? পিতার বুকে সন্তান কি পারবে না আবার মাথা রেখে ঘুমিয়ে যেতে ?? সকল অনিশ্চয়তা, দুশ্চিন্তা ভুলে আবার কি উঠে দাড়াবে না ছোট্ট আফসিন ।
আমরা ব্লগের লোকেরা পারি না কি কিছু করতে আফসিনের জন্য কিছু করতে ? ইতিপূর্বে আমরা বিভিন্ন সময়ে অসহায় অসুস্থ মানুষের পাশে এসে দাড়িয়েছি কাধে কাধ রেখে । বিভিন্ন সময়ে অনেক ব্লগার কিংবা তাদের আত্নীয়ের পাশে এসে শ্রদ্ধেয ব্লগারগন দাড়িয়েছেন পরম মমতায় । আমরা কি পারি না এই ছোট্ট শিশুর পবিত্র সত্তার পাশে দাড়াতে ? আমাদের যার যার অবস্থান থেকে অতি ক্ষুদ্র সাহায্যই পারে এ শিশুর মুখের হারিয়ে যাওয়া হাসি ফিরিয়ে আনতে । তাকে আবার দেখা যাবে হয়ত মায়ের কোলে, বাবার কাধে চড়ে বেড়াতে । আবার সে হয়ত হেসেখেলে পার করবে রঙিন এক একটি দিন ।
আফনিনের সাহায্যের জন্য যোগাযোগের ঠিকানা-
নায়লা হোসেন (Naila Hossain)
একাউন্ট নং ১৮-৩৮২৫৭৩৬-০১ (A/C. No.: 18-3825736-01)
ব্যংকঃ স্ট্যন্ডারড চারটারড ব্যংক (Standard Chartered Bank)
ব্রাঞ্চঃ গুলশান হেড অফিস (Branch: Gulshan Head Office)
Swift Code to send money fron abroad- SCBLBDDX"
যোগাযোগের ঠিকানা : ০১৯৭৮-০১০৩৩৮ / 01978-010338
এই একাউন্ট বরাবর হেল্প করতে পারবেন।
খুব বেশি কিছু নয়, সামান্য কটি টাকা দিয়েও যদি আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই, তবেই সেটা অনেক হয়ে দাড়াবে এক সময় । হয়ত সামান্য কটি টাকা ফিরিয়ে দিতে পারবে মরণাপন্ন একটি মুখের ভুলে যাওয়া হাসি । একটি পরিবারের উৎকণ্ঠার দিন হয়ত শেষ হবে এই আমাদের সহায়তায় ।
আসুন আমরা শপথ করি,
ফিরিয়ে দেব আমি, অপার হাসি
ছোট্ট শিশুর মুখে ।
ঘুম ভেঙে যেন দেখি
আমার সন্তানের বিছানা পূর্ণ ;
অরূপ স্বর্গ শোভায় ।
কখনো যেন সে শূণ্য না হয় ।
উল্লেখপঞ্জি :
১) উইকিপিডিয়া
২) http://www.favoriteplus.com
কৃতজ্ঞতা : ব্লগার আব্দুল্লাহ ইবনে শহীদ এবং রিয়াজ মাহমুদ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




