somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“স্টার জলসা” সাথে কিছু কেচ্ছা...

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৯:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্টার জলসা নিয়ে এর আগে অনেক লেখা-লিখি হয়েছে, এমনকি টকশো, নিউজ মিডিয়া গুলোর লাফালাফির কমতি ছিল না। যদিও কিছু থেকে কিছুই হয় নি; বরং মানুষের মুখে কিছু মুখরোচক গল্প এবং কেচ্ছায় রূপ নিয়ে এক সময় ঠান্ডা হয়ে গেছে। অবশ্য ঈদের সাথে এর জোয়ার বেশি লক্ষণীয়, তার সুনির্দিষ্ট একটি কারণও আছে বটে, সেটা না হয় পরে বলছি...

এইবার আসি স্টার জলসা নিয়ে আমার এত উৎসাহের কারণ কোথায়? বেশ কিছুদিন যাবত আমি স্টার জলসার কিছু টিভি সিরিয়াল দেখছি, তাই এই প্রসঙ্গের উপর একটি ব্লগ লেখার প্রয়োজন বোধ করছি। এর আগেও দেখেছি, তবে তা দেখতে বাধ্য হয়েছি বলা যেতে পারে।

সিরিয়াল গুলোর একটি বিশেষ দিক হচ্ছে এগুলো ফ্যামিলি পটভূমির উপর তৈরি। একটি ফ্যামিলি মূলত কিছু ভাল খারাপ মানুষের সমন্বয় তৈরি হয়। এর ভিতর ভাঙ্গা-গড়া, হাসি-আনন্দ সবকিছু মিলিয়ে একটি শুভ সমাপ্তি তে রূপ দেওয়া হয়। স্টার জলসা কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে যে, তারা সিরিয়াল গুলোর মধ্য দিয়ে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি একটি নৈতিক শিক্ষা প্রত্যেক পরিবারে পৌঁছে দেয়।

তাহলে প্রবলেম কোথায়? স্টার জলসা, স্টার প্লাসের প্রভাব আমাদের দেশে মারাত্মক! বিশেষ করে মহিলা সমাজে, মানে আমাদের মা-বোনদের উপর। সিরিয়ালের ঘটনা গুলোকে এমন ভাবে সাজানো হয়, যাতে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চলে যায় তবুও সিরিয়াল আর শেষ হয় না। যেমন একটি পর্বে একটি সমস্যা তৈরি করে,পরে সেটাকে সমাধান করতে আরও তিন-চার পর্ব সময় নেয়। আর এভাবে এগোতে থাকে পর্বের পর পর্ব। আর আমাদের দেশের একদল উৎসুক নারীরা বছরের পর বছর অপেক্ষা করে হ্যাপি এন্ডিং দেখার জন্য। এদের কথা আর কি বলবো, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টাপুর টুপুর নামের সিরিয়ালটি নাকি কখনই মিস করতেন না। যদিও বা মিস করে ফেলতেন, তাহলে পুরনপ্রচার দেখতেন অথবা অনলাইনের সাহায্য নিতেন। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রী স্টার জলসার সিরিয়াল দেখেন কি না, তা আমার জানা নেই। তবে উনারা এমনেতেই যেভাবে চুল ছেঁড়া ছেঁড়ি করেন, দেখলে কি হত!!? আল্লাহ্‌ই ভাল জানেন...

একটা সময় ছিল যখন মায়েরা সন্ধ্যার পর পরই বসে যেত সন্তানের শিক্ষার জন্য। কিন্তু এক্ষণকার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সন্তানকে কোনোরকম পড়তে বলে, নিজে বসে যায় স্টার জলসায়। ফলে ছেলে মেয়েদের এক কথায় সুবিধাই হয় কেউ ফেইসবুকে চ্যাট করে, কেউ বা আবার ফোনে খোশ গল্প শুরু করে , আর না হলে মায়ের সাথে স্টার জলসায় মেতে উঠে। পড়া নিয়ে ত আর টেনশন নেই, ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এন্ড রেজাল্ট এ+ ।

যদি স্টার জলসা কর্তৃপক্ষের কথাও বিশ্বাস করি, তাহলে অন্তত একটি সান্ত্বনা পাওয়া যেত। কিন্তু মানুষ হিসাবে আমরা খারাপ জিনিসটা বেঁছে নিতেই বেশি পছন্দ করি। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষ একই জিনিস যখন বারবার দ্যাখে, তখন তা তার স্মৃতিতে থেকে যায় এবং এটা নিয়ে ভাবতে শুরু করে। স্বাভাবিকভাবে ওই জিনিস গুলোর সাথে নিজেকে মিলাতে শুরু করে। সাধারণত স্টার জলসার সিরিয়াল গুলো সপ্তাহে ছয় দিন দেখানো হয়। ফলে একই সিরিয়াল বারবার দেখতে দেখতে নিজেকে এবং চারপাশের পরিবেশকে পছন্দের সিরিয়ালের সাথে ভাবতে শুরু করে। আর প্রবলেম টা এখান থেকেই শুরু হয়। যেমন এর কথা ওর কানে লাগানো, কুটনামী, বৃদ্ধ শাশুড়িকে শত্রু মনে করা,এমনকি পছন্দের নায়ক নায়িকার স্টাইল থেকে শুরু করে কোন পোশাক পরল ইত্যাদি অনুসরণ করে। মোট কথা লাইফটা এক জায়গাতে আবদ্ধ রেখে, লাইফটা কে কমপ্লিকেটেড করে ফ্যালে। যার ফলে ফ্যামিলিতে শান্তির থেকে অশান্তির ছোঁয়াই বেশি লাগে।
গত ঈদের কিছু ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে-
1. বাগেরহাটে ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’ সিরিয়ালের পাখি ড্রেস কিনে না দেওয়ায় স্বামীকে তালাক স্ত্রীর।
2. পাখি ড্রেস কিনে না দেওয়ায় অভিমান করে স্কুল পড়ুয়া ছাত্রীর আত্মহত্যা।
3. যশোরে ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর লঙ্কাকাণ্ড।

ঈদ আসলেই ভারতীয় ফিল্ম সিরিয়ালের অনুকরণে তৈরি পোশাকে বড়ে যায় বাংলাদেশী বিপণী বিতান গুলো। যেমন মাজাক কালী, পাগলু এবং গত ঈদের আলোড়ন সৃষ্টি কারি পাখি ড্রেস। মজার ব্যাপার হল, আমাদের বোকাস ভোঁ দেখিয়ে, কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ভারতীয় চ্যানেল ও পোশাক প্রস্তুতকারী কোম্পানি। আগামী ঈদে কি চমক থাকবে, কতজন মানুষ মারা যাবে, কার সংসার ভাঙ্গবে? তা এখনও আমাদের অজানা...

বিভিন্ন মহল থেকে স্টার জলসা, স্টার প্লাস, জি বাংলা মত এই চ্যানেল গুলো বন্ধের জোর দাবী উঠলেও, কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তথ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করে গেছে। শিশুদের ক্ষতির কথা ভেবে ডরিমন বন্ধ করা হয়েছিল। তবে স্টার জলসা কেন বন্ধ করা হচ্ছে না, এটা কি পরোক্ষ ভাবে শিশু তথা জাতির ক্ষতির কারণ হচ্ছে না...?

৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×