২০১০ সালের ঘটনা, ডিসেম্বর মাস তখন। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একটি মোবাইল ফোন কোম্পানির হেড অফ কমার্শিয়াল এর কথা শুনছিলাম একটা মিটিং সেশন এ। তখন তাদের ইন্টারনেট সেবা ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে পৌঁছে দেয়ার জন্যে একটা বিশেষ প্রচারণা চলছিল। তিনি, ভিনদেশী নাগরিক এবং তিনি চেয়েছিলেন মফস্বল এর হাই স্কুল গুলোর ছাত্র-ছাত্রীদের ইন্টারনেট সম্পর্কে কি ধারণা এবং মোবাইলের মাধ্যমে আসলেই ইন্টারনেট ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে পৌঁছে দেয়া যাবে কিনা সেটা নিজে থেকে জেনে নিতে। তাই তিনি গিয়েছিলেন তার টীম নিয়ে চট্টগ্রাম শহরের এক নামী স্কুলের দশম শ্রেণীর শ্রেনিকক্ষে। তিনি ছাত্র এবং ছাত্রীদের আলাদাভাবে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তারা সবাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কিনা?
উত্তরটা তিনি তৎক্ষণাৎ দেননি। বরং তিনি আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, যে আসলে তাদের মধ্যে কতজন মোবাইল ব্যবহার করে বলে আমাদের ধারণা?? আমাদের মানসিকতার সবাই আমরা ধরে নিয়েছিলাম, যে নিশ্চয়ই সবাই ই প্রায় হয়ত মোবাইল ব্যবহার করে থাকতে পারে... কিন্তু, উনি আমাদের ভুল ভাঙ্গালেন চরম বাস্তবতার মাধ্যমে।
ঐ স্কুলের প্রায় ৯৫% ছেলেদের ই নিজের মোবাইল থাকলেও কোনও মেয়ের ই নাকি নিজের কোনও মোবাইল ফোনই ছিল না...!!
এবং তিনি শেষে এই বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, যে প্রচারণা তারা চালাবেন, কিন্তু, সেইটা কতখানি ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে...
এত্ত কথার অবতারণার পেছনে আসলে আমার মনে উদয় হওয়া একটা ছোট্ট খটকা... আর তাহল, আমাদের দেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রচার হতে থাকা, ফেয়ার এন্ড লাভলি এর একটি বিজ্ঞাপন। যেখানে দেখানো হচ্ছে, মেয়েদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্যে, তারা দিতে চাচ্ছে মেধা অনুযায়ী ঋণ আর কারিগরি সহায়তা।
কিন্তু, এই কথা শুনলেই আমার মনে হয়, সেই কথাটাই যেখানে এখনও আমাদের দেশে মেয়েদেরকে স্বাধীন স্বত্বা হিসেবে কতজন দেখে, সেটাই সন্দেহের সেখানে তাদের জন্যে এই ধরণের চিন্তা করা সাহসের বিষয়ই বটে !!!
আমার সবসময়েই মনে হচ্ছে, ওদের অবস্থা হয়ত আমাদের সেই ২০১০ সালের মিটিং এর মত, যেখানে আমাদের আসলে বাস্তবিক অবস্থা সম্পর্কে কোনও জ্ঞান ই ছিল না... কিন্তু, সেটাও বিশ্বাসযোগ্য নয়, কারণ এখন তো মার্কেট রিসার্চ এর জয়জয়কার...
আমাদের দেশের মেয়েদের জন্যে এখনও যেটা সবার আগে দরকার সেটা হচ্ছে যথাযথ শিক্ষা, সমান সুযোগ। দেখা যাক আমার এই ধারণা ওদের মনে কোনওভাবে উদয় হয় কিনা???

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




