আমাদের বাড়িতে একই গ্রামের হিন্দু প্রতিবেশিরা আসতেন সোজা রান্নাঘরে,আমার দাদী,মা,চাচিরা চা,পান সুপারি খেতে দিতেন,পিড়ি পেতে দিয়ে খোস গল্প করতেন।আমার বাবা,চাচারা একসাথে বসে গল্পে কাকা,মামা,মাসী সম্ভোদন করতেন।প্রকৃত ধার্মিক বলতে যা বোঝায় আমার বাবা,চাচারা ছিলেন।কোরান পাঠ,পাঁচবার মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তেন।মসজিদের পরিচালনা দায়িত্ব ছিলো আমার বাবার ওপর।বাবার বড় দোকান ছিলো,ঈদ পূজা পর্বণের জিনিসপত্র হিন্দু মুসলিম গ্রামবাসী সবাই তার কাছ থেকে আনতো।দোকানটাই একমাত্র আয়ের উৎস ছিলো না।আমাদের কৃষিজমি তদারকি করতেন মোল্লা চাচা আর ছোট চাচা লন্ডন থেকে সব সময় খরচের টাকা পাঠাতেন।গ্রামের হিন্দু জনগোষ্টির বেশিরভাগ ছিলো গরীব সে জন্য পরিচিতদের বাবা স্বআগ্রহে পূজা পর্বনের সদাই বাকিতে কিনতে দিতেন।
আসা যাক আত্মীয়ার কথায়,উনি কুকুর পালেন।কুকুর উনার কুড়েঘরের রান্নাঘর থেকে সর্ব স্থানে যায়,লালা ঝরায় এটা ওটা চাটে আবার বাইরের ময়লাও ঘরে আনে।আমাদের ধর্মে কুকুর পালা নিষেধ না হলেও সাবধান করা হয় কুকুর প্রবিত্রতা নষ্ট করে।যদি কুকুর কোনো বাসনকোসনে মুখ দেয় ৭ বার ভালো করে ধোতে বলা আছে।
তিনি একবার আমাদের ঘরে আসলেন।আমাদের ঘরে একজন হিন্দু মহিলা ছুটা কাজ হিসেবে মাঝে মাঝে সাহায্য করতেন।তিনি বেড়াতে এসে হিন্দু মহিলাকে দেখে শুরু করলেন নাক সিটকানো।তিনি ঐ মহিলার স্পর্শ থেকে নিজেকে বাঁচাতে থাকলেন,দৃষ্টি কটু লাগছিলো দৃশ্যটি।গল্পচ্ছলে একবার হিন্দু মহিলার স্পর্শ লেখে গেলো!শুরু করলেন হায় হায়, আমি অপ্রবিত্র হয়ে গেছি!!নামাজ পরতে হলে আমাকে এখন ফরজ গোসল করতে হবে।তিনি নামাজের আগে আবশ্যিক গোসল সারলেন!অথচ তার সঙ্গের কুকুরটি তাকে কতবার চাটলো সেটা তার মাথাব্যথা কারণ ছিলোনা,ভাবা যায়।
কত জঘণ্য মানসিকতা ধারন করে ছিলেন ওই বৃদ্ধা।তবে এরকম মানসিকতার মানুষ খুব কম ছিলো সে সময়ে।
হিন্দু বাড়িতে বৈশাখী ধানের বদলে খই আনতে গেলে দেখতাম মহিলারা চোখ পাহারায় বসিয়ে রাখতো শেখের বেটা ঘরে পা রাখে কিনা? শুনেছি তারা নাকি মুসলমান কেউ তাদের ঘরে ডুকলে ঘরের রান্না করা খাবার অপ্রবিত্র হয় বলে ফেলে দিতো।কত বড় জঘণ্য বিষয় ছিলো সেগুলো!
————-উত্তম পুরুষে যাপিত জীবন————
-মুহাম্মদ মুহিদ-

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



