somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নস্টালজিয়া নয়

২৩ শে জুন, ২০১৫ ভোর ৪:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




জুনের ২১ তারিখটি ছিল একটি বিশেষ দিন । বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সিরিজ জিতেছে । আর এদিনটি ছিল বাবা দিবস । বলা যেতে পারে একসঙ্গে দুই দুইটা উৎসব । ফেসবুকের দেয়ালগুলো এই উৎসবের পোস্টে সয়লাব ছিল । ক্রিকেটে ভারতকে হারানো তো বহু কাঙ্ক্ষিত । সে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়েছে । ফলে একটু বাড়াবাড়ি থাকতেই পারে । দেশ জিতেছে । অনেক বড় ব্যাপার তো বটেই । আমাদের বুদ্ধিদীপ্ত ছেলেমেয়েরা ভারতীয় ক্রিকেটারদের ছবি সম্পাদনা করে যার যার দেয়ালে তুলে দিয়েছে । পুরো পৃথিবীর মানুষ দেখেছে । আমোদ পেয়ে হেসেছে । আমি নিজেও হেসেছি ।
বাবা দিবস উপলক্ষে নিজ নিজ বাবার কথা বলেছে । বাবার সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুক দেয়ালে টানিয়েছে । বাবাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছে । কারও ছেলের জন্মদিন ছিল । আবার কেউ বাবা হয়েছেন, আবেগে আপ্লুত হয়েছেন । সে সব লেখা দেখে পড়ে আমাকেও সে আবেগ স্পর্শ করেছে । সত্যি বড় ভাল লেগেছে । মনটা ভরে গেছে ।
একুশ জুন রবিবার আরও একজন মানুষ বাবা হয়েছেন । তার নাম আবদুর রাজ্জাক । তিনি বাংলাদেশের একজন সীমান্ত রক্ষী । সীমান্ত পাহাড়া দেন । বাংলাদেশের মানুষ যেন তাদের প্রিয় বাবা ছায়ায় থাকতে পারে বা নিরাপদে ভারত বাংলাদেশ ম্যাচ দেখতে পারে, সেটা নিশ্চিত করেছেন । দীর্ঘ একুশ বছর ধরে আবদুর রাজ্জাক এই মহান কাজটি করে আসছিলেন ।
ছয় দিন হল নায়েক আবদুর রাজ্জাক তার দায়িত্ব পালন করছেন না । করতে পারছেন না । ছয় দিন আগে মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) তুলে নিয়ে গেছে । ১৭ জুন বুধবার ভোরে বিজিবির ছয় সদস্যের একটি দল নায়েক আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে নাফ নদীতে টহল দিচ্ছিল । তারা বাংলাদেশের জলসীমায় মাদক চোরাচালান সন্দেহে দুটি নৌকায় তল্লাশি করছিল । এ সময় মিয়ানমারের রইগ্যাদং ক্যাম্পের বিজিপির সদস্যরা একটি ট্রলারে করে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করেন । একপর্যায়ে বিজিপির সদস্যদের বহনকারী ট্রলারটি বিজিবির টহল নৌযানের কাছে এসে থামে । বিজিপির ট্রলারটিকে বাংলাদেশের জলসীমা ছেড়ে যেতে বলা হলে তারা নায়েক রাজ্জাককে জোর করে ট্রলারে তুলে নেয় । বিজিবির অন্য সদস্যরা এতে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয় । সিপাহি বিপ্লব কুমার গুলিবিদ্ধ হন । পরে বিজিপির ট্রলারটি আবদুর রাজ্জাককে নিয়ে মিয়ানমারের দিকে চলে যায় । শুধু যে তুলে নিয়ে গেছে তা নয়, এরপর বিজিপির ফেসবুকে রাজ্জাকের তিনটি ছবি তুলে দেয়া হয়েছে । তার একটিতে দেখা গেছে, রাজ্জাকের নাক দিয়ে রক্ত ঝরছে । আরেকটিতে হাতকড়া পরিয়ে তাকে আসামির মতো দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে । আবদুর রাজ্জাককে নির্যাতন করেছে । তার প্যান্ট খুলে লুঙ্গি পড়িয়েছে । কি স্পর্ধা !
কাল পত্রিকায় দেখলাম মায়ানমার বলছে শর্ত সাপেক্ষে ফিরিয়ে দেওয়া হবে রাজ্জাককে। আর শর্ত হলো সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াগামী উদ্ধার হওয়া ৫৫৫ জনকে বাংলাদেশে ফেরত আনলে তবেই রাজ্জাককে ফেরত দেওয়া হবে । দুঃসাহসিকতা বলব নাকি স্পর্ধাই বলব ? মায়ানমার এই সীমাহীন সাহস পেল কোত্থেকে ?
কিছুদিন আগে এই মায়ানমারে মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে বলে ফেসবুকের দেয়ালগুলোয় সত্য মিথ্যা খবর আর ছবি দিয়ে কদিন কি বিপুল প্রতিবাদের তাণ্ডব চলেছে । আবদুর রাজ্জাকও মুসলমান । তিনি মায়ানমারের নন, আমার বাংলাদেশের মানুষ । তাকে মায়ানমারে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে । অথচ এখন বাংলাদেশের ওই মুসলমানপ্রেমীরা টু শব্দটি করছে না । কেন ? নাকি তারা আবদুর রাজ্জাকের মৃত্যুর প্রতীক্ষায় রয়েছে ? আমাদের চিন্তা কি এতই দৈন্য ? অসুস্থ রাজনীতি কি আমাদের মানসিকতাকে কি এতই পঙ্গু করে দিয়েছে ? যে ছয়টি দিন বাংলাদেশের সীমান্তে পাহারারত অবস্থায় একজন সীমান্ত রক্ষীকে অপহরণ করে নিয়ে যায় আর আমরা কিছুই বলি না ! নুন্যতম প্রতিবাদও করি না ! আমাদের কি লজ্জাবোধ হবে না কখনও ?
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৪:৩৯
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডিস্কভারি অব ইন্ডিয়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৪



১৯৪৭ সালটা সমস্ত বাঙ্গালীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
দেশবিভাগের বছর শেখ মুজিব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। ভারত ও পাকিস্তান ভাগ হওয়ার সময়ে কলকাতায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালমান মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে এ্যাকশান নিয়ে সরকার কি বার্তা দিচ্ছে?

লিখেছেন আফনান আব্দুল্লাহ্, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫

সালমান মুক্তাদির দেখি জঘন্য মানুষ। ওয়াইন, ওম্যান আর ওয়েল্থ – পুরুষ নষ্টের এই তিন ডব্লিউ-ই তার অস্থিমজ্জা ও লিভারে ঢুকেছে



এদিক-ওদিক ব্যাপক আম-লিচু করে বেড়িয়েছে। নিজের স্টুডিওতে আজেবাজে শুটিং করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×