somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরের জন্য কুয়া খুঁড়লে নিজেই তাতে পরতে হয়

৩০ শে আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৩:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


...
ইসলামের ইতিহাসে দ্বিতীয় ওমর (রাঃ) বলা হতো আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর এর ছেলেকে।মানি হযরত ওমর (রাঃ) এর নাতিকে।তার শাসন আমল এমন ছিল যে বাঘ আর মহিষ এক ঘাটে পানি পান করত কিন্তু বাঘ মহিষকে খেতে ভয় পেত।আশ্চর্য ব্যাপার নাহ?ওমর ফারুক (রাঃ) এর নাতি সবসময় বলে ফিরতেনঃ "আমার রাজক্তের এরিয়ায় যদি একটি কুকুরও না খেয়ে মারা যায় তাহলে হাশরের ময়দানে আল্লাহর কাছে আমার জবাব দিতে হবে"।তাহলে বুঝে নিন তার মাকাম কত উঁচু পর্যায়ের ছিল।কিন্তু কথা হলো সাহাবাদের মধ্যে কোন একজন যদি ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে যুদ্ধে যেতেন ঘোড়ার খুড়ার তলদেশে যতটুকু মাটি থাকত তার সমানও তাকে ধরা হয় নি।
...
কারন তিনি মহানবী (সঃ) এর সাহাবা ছিলেন না।সাহাবাদের মাকাম অনেক উঁচু ছিল।কারন তারা মহানবী (সঃ) কে সরাসরি ফলো করতেন।উল্লেখ্য যে,মহানবী (সঃ) এর কাছে যে যত আগে এসেছেন তার মাকাম তত বেশি উঁচু।এখন কথা হলো মহানবী (সঃ) এর সিনা মোবারক থেকে যে জ্ঞান যে এলেম এসেছে তা ধারন-বাহন করে রেখেছে তাঁর উত্তরসূরিরা।আর কালের বিবর্তনে তা আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠা করে গেছে মাদ্রাসার বড় বড় আল্লাহ ওয়ালা লোকেরা।
আপনার জীবন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য মহানবী(সঃ) এর আদর্শ অবশ্যই দরকার।ইসলামের বাস্তবায়নতা দরকার যেকোন কাজ করতে।
...
এখন কথা হলো আমরা ও আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা বেশিরভাগই স্কুল-কলেজে পড়ে।তো প্রশ্ন জাগে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা কতটুকু ইসলামের জ্ঞান পায়?এইসব ছেলে-মেয়েদের যারা পড়ায় তারা ইসলাম সমন্ধে কতটুকু জানে? কারন আমরা শিক্ষকের কাছ থেকে শিখি।এখন শিক্ষকই যদি না জানে আমি কোথা থেকে জানবো?তো আমি বলতে পারি স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ৭৫% শিক্ষার্থীরাই ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ।তারা সঠিকভাবে নামাজের নিয়মটাও বোদহয় জানে না।
...
মূল কথায় আসি।এইসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ রাজনীতিবিদ হবে,কেউ ব্যবসায়ীক হবে,কেউ ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার হবে।এখন যেই কাজই করো না কেনো সব কাজে শান্তি লাগবে।এখন শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে তোমার ইসলামের পরামর্শ লাগবেই।তুমি বিজ্ঞানীদের বই পড়ে কোন মেশিন বানাতে পারবে কিন্তু ওই মেশিন দিয়ে শান্তি আসবে কি না তা বলতে পারবে না।আর তুমি যদি কোন জিনিসের দ্বারা শান্তি বজায় রাখতে না পারো তাহলে তোমার সব কাজ ব্যর্থ।এখন তোমার শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলাম সম্পর্কে জানতে হবে আর ইসলাম সম্পর্কে জানার মাধ্যম মাদ্রাসা।শুধুমাত্র এইখানেই তুমি ইসলামের সঠিক জ্ঞান পাবে।
...
দেশ এখন অশান্তির মুখে আছে।চারদিকে শুধু জঙ্গিদের ভয় তাড়া করে বেড়াচ্ছে।প্রশ্ন জাগে তারা তো স্কুল-কলেজের ছাত্র ছিলো।ওইসব ছাত্র-ছাত্রীদের মতো তারাও ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলো।যার কারনে ইসলামের অপব্যবহার করে তারা মানুষকে খুন করে বেড়াচ্ছে।তারা ইসলাম সম্পর্কে জানে না বিধায় ইহুদি-নাসারাদের এক বিশেষ দল তাদের মাথায় ভুল ঢুকিয়ে তাদের দিয়ে এই কাজ করাচ্ছে।আমি বলতে চাচ্ছি যাদের মধ্যে ৭৫% মানুষই নামাজ সম্পর্কে অজ্ঞ তারা জঙ্গি হবে না তো হবে কে?আর ইহুদি-নাসারাদের দল কোন মাদ্রাসার ছাত্রকে ভুল বুঝিয়ে তাদের কাজে আনতে পারে নি কারন তারা ইসলাম সম্পর্কে সচেতন।মহানবী (সঃ) এর থেকে নির্গত জ্ঞানের কিছু অংশ হলেও তারা পেয়েছে যার কারনে তাদের দিয়ে এই কাজ করানো সম্ভব না।
...
কিন্তু একটা সময় ছিল যখন কোন বোমা হামলা বা দেশের পরিস্থিতি খারাপ হতো তখন দেশের নেতারা বুক ফুলিয়ে বলতো কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা জঙ্গি তাদের গ্রেফতার করতে হবে।সজিব ওয়াজেদ জয় তো হুংকার ছেড়ে বলেছিলেন এদেশে কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক শিক্ষানীতি বাতিল করতে হবে।কিন্তু একটা কথা আছে "বড় কথার মান আল্লাহ রাখে না"এটাই সত্য।আপনাদের বুক আর সাথে মাথাটা আল্লাহ নিচে করে দিলেন।পরের জন্য কুয়া খুঁড়ছিলেন এখন সেই কুয়ায় নিজেরাই পড়ে গেলেন।কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের জঙ্গি বলতেন এখন দেখা যায় কোন মাদ্রাসার ছাত্র না স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্ররাই জঙ্গি।
...
সবসময় তারা ইসলাম ও মাদ্রাসাকে হেয় করতেন।কিন্তু সময় আল্লাহ পাল্টে দিয়েছে।তাদের গলায়ও স্বর উঠে "ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতাই জঙ্গিবাদের জন্ম দিয়েছে।সবসময় নাটক বানাতেন মাদ্রাসার ছেলেগুলাকে নিয়ে রং তামাশা করতেন এখন দেশ বাঁচানোর জন্য ওই পাঞ্জাবিওয়ালাদের পকেটেই মুখ গুঁজে রাখছেন।সব জিনিসের সঠিক সময় আছে।মাদ্রাসাকে যেমন আল্লাহ অকলুষিত করেছেন তেমনি আপনাদের বানানো জঙ্গিবাদের সাথে "আল্লাহু আকবার" শব্দটার ব্যবহার করার নাটকটারও শেষ হবে।অপেক্ষায় রইলাম।
...
লেখায়-মুহাম্মাদ আরজু (পথহীন মুসাফিরর‍)
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৩:০৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একান্ত ভাবনা

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪০

একবার রিয়েক্টর ফিজিক্স ক্লাসে আমাদের একজন শিক্ষক বলেছিলেন, "এই দেশে আসলে সবাই সবার সঙ্গে বাটপারি করে।" কথাটা শুনে প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু যতদিন গেছে, চারপাশটা যতটুকু দেখেছি, ততই মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×