ছাত্রজীবনে আইলসামি, সময় ও সুযোগের অভাবে টিউশন করানো হইয়া উঠত না। আমার মাস্টার লাইফ মাত্র ২ মাসের। বন্ধুরা যদ্যপি ধুমাইয়া মাস্টারি করিয়া দু'হাতে কামাইত আর আমি তাহাদের নিকট হইতে চাঁদা আদায় পূর্বক ভুরিভোজ করিতাম আর বলিতাম চাকুরি করিয়া সব উসুল করিব। তখন ভাবিতাম যখন শিক্ষাজীবন শেষে চাকুরি লাভ করিব, তখন ধুমসে টাকা খরচ করিব। ধুমসে ঘুরাঘুরি করিব। কিন্তু বিধি বাম, চাকুরি বলিতে স্বল্প মজুরির কামলা খাটা।
ছাত্রজীবন শেষে বেসরকারি কামলাজীবনে প্রবেশ করে মাসের মাত্র একদিন ছুটি পাইতাম বলিয়া আমার অতীত জীবনের ধ্যান ও ধারণা চিরতরে বিদায় নিয়েছিল। কই সময় আর কই টাকা। দুইটার একটিরও মুখ আর দেখা হয় নাই বলিয়া শেষমেষ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করিয়া এই আইলসা আমি জীবনে প্রথমবারের মত বেকার জীবনে প্রবেশ করিলাম। কেননা, ছাত্রত্ব শেষ হইবার পূর্বেই মানে পরীক্ষা সম্পন্ন হইবার সাথে সাথেই রেজাল্ট হইবার বহু পূর্বেই এই মুচি একখানা কাম পাইয়া গিয়াছিল।
ছাত্রজীবনে ছুটি আসতো, আমি আইলস্যা সরকারি ছুটি পাইয়া ঘরে ঝিমাইছি। নববর্ষের ছুটিতে বন্ধুদের গুতাগুতিতে বাহির হইতে বাধ্য হইতাম। কাঠ ফাটা গরমেও বাহির হইতাম। কামলা জীবনে ছুটি কি জিনিস ঐটাই ভুলিয়া গিয়াছিলাম, কারন মাসের ৪ শুক্রবারের ৩ দিনই কাম করিতে যাইতে হইত। তাই এরূপ বাধ্যতামূলক সরকারি ছুটির দিনে বাহির হইবার ন্যূনতম শক্তিও অবশিষ্ট থাকিত না।
তাই কামলা জীবনের সমাপ্তি টানিয়া বেকার জীবনে প্রবেশ করিবার পর বাসায় বসিয়া শুধু রাজ্যের চিন্তা মাথায় নিয়া এইসব সরকারি ছুটিতে বাহির হইতে যে আগ্রহ তাহা ঐ ক'মাসের কামলা জীবনের প্রভাবে হারায়েছে।
আর অর্থাভাবে আকাশের ইলিশ মাছ বাসায় কিনিয়া ভাতে পানি দিয়া খাইবার সামর্থ্যও হয় নাই বলিয়া গরম ভাত আর পদযুক্ত প্রাণির গোশত দিয়া আহার কার্য সম্পাদন করিয়াছি।
তাই বেকারত্বের অভিশাপ মাথায় লইয়া বাহির হইয়া এই মাথা ফাটা রোদের মধ্যে উৎসব করিবার আগ্রহ ও অধিকার আজ আমার নাই।
কিন্তু আবার ঈমান দুর্বল হইবার ভয়ে ভীত, কেননা পহেলা বৈশাখ পালন না করলে নাকি ঈমান দুর্বল হইবার সমূহ সম্ভাবনা বিদ্যমান। যাই হোক আশা করি বেকারদের জন্য শর্ত কিছুটা শিথিল।
যাই হোক সকল বাঙালিকে নববর্ষের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
সবাইকে যার যার ঈমান বাঁচাবার জন্য ঠিকমত পহেলা বৈশাখ পালন করতে আল্লাহ পাক যেন তৌফিক দেন। আমিন। [সেই সকল অবাঙালি মুসলিমদের জাতিদের প্রতি অনেক অনেক সমবেদনা পহেলা বৈশাখের ফজিলত না জানার জন্য
বি.দ্র: সকলে এই বেকারের জন্য দোয়া করবেন যেন, আগামি পহেলা বৈশাখ ধুমধাম করে পালন করতে পারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

