View this link শেয়ারবাজারে ফাটকা বিনিয়োগেই বেশি আগ্রহী বেসরকারি খাতের বিভিন্ন ব্যাংক। অতিমুনাফার আশায় ব্যাংকগুলো এ ধরনের বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকেছে। আর এতে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে গ্রাহকের আমানত।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগেও কয়েকটি ব্যাংককে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও কোনো কোনো ব্যাংক তাদের বিনিয়োগ নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নামিয়ে আনেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বৃহস্পতিবার এই অভিযোগে সাতটি বেসরকারি ব্যাংককে পৃথকভাবে চিঠি দিয়ে আইন ভঙ্গের কারণ দর্শাতে বলেছে। সাতটি ব্যাংক হলো: আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক।
জানা গেছে, ব্যাংকগুলো একদিকে নিজস্ব তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ করছে, পাশাপাশি গ্রাহকদেরও ঋণ দিচ্ছে বিনিয়োগ করার জন্য। আর এভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ শেয়ারবাজারে ঢুকে পড়ছে। চলতি বছর বেসরকারি অনেক ব্যাংকের পরিচালন মুনাফার এক বড় অংশ আয় এসেছে শেয়ারে বিনিয়োগ থেকে। কয়েক বছর ধরে এই ধারা অব্যাহত আছে।
ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ: ব্যাংকিং সূত্র জানায়, আল-আরাফাহ্ ব্যাংক সব মিলিয়ে (নিজস্ব তহবিল বা পত্রকোষ—পোর্টফলিও এবং গ্রাহকের হিসাবে ঋণ) তার মোট দায়ের (আমানতের) ৩৪ দশমিক ৭০ শতাংশ অর্থ শেয়ারে বিনিয়োগ করেছে। দায়ের ২৪ দশমিক ৫১ শতাংশ টাকা বিনিয়োগ করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক (এনবিএল)। ট্রাস্ট ব্যাংক মোট দায়ের ২২ দশমিক ৮৭ শতাংশ অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছে। ২২ দশমিক ২৯ শতাংশ অর্থ শেয়ারে খাটিয়েছে সিটি ব্যাংক। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক তার দায়ের ২১ দশমিক ৭০ শতাংশ টাকা শেয়ারে বিনিয়োগ করেছে। ২১ দশমিক ০১ শতাংশ টাকা শেয়ারে খাটিয়েছে ওয়ান ব্যাংক। আর আইএফআইসি বিনিয়োগ করেছে তাদের মোট দায়ের ১৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এই হিসাব গত জুন পর্যন্ত।
আইনের বিধান: ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৬(২) ধারায় শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকের জন্য বেশ কিছু বিধান রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ বা ব্যাংকের আদায়কৃত ও সংরক্ষিত মূলধনের ৩০ শতাংশের মধ্যে যেটি কম, তার বেশি টাকায় ওই কোম্পানির শেয়ার ধারণ করা যাবে না। তবে কোনো ব্যাংকের ধারণকৃত শেয়ারের পরিমাণ সমষ্টিগতভাবে ব্যাংকের মোট দায়ের ১০ ভাগের বেশি হতে পারবে না। সাতটি ব্যাংকই এ ধারার বিধান লঙ্ঘন করেছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক এই আইনের আওতায় গত ১৫ জুন শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বিষয়ে একটি সার্কুলার দিয়েছে। তাতে আইনের বিধানের কিছু ব্যাখ্যা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, কোনোভাবেই ১০ শতাংশের বেশি ব্যাংকের অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা যাবে না। কারণ এই বাজার একটি ফাটকা বাজার। আমানতকারীর জামানতের টাকা এ ধরনের বাজারে সীমার বাইরে বিনিয়োগ করা ঠিক হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত কঠোরভাবে তদারক করা।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) ‘বাংলাদেশ: আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা’ নামের একটি প্রতিবেদনেও এ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে। তারা বলেছে, প্রথাগত ব্যাংক কার্যক্রমের বাইরে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো তাদের কর্মকাণ্ড ও সম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছে, যা দেশের ব্যাংক খাতের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে। এ রকম পরিস্থিতিতে বাজারের পতন ঘটলে তা কোনো কোনো ব্যাংকের জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুর রহমান সরকার প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার দেওয়ার পর তাঁরা কিছুটা কমিয়ে এনেছেন। মাঝখানে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সঙ্গে ব্যাংকগুলোর বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, সবাই একবারের সীমার মধ্যে শেয়ারে বিনিয়োগ নামিয়ে আনতে গেলে বাজারে প্রভাব পড়তে পারে।
আবদুর রহমান বলেন, ‘এ কারণে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কিছু সময় চাইব, যাতে বাজারে প্রভাব ছাড়াই শর্তানুসারে বিনিয়োগ সীমার মধ্যে নেমে আসতে পারি।’
ওয়ান ব্যাংকের এমডি ফরমান আর চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ব্যাংক কোম্পানি আইন মেনেই বিনিয়োগ করেছি। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ারে দেওয়া ঋণ ও নিজস্ব বিনিয়োগ—সব হিসাবে নেওয়ায় এটি বেড়ে গেছে।
ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি শাহ এ সারোয়ার কোনো চিঠি পাননি বলে জানান। তিনি বলেন, তাঁর ব্যাংকের বিনিয়োগ কম। নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহককে সীমিত আকারে ঋণ দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


