somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপচয় ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি

২০ শে আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৩:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অপচয় এখন আমাদের সমাজের আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে গেছে। অপচয় ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গর্হিত ও ক্ষতিকর কাজ। ইসলাম ভারসাম্যপূর্ণ ও মধ্যমপন্থী ধর্ম। তাই এতে অপব্যয় ও কৃপণতার মতো অপচয়ও নিষিদ্ধ। অপচয় হচ্ছে বৈধ কাজে প্রয়োজনাতিরিক্ত ব্যয় করা, যাকে আরবিতে ‘ইসরাফ’ বলে। অপব্যয় হচ্ছে অবৈধ কাজে ব্যয় করা, যাকে আরবিতে ‘তাবজির’ বলে। মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় যাই হোক তা অপচয়। অপচয় হতে পারে টাকা-পয়সা, খাদ্য-পানীয়, গ্যাস-বিদ্যুৎ, সময়, মেধা, শক্তি-সামর্থ্য ইত্যাদির ক্ষেত্রে।

পানাহারের অপচয় : প্লেটভর্তি খাবার নিয়ে খাওয়ার শেষে কিছু অংশ না খেয়ে প্লেটে রেখে দেয়াটা একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতে এ অপচয় খুব বেশি দেখা যায়। একটি ভাত বা এক টুকরো তরকারি নষ্ট করার আগে আমরা একবারও ভেবে দেখি না যে, কতগুলো হাতের খাটুনির সুবাদে এ খাবার আমাদের কাছে পৌঁছেছে। আর সেই খাবার আমরা অবলীলায় ফেলে দিচ্ছি!

পানির অপচয় : পানির অপচয়কে অনেকে অপচয়ই মনে করেন না। তাদের ধারণা যে, পানি তো পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। তাই বেশি খরচ করলে সমস্যা কী? এ ধারণাটি সঠিক নয়। কারণ অপচয় মানে বিনা প্রয়োজনে ব্যয় করা। রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘তুমি যদি সাগরপাড়ে বসেও পানি অতিরিক্ত ব্যবহার করো, তাও অপচয় হবে। যে অজুতে এক বদনা পানি লাগার কথা, সে অজুতে এক বালতিরও বেশি লেগে যায়। পানির টেপ ছেড়ে দিয়ে আমরা অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। দাঁত মাজা, হাত কচলানো ইত্যাদি কাজ চালু রাখতে দেখা যায়। এতে প্রচুর পানি খরচ হয়।

গোসলের সময় মাথায় মগভর্তি পানি ঢালি। কিন্তু অর্ধেক পানি মাথা হয়ে শরীরে পড়ে, আর বাকি অংশ সরাসরি মাটিতে পড়ে যায়। কাপড়-চোপড়, মাছ-তরকারি, থালা-বাটি ইত্যাদি ধোয়ার সময় দেখা যায় পানির কল চলতে থাকে, আর আমরা ধীরস্থিরে ধুয়ে যাই। এতে একটি জিনিস ধুতে যতটুকু পানি লাগার কথা তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি পানি অযথা নষ্ট হয়ে যায়। পানি রাখার সময় খেয়াল করে ঢেকে রাখা হয় না। পরে অবলীলায় সে পানি ফেলে দেয়া হয়। পানির মোটর ছেড়ে দিয়ে খেয়াল করা হয় না, ফলে ট্যাংকি ভর্তি হয়ে প্রচুর পানি অপচয় হয়। এভাবে পানি ব্যবহারে আরও কত ধরনের অপব্যবহার আমরা করে যাচ্ছি তার কোনো হিসাব নেই।

বিদ্যুতের অপচয় : বিদ্যুতের অপচয় আমাদের কাছে একটি সাধারণ বিষয় হয়ে গেছে। বলতে গেলে এটি একটি মহামারী আকার ধারণ করেছে। অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এ অপচয় বেশি হয়। অফিসিয়াল সিস্টেম রক্ষা করতে গিয়ে সব লাইট-ফ্যান একসঙ্গে চালু করে দেয়া হয়।

দোকানপাটের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বা জিনিসপত্রের জৌলুস ও চমক বাড়ানোর জন্য যে হারে বিদ্যুতের অপব্যবহার করা হয়, তা কোনোভাবেই মার্জনীয় নয়। আলোকসজ্জার নামে বিভিন্ন মার্কেট, রেস্টেুরেন্ট ও বহুতল ভবনে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ অপচয় করা হয়, তা রীতিমতো বিস্ময়কর।

গ্যাসের অপচয় : গ্যাসের ক্ষেত্রে অপচয়ের সুযোগ থাকার কারণে আমরা অপচয় করি বেশি। ব্যবহারভিত্তিক বিল না হয়ে মাসিক নির্ধারিত বিল হওয়ার কারণে অধিকাংশ গ্রাহক মনে করেন, ২৪ ঘণ্টাই তার গ্যাস চালানোর অধিকার আছে। এ ধারণা ভুল। মূলত একটি পরিবারে সাধারণত যতটুকু গ্যাস লাগে ততটুকু ব্যবহারের জন্যই সে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অনুমতিপ্রাপ্ত। সুতরাং এর বাইরে গ্যাস ব্যবহার করলে তা অপচয় হিসেবে পরিগণিত হবে। আমরা অনেকে কাপড় শুকানোর জন্য, শীতকালে বাসা গরম রাখার জন্য, আবার নতুন করে আগুন জ্বালানোর কষ্ট থেকে রেহাই পেতে এক বেলার কাজ শেষ হওয়ার পর আরেক বেলা পর্যন্ত চুলা জ্বালিয়ে রাখি। এ ধরনের অপচয় ও অপব্যবহারের ফিরিস্তির কোনো শেষ নেই।

সাজসজ্জার অপচয়

সাজসজ্জা করতে গিয়ে আমরা অনেক পোশাক কিনে থাকি। বর্তমানে পোশাক শরীরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির চেয়ে বেশি কাজে লাগছে শোভা বর্ধনের কাজে। তাই শরীরের প্রয়োজনে লাগুক আর নাই লাগুক শোভা বাড়ানোর যেহেতু প্রয়োজন আছে তাই মার্কেটে নতুন পোশাকের আমদানি হলেই কিনতে হয়। পোশাক কেনার ক্ষেত্রে কোন পোশাকটি আরামদায়ক তা বিবেচনায় না নিয়ে কোনটি পশ্চিমা স্টাইলে তৈরি, তা বিবেচনা করা হয়। শুধু দামের আধিক্যের বিবেচনায়ও পোশাক কেনা হয়। সঙ্গীদের সঙ্গে বড়াই করার জন্য অনেক দামি দামি পোশাক খরিদ করা হয়। শাড়িটা কেমন? এ প্রশ্নের চেয়ে শাড়ির দাম কত? এ প্রশ্নই বেশি করতে শোনা যায়। এ ধরনের অপচয় কি কোনোভাবে সমর্থনযোগ্য?

ইসলামের দৃষ্টিতে অপচয় একটি গর্হিত কাজ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহপাক বলেন, ‘এবং যখন তারা ব্যয় করে তখন তারা অপচয় করে না, কাপর্ণ্যও করে না; বরং তারা আছে এতদুভয়ের মাঝে মধ্যম পন্থায়।’ (সূরা ফোরকান : ৬৭)। অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘এবং তোমরা আহার করো ও পান করো। কিন্তু অপচয় করো না। তিনি অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না।’ (সূরা আরাফ : ৩১)। হাদিসে রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, আল্লাহ তোমাদের জন্য তিনটি বস্তু অপছন্দ করেন- ১. অনর্থক এবং বাজে কথা বলা, ২. নিষ্প্রয়োজনে মাল নষ্ট করা এবং ৩. অত্যধিক প্রশ্ন করা।’ (বোখারি)।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৩:৪১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×