somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রহস্যগল্প 008

২২ শে অক্টোবর, ২০০৬ রাত ৮:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পমি রহমান সিনে সাংবাদিক হলেও সে মাঝে মাঝে কাজের খবরের কাগজও পড়ে। গাব্রিয়েল মগাদিশু চৌরাসিয়া কয়েকটা খবরের কাগজ রাখেন, রহস্যভেদীদের সবসময় চারপাশের হালহকিকত সম্পর্কে ওয়াকি রাখতে হয়, তাই পমি রহমান চৌরাসিয়ার বাড়িতেই এসে খবরের কাগজটা পড়ে যায়। নিজের বাড়িতে তার কেবল সৌজন্য সংখ্যা সিনেপত্রিকা আসে। ওখানে সেন্টারফোল্ড পোস্টারগুলিকে সে কেটে দরজায় লাগায়, আর বাকিটা পত্রিকা অন্যান্য কাজে লাগায়, পড়ে না মোটেই।

আজ খবরের কাগজে এসেছে অদ্ভূত শিরোনাম। "টয়লেট দানবের তান্ডব! দশ দিনে শতাধিক কমোড ধ্বংস!!"

পমি রহমান খবর পড়তে পড়তে শিহরিত হয়ে ওঠে। বলে, "চৌরাসিয়া সাহেব, খবর পড়েছেন?"

চৌরাসিয়া ভোগান্তির বোতলে চুমুক দ্যান, তারপর বলেন, "না, কী লিখেছে?"

পমি রহমান পড়তে থাকে। "নগরীর বিভিন্ন এলাকায় টয়লেট দানব নামে এক অদ্ভূত জীবের আবির্ভাব ঘটিয়াছে। এই জীবকে যাহারা চাক্ষুষ করিয়াছেন, তাহারা সকলেই জীবিত নাই, বেশিরভাগই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়ায় ব্যাঘাত পাইয়া পরকাল লভিয়াছেন। যাহারা প্রাণে রক্ষা পাইয়াছেন, সেইসব প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণে জানা যায়, টয়লেট দানবের উচ্চতা প্রায় দশ ফুট, বুকের ছাতি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকগুণ বর্ধিত। ইহারা হঠাৎ হঠাৎ আসিয়া জোর করিয়া লোকজনের ঘরে ঢুকিয়া তাহাদের টয়লেটে নাম্বার টু কর্মটি সম্পাদন করে। ইহাদের কীর্তি এতো বলিষ্ঠ যে একবার ব্যবহারের পর কমোড বা প্যান আর আস্ত থাকে না, চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া যায়। আক্রান্ত অনেকের ঘরের চাল মলত্যাগের ইম্প্যাক্টে উড়িয়া গিয়াছে বলিয়া স্থানীয়রা প্রতিবেদককে জানান। আর মলের দুর্গন্ধে ভিটামাটি চাঁটি হইবার উপক্রম। এর মধ্যে কয়েকজন সেই মলের দুর্গন্ধ সহ্য করিতে না পারিয়া আত্মহত্যা করিয়াছেন। স্থানীয়রা জানাইয়াছেন, উচ্চতায় দশফুট ও প্রশস্ত ছাতিঅলা এই টয়লেট দানবের বিপক্ষে তাহারা অসহায়। এই ব্যাপারে প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হইলে তাঁহারা জানান, কেউ থানায় ডায়রি করায় নাই, অতএব তাঁহাদের বসিয়া কান চুলকানো ছাড়া করার কিছু নাই।"

চৌরাসিয়া বলেন, "হুমম।!"

পমি রহমান বলে, "আমার ঘরে ঢুকে হাগতে আসলে একদম ঠেঙিয়ে বিষ ছেড়ে দোবো। কত্তবড় ফাজিল। অন্যের ঘরে বলপূর্বক প্রবেশ করে হাগা!"

চৌরাসিয়া বলে, "এখানেই সমস্যা। আপনি হাগতে না দিলে সে আমার ঘরে এসে ঢুকবে। হাগা চেপে রাখা খুব কষ্টকর রে ভাই। একে ধামাচাপা দিয়ে রাখা খুব জটিল কাজ, সবাই পারে না।"

পমি রহমান বলে, "আপনার বাসায় ঢুকতে দেবেন না, তাহলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। খেদিয়ে দেবেন।"

চৌরাসিয়া বলেন, "কিন্তু টয়লেট দানবের উচ্চতা 10 ফিট বলছে না? ছাতিও সেই অনুপাতে চওড়া?"

পমি রহমান একটু বিমর্ষ হয়ে বলে, "হুঁ।"

চৌরাসিয়া চিন্তিত হয়ে বলেন, "হুম!"

পমি রহমান আবার কাগজ পড়তে থাকে। খানিক বাদে সে উত্তেজিত হয়ে বলে, "আরে সবের্ানাশ, দেখেছেন নাকি, চীনে কী হয়েছে?"

চৌরাসিয়া বলেন, "না, কী হয়েছে?"

পমি রহমান পড়তে থাকে, "গতকল্য চীনের বেইজিং নগরীর অদূরে এক ক্ষেতের মধ্যে রাতারাতি এক বিশাল গর্তের সৃষ্টি হইয়াছে। গর্তটির ব্যাস বিশাল, তাহা হইতে ধূম উদগীরণ হইতেছে, এবং দুর্গন্ধে এলাকাবাসী গাঁটরিবোঁচকা বাঁধিয়া দেশান্তরী হইবার প্রচেষ্টায় লিপ্ত ও ক্ষিপ্ত। চৈনিক সরকার এ ঘটনায় রীতিমতো মূহ্যমান ও বিব্রত। উল্লেখ্য যে গর্তটির চেহারা উল্কাপাতের ঘাতবিন্দুর মতো হইলেও এলাকাবাসী উল্কার কথা নাকচ করিয়া দিয়া বলিয়াছে, তাহারা কিছুই দ্যাখে নাই, কিছুই শোনে নাই, শুধু শুঁকিয়াছে। গন্ধে তাহাদের প্রাণবায়ু কণ্ঠগত। চৈনিক জাতি অপরিসীম খাচ্চর বলিয়া বিশ্বনিন্দিত, সেই তাহারাই যদি গন্ধের অভিযোগ করিয়া বিবাগী হয়, তাহলে সেই দুর্গন্ধ যে কীরূপ জোরালো হইতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।"

চৌরাসিয়া চিন্তিত হয়ে পড়েন। বলেন, "হুমম। মনে হচ্ছে, চীনেও বড়সড় কোন টয়লেট দানব ক্ষেতেখামারে গিয়ে বসে পড়েছিলো!"

পমি রহমান বলে, "কিছু ধরতে পারলেন ব্যাপারস্যাপার? আঁর তুন বালা ন লার! আঁরারে সমস্যার লগে লড়াই গরন ফরিব!"

চৌরাসিয়া কিন্তু ভোগান্তিতে চুমুক দিয়ে ভাবনায় ডুবে যান। দশদিন ধরে দশফুট উঁচু চওড়া ছাতির টয়লেট দানবের আক্রমণ, আবার এখন বেইজিঙে বড় স্কেলের উপদ্রব ...। তিনি মেলানোর চেষ্টা করেন। কী ঘটতে পারে দশ দিন আগে, যে রাতারাতি কিছু প্রাণীর উচ্চতা 10 ফুট হয়ে গেলো, বুকের ছাতি চওড়া হয়ে গেলো ... আর এখনই বা বেইজিঙে কী হচ্ছে ...?

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ম্যাজিস্ট্রেট

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতরুপা

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×