somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এগুতে‬ দিন

২৭ শে মে, ২০১৫ বিকাল ৫:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




আমার এক বন্ধু অতি সম্প্রতি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছে । আমার জন্যে এটা মোটেই সুখবর নয় । আমি শঙ্কিত হলাম । যার কথা বলছি সে একেবারেই বাংলাদেশের রাজনীতির জন্যে ইংরেজিতে যাকে বলে ফিট নয় । পাড়ার ভাল ছেলের তালিকা হলে তার নাম সেখানে থাকে । তাকে আর যেখানেই হোক বাংলাদেশের রাজনীতিতে মানায় না । কিন্তু দেখা গেল বন্ধুটি বদ্ধপরিকর । রাজনীতি সে করবেই এবং সফলও হবে, দৃঢ়ভাবে জানাল ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে লেখাপড়া জানা ছেলের বড় অভাব । সবাই ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার ব্যবসায়ী ইত্যাদি হতে চায় কিন্তু কেউ রাজনীতিক হতে চায় না । অথচ আমাদের রাজনীতিতে লেখাপড়া জানা ছেলের খুব বেশি দরকার । বন্ধুটি ইতোমধ্যেই অবশ্য বেশ জোরেশোরে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করে দিয়েছে । এলাকায় সামাজিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে । সবার খোঁজ খবর নিচ্ছে । একদিন শুনলাম মসজিদও বানিয়ে ফেলেছে !
আমি খুব অবাক হলাম ! আমার 'ভাল ছেলে বন্ধুটি' দেশের রাজনীতি শিখে ফেলছে ! বেশ আমোদ লাগল । তবে পাশাপাশি চিন্তিতও বোধ করলাম । মনে হয়েছিল বন্ধুটি প্রচলিতধারার রাজনীতির দিকেই যাচ্ছে । কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই আমার আশঙ্কাকে বন্ধুটি ভুল প্রমাণিত করল । সে বিভিন্ন বইপত্র যোগার করে পড়াশুনা শুরু করল । তার পড়াশুনার মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান বা জিয়াউর রহমানের জীবনী নয়, রয়েছে ইতিহাস, সাহিত্য, অর্থনীতি, সমাজনীতি, রাজনীতি ইত্যাদি রয়েছে । নিয়মিত ঢাকা শহরের বইয়ের দোকানগুলোতে ঘুরে বেড়ায় । বই কেনে । এবং রাত জেগে বই পড়ে । আমার উৎসাহ দ্বিগুণ হল । আমি আশাবাদী হয়ে উঠলাম । এবার হয় তো রাজনীতিতে নতুন কিছু যুক্ত হবে ।
তার ফেসবুক দেয়ালে নিয়মিত কঠিন কঠিন বিষয়ের পোস্ট হতে লাগল । তার মধ্যে বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সমাজনীতি, রাজনীতি, মানবাধিকার ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত হতে লাগল । আমি চমৎকৃত হলাম । বন্ধুটিকে আরও উৎসাহিত করতে লাগলাম । আমাকে আরও অবাক করে দিয়ে দরিদ্র ও শিক্ষা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্যে একটি সংগঠনও করে ফেলল । সংগঠনের নামও স্বদেশের নামে, নিজের বাবা বা মায়ের নামে নয় ! আমি উৎসাহবোধ করলাম।
আমার উৎসাহ যখন মুগ্ধতায় পরিণত হচ্ছে ঠিক তখনই একটা হতাশাজনক খবর পেলাম ।
কিছুদিন আগে আমার বন্ধুটি জাতিসংঘ প্রণীত মানবাধিকার বিষয়ক কিছু লেখা তার ফেসবুক দেয়ালে তুলে দিয়েছিল । সরল উদ্দেশ্য ছিল মানুষ জানুক রাষ্ট্রের ওপর তার অধিকার । বাংলাদেশেই তো সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হয় ! কিন্তু কিছুদিন আগে শুনলাম বন্ধুটির পরিবারের এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি বন্ধুর লেখাগুলো ফেসবুক দেয়াল থেকে মুছে ফেলতে তার ওপর চাপ প্রয়োগ করছে । অথচ তিনি বন্ধুটির রাজনৈতিক গুরু । আমার খুব মন খারাপ হল।
তবু আমার হতাশ হতে ইচ্ছা করে না ।
তবু আমি আশাবাদী ।আমার এক বন্ধু অতি সম্প্রতি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছে । আমার জন্যে এটা মোটেই সুখবর নয় । আমি শঙ্কিত হলাম । যার কথা বলছি সে একেবারেই বাংলাদেশের রাজনীতির জন্যে ইংরেজিতে যাকে বলে ফিট নয় । পাড়ার ভাল ছেলের তালিকা হলে তার নাম সেখানে থাকে । তাকে আর যেখানেই হোক বাংলাদেশের রাজনীতিতে মানায় না । কিন্তু দেখা গেল বন্ধুটি বদ্ধপরিকর । রাজনীতি সে করবেই এবং সফলও হবে, দৃঢ়ভাবে জানাল ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে লেখাপড়া জানা ছেলের বড় অভাব । সবাই ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার ব্যবসায়ী ইত্যাদি হতে চায় কিন্তু কেউ রাজনীতিক হতে চায় না । অথচ আমাদের রাজনীতিতে লেখাপড়া জানা ছেলের খুব বেশি দরকার । বন্ধুটি ইতোমধ্যেই অবশ্য বেশ জোরেশোরে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করে দিয়েছে । এলাকায় সামাজিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে । সবার খোঁজ খবর নিচ্ছে । একদিন শুনলাম মসজিদও বানিয়ে ফেলেছে !
আমি খুব অবাক হলাম ! আমার 'ভাল ছেলে বন্ধুটি' দেশের রাজনীতি শিখে ফেলছে ! বেশ আমোদ লাগল । তবে পাশাপাশি চিন্তিতও বোধ করলাম । মনে হয়েছিল বন্ধুটি প্রচলিতধারার রাজনীতির দিকেই যাচ্ছে । কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই আমার আশঙ্কাকে বন্ধুটি ভুল প্রমাণিত করল । সে বিভিন্ন বইপত্র যোগার করে পড়াশুনা শুরু করল । তার পড়াশুনার মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান বা জিয়াউর রহমানের জীবনী নয়, রয়েছে ইতিহাস, সাহিত্য, অর্থনীতি, সমাজনীতি, রাজনীতি ইত্যাদি রয়েছে । নিয়মিত ঢাকা শহরের বইয়ের দোকানগুলোতে ঘুরে বেড়ায় । বই কেনে । এবং রাত জেগে বই পড়ে । আমার উৎসাহ দ্বিগুণ হল । আমি আশাবাদী হয়ে উঠলাম । এবার হয় তো রাজনীতিতে নতুন কিছু যুক্ত হবে ।
তার ফেসবুক দেয়ালে নিয়মিত কঠিন কঠিন বিষয়ের পোস্ট হতে লাগল । তার মধ্যে বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সমাজনীতি, রাজনীতি, মানবাধিকার ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত হতে লাগল । আমি চমৎকৃত হলাম । বন্ধুটিকে আরও উৎসাহিত করতে লাগলাম । আমাকে আরও অবাক করে দিয়ে দরিদ্র ও শিক্ষা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্যে একটি সংগঠনও করে ফেলল । সংগঠনের নামও স্বদেশের নামে, নিজের বাবা বা মায়ের নামে নয় ! আমি উৎসাহবোধ করলাম।
আমার উৎসাহ যখন মুগ্ধতায় পরিণত হচ্ছে ঠিক তখনই একটা হতাশাজনক খবর পেলাম ।
কিছুদিন আগে আমার বন্ধুটি জাতিসংঘ প্রণীত মানবাধিকার বিষয়ক কিছু লেখা তার ফেসবুক দেয়ালে তুলে দিয়েছিল । সরল উদ্দেশ্য ছিল মানুষ জানুক রাষ্ট্রের ওপর তার অধিকার । বাংলাদেশেই তো সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হয় ! কিন্তু কিছুদিন আগে শুনলাম বন্ধুটির পরিবারের এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি বন্ধুর লেখাগুলো ফেসবুক দেয়াল থেকে মুছে ফেলতে তার ওপর চাপ প্রয়োগ করছে । অথচ তিনি বন্ধুটির রাজনৈতিক গুরু । আমার খুব মন খারাপ হল।
তবু আমার হতাশ হতে ইচ্ছা করে না ।
তবু আমি আশাবাদী ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০১৫ ভোর ৪:০১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

টারজান থেকে আইনস্টাইন

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৭



১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাস। হাড় কাঁপানো ঠান্ডা।
প্রচন্ড শীতে এক বালক রাস্তা দিয়ে একাএকা হাঁটছে। বালক জানে না- তার বাবা কে, মা কে? ক্ষুধা পেলে একটা খাবার দোকানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭


এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

একটা সময় ছিল- শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ করলেই কারও চোখে ক্ষোভ, কারও মনে শ্রদ্ধা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার দৃষ্টিতে - 'ব্লগার ওমর খাই-আম' বনাম 'ব্লগার সত্যপথিক শাইয়্যান'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩২



চ্যাটজিপিটিকে আমার এবং ওমর খাই-আমের ব্লগপেইজের লিংক দিয়ে বলেছিলাম মূল্যায়ন করতে। সে আমাদের রেটিং দিয়েছে এরকম -
সত্যপথিক শাইয়্যানঃ 8.0/10, আর ব্লগার ওমর খাই-আমঃ 7.8/10!!!

বিস্তারিত মূল্যায়ন শেষে সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজগত বিষয়ে আমার গবেষণায় এআই সহায়তা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১





কোন কিছু না থাকা শূন্য অসীম ছিল। কারণ তাতে তাকে সীমা দেওয়ার মত কিছুই ছিল না। সেই শূন্যে কোন কিছু হতে কোন বাধা ছিল না। কে বাধা দিবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিসের রিকন্সিলিয়েশন‼️কার সাথে কে চায় এই রিকন্সিলিয়েশন⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০



বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে "রিকন্সিলিয়েশন" বা সমঝোতা-ভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে বিতর্কটা অনেক পুরনো, এবং প্রশ্নটা সেই বিতর্কের মূল জায়গায়।

এটা কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×