somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালবাসার সুখ-দুখ! - পর্ব ৫

০৩ রা আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৩:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভালবাসার সুখ-দুখ! - পর্ব ৪

২০.০৬.২০০৮, শুক্রবার
ঘর থেকে বের হয়ে আকাশ হাকীমচাচার চায়ের টং এর সামনে গিয়ে দাড়াল। তাকে দেখেই হাকীমচাচা তার চিরাচরিত এক গাল হাসি নিয়ে জিজ্ঞেস করল, কি গো বাজান, ভালানি?
হুম
কি চা দিমু?
দেন আর এক প্যাকেট ব্যানসন দেন
তারপর আর কোন কথা না বলে ফুটন্ত কেতলীর দিকে উদাসভাবে চেয়ে রইল আকাশ। কেতলীর একটিতে চাপাতিসহ পানি টগবগ করছে অন্যটিতে খালি পানি ফুটছে। দোকানে তেমন একটা ভীর নেই। সামনে রাখা বেঞ্চটিতে বসে আধা বয়সী একজন লোক বিড়ি ফুকছে, পাশে অন্য একজন চায়ে বিস্কুট ভিজিয়ে ভিজিয়ে খাচ্ছে। ওদের দিকে একনজর তাকাল আকাশ। তখনই হাকীমচাচা হাক ছেড়ে বলল, ঐ মিয়ারা একটু ছাইপ্পা বসেন তারপর আকাশকে বলল, বসেনগো বাজান। এই খানিক সময় লাগবো, নতুন পাতি দিছিতো............. বলে হাকীমচাচা খুব যত্ন করে গরম পানি দিয়ে কাপ গুলো ধুইতে লাগল। হাকীমচার বিশেষ কিছু কায়দা কানুন আর আন্তরিকতার জন্যেই আকাশরা আর কোথাও না গিয়ে এখানেই মাঝে মাঝে এসে বসে। এই লোকটাও সব সময় তাদের একটু বিশেষ খাতির যত্ন করে। সুযোগ পেলে আকাশও প্রায়ই খুটিয়ে খুটিয়ে তার ব্যবসার খবরা খবর নেয়। আজ আর কোন কথা হয়নি। হাকীমচাচাও কি বুঝেছে কি জানি, সে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, কথা আর বাড়ায়নি। একটু পরে আলগা পাতি মারা চা' টা দাড়িয়ে দাড়িয়েই শেষ করল আকাশ। তারপর একটা সিগারেট ধরিয়ে, 'গেলাম হাকীমচা' বলে হাটতে লাগল।

কোথায় যাবে সে, তা জানেনা। আনমনে হেটে চলেছে আকাশ। একটু দুরে একটা রিক্সাওয়ালা সিটের উপর পা তুলে বিড়ি খাচ্ছিল, তাকে দেখে বিড়িটা ফেলে দিয়ে নেমে দাড়াল। আজ আকাশের কোন তাড়া নেই। তাই রিক্সার বা অন্য কিছুর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি কিন্তু রিক্সাওয়ালার এহেন কাজে অনিচ্ছা সত্তেও কোন কিছু না বলে রিক্সায় উঠে বসল। রিক্সা চলতে লাগল। মেইন রোডে উঠার আগে রিক্সাওয়ালা একবার পিছন ফিরে তাকাল। আকাশও কিছু না বলে, হাত উচিয়ে ইশারা করল। রিক্সা আবার চলতে লাগল। আকাশ বসে আছে। হাতের সিগারেটটা শেষ। পুড়ে যাওয়া ফিল্টারটা এক নজর দেখে নিয়ে অবহেলায় ছুড়ে ফেলে হাত ঘড়িটা একবার দেখে নিল আকাশ। সাড়ে দশটার কাছাকাছি বাজে। এখন কোথায় যাবে আকাশ? কিছুই মনস্হির করতে পারছে না। প্যাকেটটা বের করে আরেকটা সিগারেট ধরাল। তারপর নিজের কাছে নিজেই প্রশ্নগুলো করল,
কি হতে যাচ্ছে আজ? সত্যিই কি আজ এ্যানগেজমেন্টটা হয়েই যাবে? জানে না আকাশ, কোন উত্তরই আজ আকাশের কাছে নেই তার পরিবর্তে শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস! বেরিয়ে আসল।

স্বাভাবিক ভাবেই তার আজ ভাল লাগার কথা ছিল কিন্তু ভাল মন্দ কোন কিছুই তার অনুভবে আসছে না। আস্তে আস্তে এখন অনেক অনুভু্তিই কেমন জানি ভোতা হয়ে গেছে। গত একটা বছর তার উপর কি ধকলটাই না গেল। বন্ধুদের অনেকেই এখন তাকে অন্য রকম একটা সমীহ করে। এটা মনে হতেই ঠোটের কোনায় এক চিলতে একটা হাসি ফুটে উঠল। নিজের পরিবর্তন নিয়ে নিজেই মাঝে মাঝে কনফিউজ হয়ে যায়। অবাক লাগে।

রিক্সা মিরপর সুইমিংপলের কাছাকাছি আসতেই গায়ে হাত দিয়ে রিক্সাওয়ালাকে থামতে বলল। ভাড়া মিটিয়ে গিয়ে এটিএম বোথে ঢুকল আকাশ। ক্রেডিট কার্ড দিয়ে টাকা তুলে বাহিরে এসে একটা সিগারেট ধরাল। তারপর সোহেলকে ফোন করল।
কিরে, সোহেল তুই কোথায়?
সোহেল উত্তর দিল, আমি বনানী। তুই কোথায়?
মিরপুর ১০ নাম্বার উত্তর দিয়ে ফিরতি প্রশ্ন করল আকাশ, কখন ফিরবি?
সোহেল আবার বলল, এই এখনই আসছি, তুই স্টেডিয়ামের ঐ জায়গায়টায় গিয়ে একটু অপেক্ষা কর, বেশী দেরী হবে না।
আচ্ছা, দেরী করিস না বলে ফোন রেখে দিয়ে হাটতে লাগল আকাশ। হাটতে হাটতে গিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকল। তাদের নির্ধারিত পছন্দের জায়গাটায় গিয়ে বসল। এখানে প্রায়ই বন্ধুবান্ধব সহ বিকেল বেলায় এসে তারা বসে।

বসে আছে আকাশ। কেমন অস্হির লাগছে তার। আবার একটা সিগারেট ধরাল। মুখটা কেমন যেন তেতো হয়ে আছে। ঘুম থেকে উঠার পর একাপ চা আর সিগারেট ছাড়া কিছুই খায়নি। আধা ঘন্টা হয়ে গেল সোহেলও আসছে না, ফোনও ধরছে না। অগ্যতা বিরক্তি নিয়েই বসে আছে আকাশ।

নীলার সাথে আকাশের দেখা করার কথা ছিল কিন্তু সে ইচ্ছে করে তা করেনি বা করতে চায়নি। তাকে কেউ বেশী জোরও করেনি। তবে নীলার একটা ফটো একনজর দেখেছিল। নীলার আব্বা আম্মা আকাশকে দেখে পছন্দ করেছেন। এখন আকাশের আব্বা আম্মার নীলাকে পছন্দ হলেই হল। আজ বিকালে সবাই মিলে যাচ্ছে। কথাবার্তা ঠিক থাকলে আকাশকে যেতে হতে পারে। প্রক্রিয়াটা একটু ভিন্নতর হবে তবে আকাশ হ্যা না কিছুই বলেনি। পছন্দ অপছন্দ, ইচ্ছা অনিচ্ছা এ নিয়ে এখন আর তেমন একটা ভাবতে চায়না আকাশ।

হর্ণের শব্দে রাস্তার দিকে ফিরে থাকাল আকাশ। সোহেল হাত তুলে ডাকছে। উঠে গিয়ে সোহেলের লাল রঙের বাইক এ চড়ে বসল।
সোহেল জিজ্ঞেস করল, কিরে কোথায় যাবি?
সামনের দিকে যেতে থাক, নির্লিপ্তভাবে উত্তর দিল আকাশ।
সোহেল মুচকি হেসে, বাইক চালাতে লাগল। কিছুক্ষন পর সোহেল আবার জিজ্ঞেস করল, কিরে ঘটনা কি বল!
ঘটনা আর কি, সবাই মিলে আজ নীলাদের বাসায় যাচ্ছে, ঠিকটাক থাকলে নাকি আমাকেও যেতে হতে পারে।
ত' সমস্যা কি? যাওয়ার হলে যাবি। শালা তোর কপাল বটে, না চাইতেই মাক্ষিমারা একটা প্রেম করলি। মানুষ প্রেমের জন্যে জুতার তলা ক্ষয় করে ফেলে কিন্তু পায় না। আর তোমার সেটা শেষ হতে না হতেই এখন আবার একেবারে রাজকন্যা। দে, তোর কপালটা আমার কপাল একটু ঘষে দে...........।
আকাশ কোন কথাই বলছেনা। একটা হাত বন্ধুর পিঠে রেখে ভাবলেশহীন ভাবে বসে আছে। লাল রঙের পানসার ছোটে চলছে অজানা গন্তব্যে....................

(চলবে......)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০১০ দুপুর ২:১৫
৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×